ঢাকাশনিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রেলক্রসিং-এ অনিয়মের অভিযোগে গেইটম্যান বরখাস্ত, স্টেশন মাষ্টারকে বিভাগীয় শাস্তি

মোঃ রুবেল
ডিসেম্বর ২২, ২০২২ ১০:৪৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দেশের বিভিন্ন রেলক্রসিংয়ে ২০২০ সাল থেকে ২০২২ সালের ২৮ জুলাই পর্যন্ত ১১৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ২১৯ জন নিহত হয়েছেন। সেভ দ্য রোড এক প্রতিবেদনে রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির এ তথ্য জানিয়েছে। তথ্যমতে দেশের ২৯৫৯ কিলোমিটার রেলপথে ২৮৫৬টি রেলক্রসিং আছে। এর মধ্যে ১৪৯৫টি বৈধ এবং ১৩৬১টি অবৈধ। ৯৬১টি রেলক্রসিংয়ে কোনো গেইটম্যান নেই। দেশে ৮২% রেলক্রসিংই অনিরাপদ।

সেভ দ্য রোড জানায়, রেলে ২০২০ সালে দুর্ঘটনা ঘটে ৩৮টি। নিহত হয়েছেন ৬৯ জন। ২০২১ সালে রেলপথে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪৩টি। নিহত হয়েছেন ৭৬ জন। ২০২২ সালের (২৮ জুলাই পর্যন্ত) রেলে দুর্ঘটনা ঘটে ৩৫টি। নিহত হয়েছেন ৭৪ জন। প্রতিবেদনটি প্রকাশের ১দিন পর
২৯জুলাই মিরসরাইয়ের রেলক্রসিংয়ে খৈয়াছড়া এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় পর্যটকবাহী মাইক্রোবাসের ১১ যাত্রী নিহত হন। আহত হয় আরও সাতজন। এই ঘটনার পর থেকে রেল প্রশাসন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা রোধ করতে।

শত নিয়ম যেখানে, সেখানে যেনো অনিয়মের নতুন দুয়ার খুলে বসে অসাধু ব্যক্তিরা। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হলো ষোলশহর ২নং গেইট এলাকা, ব্যস্ততম সড়কের পাশাপাশি রেলক্রসিং থাকায় প্রতিনিয়ত বাড়তি ঝুঁকি থাকে পথচারীরা। রেলক্রসিং এ ট্রেন চলাচলের সময় ছোট্ট একটি ভুল বয়ে আনতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা। দূর্ঘটনা রোধ করতে গেইটম্যানদের দায়িত্ব অপরিসীম। কিন্তু এই গেইটম্যানদের দায়িত্ব পালনে উদাসীন ষোলশহর ২নং গেইটের দায়িত্বে থাকা মোঃ বাবুল, মোঃ সালাউদ্দিন, আজাদ ও শিল্পী নামের গেইটম্যানগন।

অভিযোগ রয়েছে মোঃ বাবুল আর্থিক লেনদেন এর মাধ্যমে নিজে কাজ না করে দেলোয়ার নামের এক ব্যক্তিকে দিয়ে গেইটম্যানের কাজ করান। দেলোয়ার মাঝে মধ্যে গেইটম্যান আজাদ এর হয়েও কাজ করেন। সরেজমিনে দেখা যায় দেলোয়ার নামের এক ব্যক্তি লুঙ্গি ও গেঞ্জি পড়ে হাতে সবুজ সিগন্যাল পতাকা নিয়ে গেইটম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। গেইটম্যান হিসেবে তখন মোঃ বাবুল এর থাকার কথা ছিলো। গেইটম্যান বাবুল কোথায় দেলোয়ার এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান “বাবুল অসুস্থ্য, তার পরিবর্তে আমি কাজ করছি। কিন্তু তিনি কি হিসেবে কাজ করছেন, কে এই দায়িত্ব দিলো, কতদিন ধরে বা এই কাজ করছেন তার সঠিক কোনো উত্তর দিতে পারেনি দেলোয়ার “।

দেলোয়ার ছাড়া গেইটম্যান বাবুল, সালাউদ্দিন ও শিল্পীর হয়ে কাজ করেন শফি নামের এক লোক। সত্যতা জানতে শফির সাথে কথা বলে জানা যায় মাসে ৬হাজার টাকার বিনিময়ে ৩ ব্যক্তির হয়ে কাজ করেন শফি।

এই বিষয়ে ষোলশহর স্টেশন মাষ্টার ফখরুল এর সাথে দেখা করতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি, পরবর্তীতে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “বাবুল অসুস্থ্য থাকায় বাবুল এর পরিবর্তে সাময়িকভাবে দেলোয়ার কাজ করছেন, দেলোয়ার আগে রেলে কাজ করেছে, বাবুল অসুস্থ থাকায় ২-১দিন কাজ করছে। একজনের পরিবর্তে এইভাবে অন্যকেউ কাজ করতে পারে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ফখরুল আলম বলেন “বিষয়টি আইন সম্মত না, কিন্তু ২দিনের কথা আমাকে বলেছে, তাই আমি ওরকম কিছু বলিনি, এখন আমি বলেছি আর করতে পারবে না! রেগুলার লোক ছাড়া কাজ করানো আইন সম্মত না” ।

এই বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল চট্টগ্রামের বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মোঃ আবিদুর রহমান এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান “একজনের পরিবর্তে চাইলে যে কেউ কাজ করতে পারবে না। নিশ্চিত থাকেন যদি ঘটনা সত্য হয় তবে অব্যশই ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

পরবর্তীতে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল চট্টগ্রামের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) তারেক মোহাম্মদ ইমরান এর হোয়াটস্ অ্যাপ থেকে প্রতিবেদককে মেসেজ এর মাধ্যমে জানানো হয়ে “ধন্যবাদ। আপনার অনুসন্ধানের জন্য। আপনার তথ্যের ভিত্তিতে তড়িৎ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হয়েছে। এই অনিয়মের জন্য অস্থায়ী গেইটকিপার মোঃ বাবুল কে চাকুরী হতে বরখাস্ত করা হয়েছে। স্টেশন মাস্টার ফখরুল কে বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে”।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।