গঞ্জালো রামোসের হ্যাটট্রিকে ৬-১ গোলের ব্যবধানে সুইজারল্যান্ডকে হারালো পর্তুগাল। কাতার বিশ্বকাপে শেষ পর্বের খেলায় জ্বলে উঠেছে ফার্নান্দো সান্তোসের দল পর্তুগাল। চলতি বিশ্বকাপে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই নকআউট পর্বের টিকিট পেয়েছিল পর্তুগাল। তবে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে তারা শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে হেরেই গিয়েছিল। রোনালদোর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে নকআউট রাউন্ডে পর্তুগালের সামনে বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছিল। কিন্তু সেই কঠিন চ্যালেঞ্জকে দুর্দান্ত পারফরমেন্সে সহজ করে দিয়েছে তরুণ তুর্কি গঞ্জালো রামোসের হ্যাটট্রিক এবং পেপে, লেয়ো ও গুয়েরেরোর একটি করে গোল।
ফুটবল ম্যাচ ফ্যাক্টস লক্ষ করলে দেখা যায়-
১. এখন পর্যন্ত ২৫ বার মুখোমুখি হয়েছে পর্তুগাল ও সুইজারল্যান্ড। জয়ের সংখ্যায় এগিয়ে সুইসরাই, তাদের ১১ জয়ের বিপরীতে পর্তুগিজদের জয় নয়টিতে। পাঁচটি খেলা হয়েছে ড্র। নেশন্স লিগে তাদের সর্বশেষ দেখায়ও শেষ হাসি হেসেছিল শাকিরিরাই।
২. ২০০৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলা পর্তুগাল শেষ তিনটি বিশ্বকাপের একটিতেও পার করতে পারেনি শেষ ষোলো। ২০১৪ সালে তারা ছিটকে যায় গ্রুপ পর্ব থেকেই। ২০১০ ও ২০১৮ সালে এই শেষ ষোলোতেই থেমেছিল তাদের যাত্রা।
৩. চলতি বছরে দুই দলের তৃতীয় মোকাবিলা হতে চলেছে এটি। প্রথম দুটি লড়াইয়ে একবার করে জয় পেয়েছে পর্তুগাল ও সুইজারল্যান্ড।
৪. সুইসদের জালে একবার বল পাঠাতে পারলেই রোনালদো ছুঁয়ে ফেলবেন সাবেক পর্তুগিজ কিংবদন্তি ইউসেবিওকে। সাবেক এই তারকার নয় গোলই ফুটবলের মহাযজ্ঞে কোনো সেলেসাও দাস কুইনাস খেলোয়াড়ের করা সর্বোচ্চ গোল।
৫. শেষ চার বিশ্বকাপের তিনটিতেই শেষ ষোলোতে খেলেছে সুইজারল্যান্ড। তবে ১৯৫৪ সালের পর আর কখনোই কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার গৌরব অর্জন করতে পারেনি দলটি।
৬. রোনালদোদের বিপক্ষে গোল করলেই বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতা বনে যাবেন শাকিরি।
কাতার বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে তরুণ তুর্কি গঞ্জালো রামোসের হ্যাটট্রিক এবং পেপে, লেয়ো ও গুয়েরেরোর একটি করে গোলে ৬-১ গোলের জয় পেয়েছে ২০১৬ ইউরো চ্যাম্পিয়নরা। এই জয়ে সুইসদের বিধ্বস্ত করে কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে চলে গেল ব্রুনো ফার্নান্দেজ-রোনালদোরা।
মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) দোহার লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর ম্যাচে শুরুর একাদশে রোনালদোকে দলে রাখেননি পর্তুগিজ কোচ সান্তোস। তার পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পান গঞ্জালো রামোস। এদিন তাকে একাদশে রাখা নিয়ে আলোচনাও হচ্ছিল বেশ। তবে মাঠে নেমে সব আলোচনায় সব ঘি যেন ঢেলে দিলেন বেনফিকার এই স্ট্রাইকার। ম্যাচের ১৭ মিনিটে তার গোলেই প্রথম লিড পায় পর্তুগাল। বাম পাশ থেকে হোয়াও ফেলিক্সের পাস থেকে বুলেট গতিতে শট নেন রামোস। যার সুবাদে সুইস গোলরক্ষকের মাথার উপর দিয়ে কোনাকুনি শট মুহূর্তেই জালের দেখা পেয়ে যায়। এতে গোটা দলের মধ্যে আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়।
ওদিকে শুরুতেই গোল খেয়ে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে সুইসরা। কিন্তু পর্তুগিজদের দারুণ রক্ষণভাগের কারণে সুযোগ তৈরি করে পেরে ওঠেনি। উল্টো ম্যাচের ৩৩ মিনিটে আবারও লিড পায় পর্তুগাল। ব্রুনো ফার্নান্দেজের নেওয়া কর্নার কিকে দারুণ এক হেড করে গোল করেন ৩৯ বছর বয়সী অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার পেপে। এই গোলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক ফুটবলার হিসেবে নকআউটে গোল করার রেকর্ড করলেন পেপে। এরপর সুইজারল্যান্ড কয়েকবার চেষ্টা করেও পর্তুগিজদের রক্ষণের তেমন পরীক্ষা নিতে না পারায় ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় পর্তুগাল।
বিরতি থেকে ফিরে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে রোনালদোবিহীন পর্তগাল। যার সুবাদে বিরতির সাত মিনিট পরেই নিজের দ্বিতীয় গোল করেন রামোস। দিয়েগো দালোতের বাড়ানো ক্রসে দারুণ ফিনিশিংয়ের মাধ্যমে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন এই তরুণ। এতে পর্তুগালও ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের পথে এগিয়ে যায়।
৫৯ মিনিটে ম্যানুয়েল আকাঞ্জি একটি গোল করে সুইসদের হয়ে একটি গোল পরিশোধ করেন। কিন্তু সুইসদের এই গোলের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি গঞ্জালো রামোস। ৬৭তম মিনিটে পর্তুগালের হয়ে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করেন ২১ বছর বয়সী এই তারকা। এই হ্যাটট্রিকে পেলের পর সবচেয়ে কমবয়সী ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউটে হ্যাটট্রিকের রেকর্ড করেন এই তরুণ। যা আবার মরুর বুকে বিশ্বকাপের প্রথম হ্যাটট্রিক।
এরপর ম্যাচের ৭৩ মিনিটে রামোসকে তুলে নিয়ে রোনালদোকে মাঠে নামান কোচ। মাঠে নেমে ৮৫তম মিনিটে একটি গোলও করে বসেছিলেন তিনি। তবে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি। ম্যাচের একদম অন্তিম মুহূর্তে এসি মিলান তারকা
রাফায়েল লেয়ো আরো একটি গোল করলে ৬-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায় পর্তুগাল।

