খুলশী থানাধীন ঝাউতলা বাজারের কসাইদের বিরুদ্ধে মৃত গরু জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। গত শুক্রবার (১৮নভেম্বর) রাতে এই অভিযোগ তুলে ঝাউতলা রেললাইন সংলগ্ন বসবাসরত এলাকাবাসী। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ জনতা উত্তেজিত হলে খুলশী থানা পুলিশ ও বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
এই সময় এলাকাবাসীর নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হন বাজার কমিটি ও পুলিশ প্রসাশন। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর প্রশ্নের উত্তরে বাজার সভাপতি শহিদুল ইসলাম মকবুল বলেন, এই ঘটনার বিষয়ে তিনি সঠিক জানেন না, তবে বাজারের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে যা করা প্রয়োজন তিনি তাই করবেন। এইসময় ঝাউতলা বাজার কমিটির বেশ কয়েকজন সদস্য ও খুলশী থানা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) রেজাউল করিম উপস্থিত ছিলেন।
একপর্যায়ে বাজার কমিটি সিদ্ধান্ত নেয় আপাতত এই গরুর মাংস বিক্রি করা যাবেনা। অভিযোগের তথ্য প্রমাণ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই গরুর মাংস ফ্রিজে থাকবে। পরবর্তীতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মাধ্যমে ল্যাব পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেয় বাজার কমিটি।
এদিকে বাজার কমিটির সহ-সভাপতি হাসান আল মিজান বলেন, এই গরু কে নিয়ে যখন নানা প্রশ্ন উঠেছে এ গরুর মাংস ঝাউতলা বাজারে বিক্রি করা যাবেনা। প্রমাণ হলেও এখানে বিক্রি করা হবেনা।
ঘটনার বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী সাগর নামের এক ব্যাক্তি বলেন, এইটা মরা গরু, তারা (কসাই) মরা গরু নিয়ে এসেছে, আমরা কেউ এই গরুকে জবাই করতে দেখি নাই। তারা (কসাই) অধিক লাভের আশায় আমাদের মাঝে মরা গরু বিক্রি করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। আর আপনারা দেখেন ওই গরুর শরীর থেকে কোনো রক্ত বের হয়নি। গরুটি কাটার পর চারপাশে প্রচন্ড দুর্গন্ধ ছড়িয়েছে। তাছাড়া প্রথমে কসাই এর লোকজন বলেছিলো এই গরুটি মারা গেছে সকালে ফেলে দিবে, কিন্তু ১০-১৫মিনিটের ব্যবধানে দেখতে পাই ঐ একই গরুকে বিক্রির উদ্দেশ্যে কাটা হচ্ছে। আমি প্রথমত বাধা দিলে শাহ আলম নামের এক কসাই আমাকে ৫হাজার টাকার প্রলোভন দেখায়, আমি রাজি না হলে পরবর্তীতে ১০হাজার টাকা পর্যন্ত দিবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেয়। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবী করছি। কেউ যদি এই ঘটনা ধামা-চাপা দিতে চায় আমরা এলাকাবাসী তাদের প্রতিহত করবো।

মিজান নামের আরেক ব্যাক্তি বলেন, তারা যদি অন্যায় না করে থাকে তাহলে টাকা কেন দিতে চাইবে। অতিতেও এদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আছে। আমরা সাধারন মানুষ ৮শ থেকে ১হাজার টাকার বিনিময়ে গরুর মাংস কিনে খাই, মরা গরুর মাংস কেনো খাব?
গরুর মাংস কালো হওয়ার বিষয়ে ঝাউতলা বাজারে কসাই এর কাজ করে সাজু নামের এক ব্যক্তি বলেন “এই গরুটা যদি সন্ধা ৬টায় জবাই হয়ে থাকে তবে আতুড়ি (নাড়িভুরি) নষ্ট হবে না, যদি আতুড়ি (নাড়িভুরি) নষ্ট হয়েও থাকে মাংস কখনো কালো হবে না। আমি এই বিষয়ে বাজারের বিপক্ষ, আমার কোনো কাষ্টমার যেনো এই মাংস না খায়”।
জামাল নামের আরোও এক ব্যক্তি বলেন এলাকার ছোট ভাইয়েরা বিষয়টি নজরে এনেছে, চারপাশে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পর সবাই ক্ষেপে যায়। আর আর্মিদের কাছ থেকে কেনা গরু যদি হয়ে থাকে- গরুটির ভিতরে নাড়িভুরি এতো কালো কেনো হলো, মাংস পর্যন্ত কালো হয়ে গেছে।এইটা যদি সুস্থ্য গরু হতো তবে আর্মিরা কেনো এইটাকে জবাই করে বিক্রি করে দিলো?, যেখানে জবাই হয়েছে সেখানে কেনো কাটাকাটি শেষ করলো না?? সর্বশেষ তিনি বলেন আমরা টাকা দিয়ে কেনো অসুস্থ্য গরু বা মরা গরু কিনে খাবো”।
এই বিষয়ে নিজেকে গরুর ক্রেতা দাবী করা চাঁন মিয়ার ব্যবসায়ীক পার্টনার রাজা মিয়া বলেন, আমরা গরুটি বড়দিঘীর পার আর্মি ক্যান্টেমেন্ট থেকে কিনেছি। আর্মি নিজের হাতে এটা জবাই করছে। ওই খানে আর্মি নিলামের মাধ্যমে গরুটি বিক্রি করেছেন। গরুটি কখন জবাই করা হয়েছে এমন প্রশ্নে জবাবে রাজা জানায়- সন্ধ্যা ছয়টার দিকে গরুটি জবাই করা হয়। আনতে আনতে প্রায় রাত নয়টা বেজেছে।
তিনি তখন গরু ক্রয়কৃত একটি রশিদ প্রদর্শন করেন। ক্রয়কৃত রশিদ চাঁন মিয়ার নাম লেখা আছে সেই চাঁন মিয়া কোথায় এমন প্রশ্নের জবাবে রাজা মিয়া বলেন, এলাকার ছেলেরা চাঁন মিয়াকে মারধর করেছে। সে এখন কোথায় আছে জানি না।
এই ঘটনায় বাজারে ভাবমূর্তিক্ষূন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ীরা। প্রকৃত ঘটনা উৎঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী করেন অনেকে।

