আদালত এলাকা থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি তদন্ত করছে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। তারা জানায়, জঙ্গি ছিনতাইয়ের নির্দেশনা দেন আনসার আল ইসলামের সামরিক শাখার নেতা চাকরিচ্যুত মেজর জিয়া।
অন্যদিকে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গির আগের অপরাধের ধরন, তাঁদের আত্মীয়স্বজন ও বিভিন্ন সময়ে চলাফেরা—সবকিছু পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছে র্যাব। আজ সোমবার রাজধানীতে র্যাবের সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। র্যাব বলছে, ছিনিয়ে নেওয়া দুই জঙ্গি মইনুল হাসান শামীম ওরফে সিফাত সামির ও মো. আবু ছিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিবকে ও তাঁদের সহযোগীদের ধরতে র্যাবের সব ইউনিট কাজ করছে।
ঘটনার পর থেকেই ঢাকা মহানগর ও ঢাকা জেলার আদালত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। আদালতের মূল ফটকে তালা মেরে কেবল পকেটে গেট খোলা রাখা হয়েছে। সকালে আদালত এলাকা পরিদর্শন করেন ডিএমপির ডিবির প্রধান মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ। এদিকে জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের প্রধান মেজর (বরখাস্ত) সৈয়দ জিয়াউল হকের পরিকল্পনায় ১৮ সহযোগী মিলে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নিয়েছেন বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে আদালতের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের একজন পরিদর্শকসহ পাঁচজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক ওরফে চাকরিচ্যুত মেজর জিয়া
নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনার মামলা তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট। এর আগে মামলাটির তদন্তভার ছিলো কোতোয়ালি থানায়। জঙ্গী সংগঠনটির বিরুদ্ধে সারাদেশে অভিযান চালাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনীগুলো। সীমান্তে নেয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। রাজধানীতেও বিভিন্ন এলাকায় বসেছে চেকপোস্ট। সিটিটিসি জানিয়েছে, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের চার আসামিকে ছিনিয়ে নিতে আদালত প্রাঙ্গণে আসে ১৮ সদস্যের একটি দল। তবে দুজনকে নিয়ে আদালত মিশন শেষ করে তারা। মূল পরিকল্পনা ছিলো সংগঠনটির সামরিক শাখার নেতা সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক ওরফে চাকরিচ্যুত মেজর জিয়ার।
ছিনিয়ে নেওয়া দুজন নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের (সাবেক আনসারুল্লাহ বাংলা টিম) সদস্য। তাঁরা জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন এবং লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। এই জঙ্গি সংগঠনের নেতা মেজর (বরখাস্ত) সৈয়দ জিয়াউল হক। যাঁর পরিকল্পনায় ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত একাধিক লেখক, প্রকাশক, ব্লগার ও সমকামী অধিকারকর্মীকে হত্যা করা হয়। গতকাল ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনাল থেকে আট জঙ্গিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যাচ্ছিলেন পুলিশ সদস্যরা।
তাঁরা যখন সিএমএম আদালতের প্রধান ফটকের সামনে আসেন, তখন হাতকড়া পরা দুই জঙ্গি তাঁদের নিরাপত্তায় থাকা পুলিশের এক সদস্যকে মারধর শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যে আশপাশে থাকা জঙ্গিদের সহযোগীরাও পুলিশের ওপর হামলায় যোগ দেন। পুলিশের ওই সদস্যকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন কয়েকজন পুলিশ সদস্য। তাঁদের ওপর হামলা এবং স্প্রে ছিটিয়ে সিএমএম আদালতের প্রধান ফটকের উল্টো দিকের গলি দিয়ে মোটরসাইকেলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেন সহযোগীরা।

