ঢাকাশুক্রবার, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৩৯বছর চাকুরী শেষে আজ বিদায় নিলো ‘আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেনের এসি অপারেটর ”জয়নাল”

নিজস্ব প্রতিবেদন
মার্চ ৯, ২০২৩ ৩:২৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

তিন অক্ষরের ছোট্ট একটি শব্দ-বিদায় কিন্তু শব্দটির আপাদমস্তক বিষাদে ভরা। শব্দটা কানে আসতেই মনটা কেন যেন বিষণ্ণ হয়ে ওঠে।
এমন কেন হয়? কারণ এই যে,বিদায় হচ্ছে বিচ্ছেদ। আর প্রত্যেক বিচ্ছেদের মাঝেই নিহিত থাকে নীল কষ্ট। বিদায় জীবনে শুধু একবারই নয়, এক জীবনে মানুষকে সম্মুখীন হতে হয় একাধিক বিদায়ের। সে-ই যে জন্ম লগ্ন থেকে বিদায়ের সূচনা, তারপর জীবন পথের বাঁকে বাঁকে আরো কত বিদায় যে অনিবার্য হয়ে আসে…।

কর্ম জীবন থেকে বিদায় নেয়ার বিষয়টিও এমনি এক নিবিড় বন্ধন ছিন্ন হওয়া, যা খুব সহজে ভোলা যায় না। তবে এ বিদায়ের বেলায় কষ্টের মাঝেও এক রকম আনন্দ থাকতে পারে যদি সান্তনার সংকট না থাকে। এরেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চের বিভাগীয় বৈদ‍্যুতিক প্রকৌশলী, চট্টগ্রাম ট্রেনলাইটিং এ কর্মরত মোঃ জয়নাল আবেদীন, আরএম গ্রেড-২ আজ ০৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার)২৩ ইং চাকরি জীবনের শেষ কর্ম দিন অতিবাহিত করলো। তিনি চট্টগ্রাম-ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেনের এসি অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করতো।

বাংলাদেশ রেলওয়েতে ২৮ মার্চ ১৯৮৪ইং সনে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের বিদ‍্যুৎ বিভাগে চাকুরীতে যোগদান করেন। মোঃ জয়নাল আবেদীন এর গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার শাহারাস্তী থানাধীন ,শাহাপুর গ্রামের মৃত আলী আশরাফের বড় ছেলে। জয়নাল আবেদীনের ৩ ছেলে ১ মেয়ে। রেলওয়েতে কোন সন্তানের চাকরি হয়নি।

শেষ কর্ম দিন উপলক্ষে বিদায় জানাতে লাকসাম ট্রেন লাইটিং এর দায়িত্বরত এসআর/এলই জাকির আহমেদ লাকসাম ট্রেনলাইটিং, এর সম্পূর্ণ নিজস্ব একক প্রচেষ্টায় বিদায়ী সম্মাননা ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এই সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম হেডকোয়ার্টারে কর্মরত ট্রেন পরিচালক ওমর ফারুক রাসেল, চট্টগ্রাম ট্রেনলাইটিং দপ্তরে কর্মরত ইলেকট্রিক ফিটার আব্দুর রহিম সহ প্রমুখ।

এসআর/এলই জাকির আহমেদ জানান, বতর্মানে বিদ‍্যুৎ বিভাগ হতে অবসরে যারা যাচ্ছেন তারা আমার মুরুব্বি ও গুরুজন। তাদের কাছ থেকে আমাদের এখনো অনেক কিছুই দেখার ও শিখার আছে তবে দুনিয়ার প্রকৃত নিয়ম অনুসারে সব কিছুর যেমন শুরু আছে তেমনি শেষ আছে। দীর্ঘ কর্মজীবনের ব‍্যাস্ততার আজ তাকে ইতি টানতে হচ্ছে, এইভাবে একদিন সবাই কে বিদায় নিতে হবে। আমি ব‍্যক্তিগত ভাবে মনে করি গুরুজনরা ছিল বিধায় আমরা তাদের কাছ থেকে কিছু কাজ জানতে ও শিখতে পেরেছি- আমরা তাদের কাছে ঋনী। এই ঋন পরিশোধ করার মতো সাধ‍্য আপনার /আমার কারো নেই।

তিনি আরও বলেন “একজন কর্মচারী দীর্ঘ ৩৯ বছর তার মেধা, শ্রম ও পরিবারের সময় দেওয়াকে ত‍্যাগ করে তার চাকরি’কে ভালোবেসে নিজের সন্তানের মতো আগলিয়ে দীর্ঘ এই সময় সমাপ্তি করে। অথচ যাদের দ্বারা রেল এগিয়ে যায় তারা চাকুরী সমাপ্ত করার পর বিদায়ের বেলা প্রশাসন হতে কিছুই পায়না। তাই আমি একজন সহকর্মী হয়ে আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।

সামান্যতম উপহার আমি দিতে পেরেছি বলে মহান রাব্বুল আলামিনের নিকট আমি শুকরিয়া কামনা করছি। পাশাপাশি মুরুব্বি ও গুরুজনদের কাছ থেকে আমি দোয়া কামনা করি। আমি মনে প্রানে বিশ্বাস করি কাউকে সম্মান দিলে মহান রাব্বুল আলামিন আপনাকেও একদিন সম্মানিত করবে ইনশাআল্লাহ । আমার এই সামান্যতম উপহার অব‍্যাহত থাকবে। অবসর জীবন তার সুন্দর ও সুস্থতাভাবে কাটুক মহান রাব্বুল আলামিন এর নিকট দোয়া কামনা করেন।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।