ঢাকামঙ্গলবার, ১০ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

টিকিট থাকার পরও টাকা দাবি, না দেয়ায় যাত্রীর গলা চেপে ধরার অভিযোগ

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি
ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৩ ৯:১৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মহানগর গোধূলী ট্রেনে এক যাত্রীকে গলা টিপে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এসি অপারেটর (খালাসী) মো. রোজেল আহমেদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. কাইয়ুম নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষক উক্ত ট্রেনের কর্তব্যরত ট্রেন পরিচালক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফেনী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে৷

জানা যায়, ভুক্তভোগী মো. কাইয়ুম লাকসাম উপজেলায় একটি ফাজিল মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে থেকে একটি আসনবিহীন টিকিট নিয়ে ঢাকাগামী মহানগর গোধূলি(৭০৩আপ) ট্রেনে উঠেন। তিনি পাওয়ারকার সংলগ্ন মসজিদে আসরের নামাজ আদায় শেষে মসজিদের পাশে থাকা একটি খালী বক্স সিটে বসেন।

বক্স সিটে বসা অবস্থায় তাঁকে দেখে এসি অপারেটর মো. রোজেল আহমেদ, ভুক্তভোগী মো. কাইয়ুম কে জিগ্গেস করেন,টিকিট আছে কি না? প্রত্যুত্তরে ওই যাত্রী জানান, ট্রেনে সিট না পেয়ে স্ট্যান্ডিং টিকিট নিয়েছি।অপারেটর মো.রোজেল আহমেদ বলেন, স্ট্যান্ডিং টিকিট নিয়ে আমার বাক্সতে বসলেন কেন? আমার বাক্সে বসলে ২শত টাকা দেওয়া লাগব। প্রত্যুত্তরে ওই যাত্রী রোজেল কে বলেন ,আমিতো টিকিট নিয়েছি,আপনাকে কেন আবার টাকা দিব! রোজেল বলে, আমার এই বাক্সে বসতে হলে টাকা দেওয়া লাগবে, আপনি দিতে না পারলে অন্য কম্পার্টমেন্টে চলে যান।

বার বার টাকা দাবি করলে এক পর্যায় তাদের মধ্যে বাদানুবাদ শুরু হয়। রোজেল অকথ্য ভাষায় যাত্রীকে গালিগালাজ শুরু করেন। ভুক্তভোগী গালিগালাজ বন্ধ করতে বললে তিনি আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। আমি রোজেল কে বলি, ‘সবার মতো টিকেট কিনে ট্রেনে উঠেছি। আর আমি কোথায় যাবো?’ এ কথা শুনে রোজেল আমাকে বলে, ‘হুজুর-টুজুর মানুষ” বেশি কথা বলবেন না। এ কথা বলে আমাকে ধাক্কা দেয়। পরে আমি ধাক্কা কেন দিল জানতে চাইলে তিনি আমার পাঞ্জাবির কলার ধরে গলা টিপে ট্রেনের দেয়ালের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে দেয়।

বলে, ‘এক্কেয়ারে মাইরালামু’ (একেবারে মেরে ফেলবো)। এভাবে করে দুই বার দেয়ালের সাথে দুই দুইবার ধাক্কা দেয় এই ব্যক্তি।

ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। এরপরে ভুক্তভোগী ট্রেন থেকে নেমে লাকসাম রেলওয়ে জংশন স্টেশন মাস্টার শাহাবুদ্দিনের কাছে মৌখিক অভিযোগ করেন। একইসঙ্গে ট্রেনে থাকাকালীন তিনি কর্তব্যরত ট্রেন পরিচালক বরাবরও লিখিত অভিযোগ করেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোজেল আহমেদ বিনা টিকিটে যাত্রী তোলে তার বাক্সে বসাতে গিয়ে ঐ যাত্রীর সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িযে পড়ে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রোজেল আহমেদ প্রায়সময় প্রতিটি ট্রেনের যাত্রী অথবা কর্তব্যরত ট্রেনের এটেনডেন্টদের সঙ্গে বাজে ব্যবহার ও মারধর করেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষক বলেন, আমি গত পনের বছর ধরে রেলে যাতায়ত করি। আমার ধর্মীয় বেশভুষা দেখে লোকেরা সম্মান করেন। জীবনে এত অপমান সইতে হবে তা কল্পনা করিনি। স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়েও এ ধরণের জুলুমের শিকার হতে হবে তা মেনে নেওয়া যায় না।

রোজেল যে অন‍্যায় ও অপরাধ আমার সঙ্গে করেছে তার কোন ক্ষমা নেই। এইরকম ঘটনা ভবিষ্যতে আমার মতো আর কোন যাত্রীর সঙ্গে যাতে করতে না পারে তার শাস্তি স্বরুপ যথাযথ কর্তৃপক্ষ ব‍্যবস্থা নিবেন বলে আশাকরি ।

যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত রোজেল আহমেদ বলেন, আমার সাথে উনার সামান্য কথা কাটাকাটি হয়েছে। এটি তেমন কোনো সমস্যা নয়। আমি কোনো ধরণের মারধর করিনি। তিনি অভিযোগ ভারী করার জন্য বাড়িয়ে বলছেন।

এ বিষয়ে রেলওয়ের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা ইতি ধর বলেন, অবৈধ উপায়ে যাত্রার পরিমাণ কমানোর জন্য করা হয়েছে এই স্ট্যান্ডিং টিকেট ব্যবস্থা। যাত্রীর গায়ে হাত তোলার বিষয়টি খুব দুঃখজনক। এ ব্যাপারে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।