করোনা বিধিনিষেধের দু বছর পর চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে রেলওয়ের ৪২তম বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। রেলওয়ে ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের আয়োজনে দুই দিনব্যাপি এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করে রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। বুধবার (১৮ জানুয়ারি) বেলা ১১ টায় নগরের রেলওয়ে পলোপ্রাউন্ড মাঠে এ প্রতিযোগিতা শুরু হয়। সারাদেশের রেলকর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত ৮টি দল এতে অংশ নিয়েছেন।
এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের সেবার মান বেড়েছে। দেড় দশক আগেও রেলওয়ের কার্যক্রমকে সংকুচিত করে, রেলকে ধ্বংসের অপচেষ্টা করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর রেলওয়েতে বিনিয়োগ করে গণমানুষের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ বাহনে পরিণত করেছে। রেলের চলমান প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে যাত্রীরা উন্নত বিশ্বের মতোই সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। চলতি বছরের শেষের দিকে দোহাজারী -কক্সবাজার-গুনদুম পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প উদ্বোধন করা হবে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার পর্যন্ত ভ্রমণ করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। রেলমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের ক্রীড়া ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রেলওয়ের সুনাম দীর্ঘ দিনের। রেলকর্মীরা যাত্রী সেবার পাশাপাশি ক্রীড়া নৈপূণ্য প্রদর্শনের মাধ্যমে সুস্থ জাতি গঠনের প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। আগামী বছরে এই প্রতিযোগিতার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন মন্ত্রী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ রেলওয়ে ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের প্রধান পৃষ্ঠপোষক মো. কামরুল আহসান, বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ও বাংলাদেশ রেলওয়ে ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী ও বাংলাদেশ রেলওয়ের ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মিঞা।
এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার, পূর্বাঞ্চলের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী মো. বোরহান উদ্দিন, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অর্থ) কামরুন নাহার, পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম, প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী মো. কুদরত-ই-খুদা, পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ট্র্যাক) মো. আরমান হোসেন, ডিআরএম/চট্টগ্রাম মো. আবিদুর রহমান, ডিআরএম/পাকশী শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ,ডিআরএম/ঢাকা জনাব মোঃ সফিকুর রহমান, ডিআরএম/লালমনিরহাট জনাব মোঃ আব্দুস সালাম ,ডিএসডব্লিউ/সৈয়দপুর জনাব মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান , পূর্বাঞ্চলের প্রধান বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী অজয় কুমার পোদ্দার, অতিরিক্ত প্রধান বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী মোঃ হাবিবুর রহমান, মহাব্যবস্থাপক ও প্রকল্প পরিচালক (দোহাজারী-কক্সবাজার-গুনদুম ডুয়েলগেজ

সিঙ্গেল লাইন নির্মাণ প্রকল্প) মো. মফিজুর রহমান, সরকারি রেল পরিদর্শক রুহুল কাদের আজাদ, যুগ্মমহাপরিচালক (যান্ত্রিক) ফকির মো. মহিউদ্দিন, পূর্বাঞ্চলের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক ফরিদ আহমেদ, পূর্বাঞ্চলের প্রধান সংস্থাপন কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত সিওপিএস মো. জাকির হোসেন, অতিরিক্ত প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা জোবেদা আক্তার, ডেপুটি সিসিএম তোষিয়া আহমেদ, ডিএসটিই/চট্টগ্রাম জাহেদ আরেফিন পাটোয়ারী তন্ময়, বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী চট্টগ্রাম শাকের আহামেদ,ডিইএন-২/চট্টগ্রাম মোঃ রফিকুল ইসলাম , ডেপুটি সিসিএম-আর /পূর্ব জনাবা তৌশিয়া আহমেদ ,ডিএসটিই/টেলিকম চৈতি মুহুরি ,ডিটিও/চট্টগ্রাম জনাব তারেক মুহাম্মদ ইমরান সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গন উপস্থিত ছিলেন। অন্যানদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ে শ্রমিকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোঃ হুমায়ুন কবির, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম, রেলওয়ে কারিগর পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির জেনারেল সেক্রেটারি এস কে বারী (খোকন), রেলওয়ে জাতীয় শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সেক্রেটারি এম আর মন্জু সহ প্রমুখ রেলওয়ের শীর্ষস্থানীয় ট্রেড ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ গন উপস্থিত ছিলেন।
দুই দিন ব্যাপি ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় মোট ৮টি দলের ক্রীড়াবিদরা ভিন্ন ভিন্ন ইভেন্টে অংশ নিয়েছেন। দলগুলো হচ্ছে, লালমনির হাট দল (হলুদ দল), সদর দপ্তর/পশ্চিম দল (সাদা রঙ), পাহাড়তলী দল (লাল রঙ), চট্টগ্রাম দল (ডিপ গ্রীণ), পাকশী দল (গোলাপী রঙ), সৈয়দপুর দল (হালকা নীল রঙ), সদর দপ্তর/পূর্ব (রক্তবর্ণ লাল রঙ) এবং ঢাকা দল (বেগুনী রঙ)। আয়োজনের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) রেলপথ মন্ত্রালয়ের সচিব ড. মো. হুমায়ুন কবির প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করবেন।

