ঢাকাবুধবার, ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এবার সোনালী মুরগির দাম ঊর্ধ্বমুখী, সবজি ও মাছে নেই স্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদন
মার্চ ৩১, ২০২৩ ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দীর্ঘ দুইমাসের বেশি সময় ধরে অস্থির ছিল চট্টগ্রামের মুরগির বাজার। গত চারদিন ধরে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে ব্রয়লার মুরগির বাজারে। কেজিতে কমেছে অন্তত ৬০ থেকে ৭০ টাকা। মুরগির এই দরপতনেও হাসি ফোটনি ক্রেতার মুখে। কারণ একেক বাজারে একেক দরে বিক্রি হচ্ছ ব্রয়লার মুরগি। এদিকে নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে লেয়ার ও সোনালী মুরগির দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে দুই জাতের মুরগির কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ থেকে ৩০ টাকা।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (৩১ মার্চ) নগরের কাজীর দেউড়ি, খুলশী ও ঝাউতলা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। গত ২৩ মার্চ খামার পর্যায়ে ব্রয়লার মুরগির দাম প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এরপর থেকে চট্টগ্রামে কমে আসতে শুরু করে মুরগির দাম। তবে একেক জায়গায় একেক দরে বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি। নগরের হালিশহর এলাকায় প্রতিকেজি মুরগি ২শ, ঝাউতলা বাজারে ২১০ ও খুলশীতে ২২০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে ভোক্তা অধিকার বা জেলা প্রশাসনের অভিযান শেষে আবারো বাড়তি দরে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করা শুরু করেন বিক্রেতারা। পাশাপাশি সরিয়ে ফেলেন পণ্যের মূল্য তালিকাও। এদিকে সপ্তাহখানেক আগে ৩৩০ টাকায় বিক্রি হওয়া সোনালী মুরগি আজ ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাাপাশি কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে লাল লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩১০ টাকায়।

ঝাউতলা বাজারে মুরগি বিক্রেতা মো.ইলিয়াছ বলেন, খামারিরা একেক সময় একেক দামে মুরগি বেচে। আমাগো কি করার আছে? আইজকা প্রতিকেজি ব্রয়লার ১৯০ টাকায় কিনে ২শ টাকায় বেচতাছি। আর লেয়ার ২৯০ টাকা কিনা পড়ছে। আমরা যে দামে কিনে আনি, কিছুটা লাভ রাইখা মুরগি বেচি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর বলেন, ‘আমরা চট্টগ্রামের বড় বড় কাঁচাবাজারের পাশাপাশি খুচরা দোকানগুলোতে প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করছি। আমরা ক্রয়-বিক্রয় রশিদ যাচাই করছি। কাজীর দেউড়িসহ বিভিন্ন বাজারে আমরা অসঙ্গতি পেয়েছি। যারা অনিয়ম করেছে জরিমানা করেছি। সব বিক্রেতাকে ন্যায্যদামে মুরগি বিক্রি করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। তবুও কোন ভোক্তা বাড়তি দরে মুরগি বা অন্যান্য ভোগ্যপণ্য কিনে প্রতারিত হলে আমাদের অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে। আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নিব।

রোজা শুরু হবার পর থেকেই বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে সবজি। কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি শসা ৫০ থেকে ৬০, গোল বেগুন ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে গাঁজর ৫০ থেকে ৬০ ও পেঁপে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া বাজারে প্রতিকেজি বরবটি, ঝিঙ্গা ও পটল ৮০, শিম ৬০, মুলা ও ফুলকপি ৫০, মিষ্টি কুমড়া ৪০, ঢেঁড়শ ও তিত করলা ৯০, লতি ও চিচিঙ্গা ৬০ এবং কাঁচাকলা হালি প্রতি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে ২০ টাকা বেড়ে প্রতি হালি লেবু আকারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নগরের ঝাউতলা বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. রহিম বলেন, বাজারে শীতকালের সবজির মধ্যে বাঁধাকপি আর শিম ছাড়া কিছু নেই। রোজার সময় লাউ, পেঁপে, শসা, বেগুন ও গাজরের চাহিদা বেশি থাকে। তাই সবজিগুলোর দাম বেড়েছে। এদিকে মাছের বাজারে প্রতিকেজি পাঙাশ ১৭০ থেকে ১৮০, তেলাপিয়া ১৭০, কই ২৮০ থেকে ৩শ, রুই ও কাতলা মাছ ৩শ, শোল ৫৫০ ও গলদা চিংড়ি ৬শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নগরের ঝাউতলা বাজারের মাছ বিক্রেতা আরমান হোসেন জানান, আড়তে মাছের আমদানি কম হওয়ার কারণে বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে।

বাজারে প্রতিকেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়, চিনি ১১৫ থেকে ১২০ টাকা, প্রতিলিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৮৫ টাকা, মোটা দানার মসুর ডাল ১১০ টাকা ও ছোট দানার মসুর ডাল ১৪০ টাকা, প্রতিকেজি খোলা আটা ৫৮ টাকা ও প্যাকেটজাত আটা ৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি দেশি মুরগির ডিম প্রতি ডজন ২৪০ টাকা, ফার্মের ডিম ১২০ টাকা এবং ফার্মের হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়।

তাছাড়া প্রতিকেজি ভারতীয় পেঁয়াজ ৪০ টাকা, চায়না রসুন ১০৫ টাকা, দেশি রসুন ৬০ টাকা, মিয়ানমারের আদা ১শ থেকে ১১০ টাকা ও ইন্দোনেশিয়ার আদা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।