ঢাকামঙ্গলবার, ১০ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রোজার আগে অস্থির চালের বাজার

NewsDay 24
ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৩ ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ডেস্ক রিপোর্ট :
রমজানের বাকি মাসখানেক। ভোগ্যপণ্যের আমদানি ও সরবরাহ ভালো থাকলেও অসাধু ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে ছোলা, ভোজ্যতেল, মটর, ডাল, পেঁয়াজ, চিনি, মসলাসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতায়। তাতে পিছিয়ে নেই চালের বাজারও। জিটুজি এর আওতায় সরকার চাল আমদানি করছে। চলছে চালের ভরা মৌসুমও। তবুও এক মাসের ব্যবধানে পাইজাম ও নাজিরশাইলের বস্তায় (৫০ কেজি) দাম বেড়েছে ৩শ টাকা। পাশাপাশি মোটা সিদ্ধ চাল, সিদ্ধ মিনিকেট, গুটি স্বর্ণা, পারি সিদ্ধসহ বিভিন্ন চালের বস্তায় দাম বেড়েছে ১শ থেকে ১৫০ টাকা। গত বছর থেকেই চালের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে মিল মালিকরা চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। প্যাকেটজাত চাল বিক্রি করার উদ্দেশে মিলারদের কাছ থেকে চাল কিনে মজুদ করছে তারা। ফলে সরবরাহ থাকলেও চালের বাজার নিয়ন্ত্রণহীন। এর প্রভাবে চালের বস্তায় ১শ থেকে ৩শ পর্যন্ত টাকা বেড়েছে। তবে রোজায় চালের দাম আর বাড়বে না বলে আশা পাইকারদের।
বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে নগরের খাতুনগঞ্জ ও পাহাড়তলী পাইকারি চালের বাজারে ঘুরে দেখা যায়, মাসের ব্যবধানে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে পাইজাম ও নাজিরশাইল চালের দাম। বস্তাপ্রতি ৩শ টাকা বেড়ে পাইজাম ২ হাজার ৬শ ও নাজিরশাইল ৩ হাজার ৮শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি কেজিপ্রতি ১শ থকে ১৫০ টাকা বেড়ে জিরাশাইল ৩৫০০ টাকা, কাটারি (সিদ্ধ) ২৫ কেজি ১ হাজার ৯শ টাকা, মিনিকেট সিদ্ধ ২ হাজার ৬৫০ থেকে ২ হাজার ৭শ টাকা, মিনিকেট আতপ ৩ হাজার টাকা, কাটারি আতপ ৩ হাজার ৮শ টাকা, পাইজাম আতপ ২ হাজার ৬শ টাকা, মোটা চাল ২ হাজার ২শ টাকা, গুটি স্বর্ণা ২ হাজার ৩৫০ থেকে ২ হাজার ৪শ টাকা, পারি সিদ্ধ ২ হাজার ৬৫০ টাকা, নাজিরশাইল ৩ হাজার ৮শ টাকা ও চিনিগুঁড়া মানভেদে ৬ হাজার থেকে ৬ হাজার ৭শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পাহাড়তলী বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এসএম নিজাম উদ্দিন বলেন, চালের দাম যা বাড়ার বেড়ে গেছে। আশা করছি আসন্ন রোজায় চালের দাম আর বাড়বে না। কারণ সরকার ছয়টা কোম্পানিকে চাল আমদানি করার অনুমতি দিয়েছে। সে চালগুলো আসলে চালের বাজার দর আরো নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে আসবে। বর্তমানেও চালের সরবরাহ ভালো আছে। তবে চালের দাম বেশি হওয়ায় আমাদের বেচাবিক্রিও কমে গেছে।
তিনি আরো বলেন, এখন বড় বড় শিল্পগ্রুপগুলো চালের বাজার দখল করে ফেলেছে। তাদের তো নিজস্ব মিল নাই। তাই তারা বড় বড় মিলগুলোর সাথে কন্ট্রাক্ট করে চাল মজুদ করে ফেলছে। এ কারণে চালের দাম আগের মত ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নেই। তবে এখন বাজারে যা চাল আছে তা দিয়ে বাজার চাহিদা মেটাতে পারবো।
জানা গেছে, চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আরও আটটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ২৩ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানির জন্য অনুমতি দিতে চিঠি দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে সেদ্ধ চাল ১৪ হাজার টন ও আতপ চাল নয় হাজার টন। আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে চাল আমদানি করে দেশের বাজারে বাজারজাত করার নির্দেশনা দেয় সরকার।
এদিকে খুচরা বাজারে প্রতিকেজি পাইজাম ৬০ টাকা, নাজিরশাইল ৭৮ টাকা, জিরাশাইল ৭২ টাকা, কাটারি (সিদ্ধ) ৭৮ টাকা, মিনিকেট সিদ্ধ ৫৮ টাকা, মিনিকেট আতপ ৬২ টাকা, পাইজাম আতপ ৫৫ টাকা, গুটি স্বর্ণা ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, পারি সিদ্ধ ৫৫ টাকা, নাজিরশাইল ৭৮ টাকা ও চিনিগুঁড়া মানভেদে ১২০ থেকে ১৩৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভাইস-প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, রোজা আসলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ব্যবসায়ীরা ভোগ্যপণ্যের দাম কমিয়ে জনগণের পাশে থাকবে সে চিন্তা করে। আর আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা সারাবছরের লাভ রোজার মাসে করতে চায়। আর এতে করে বিপাকে পড়েন সাধারণ মানুষ। রোজার মাসে ছোলা, ভোজ্যতেল, মটর, ডাল, পেঁয়াজ, চিনি, মসলা সবকিছুই মানুষের প্রয়োজন হয়। অথচ এ পণ্যগুলো এখন থেকেই ক্রেতার নাগালের বাইরে। সাধারণ মানুষ দুমুঠো ভাত খেয়ে বেঁচে থাকতে চায়। সেটাও ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে গেছে। চালসহ অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের দাম কেন বাড়েছে, সমস্যা কোথায় সেটা খুঁজে বের করতে হবে। পাশাপাশি প্রশাসন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলকে আরও বেশি কঠোর হতে হবে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক মো. আনিছুজ্জামান বলেন, রমজানে ভোগ্যপণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখতে আমরা এখন থেকেই অভিযান পরিচালনা করছি। তবে আমাদের লোকবল কম। কম সংখ্যক জনবল দিয়ে গোটা শহর তদারকি করা মুশকিল। আমাদের চেষ্টার কোন কমতি নেই। আমরা অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নিচ্ছি।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।