নিজস্ব প্রতিবেদক :
খুচরা পর্যায়ে খোলা ও প্যাকেটজাত চিনির কেজিতে কমেছে ৩ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। অথচ নতুন এ দর মানতে নারাজ খুচরা বিক্রেতারা। ঘুরেফিরেই আগের দামে বিক্রি হচ্ছে চিনি। নগরের খুচরা দোকানগুলোতে দাম তো কমেইনি, উল্টো নির্ধারিত দামের চেয়ে ১৬ টাকা বেশিতে বিক্রি হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) চিনির বাজারে অস্থিরতা আরও কমাতে দাম কমিয়ে পরিশোধিত চিনির মূল্য নির্ধারণ করে দেয় সরকার। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী শনিবার থেকে খুচরা বাজারে পরিশোধিত খোলা চিনি ১০৪ টাকা এবং পরিশোধিত প্যাকেটজাত চিনি প্রতি কেজি ১০৯ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা। অথচ নগরের খুলশী, হালিশহর, নাসিরাবাদ, পাহাড়তলীসহ বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন খুচরা দোকানগুলোতে আগে খোলা চিনি কেজিপ্রতি ১১৫ টাকায় বিক্রি হলেও আজ পণ্যটির দাম ঠেকেছে ১২০ টাকায়।
খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকার চিনির দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। তবে বর্তমানে যে চিনি মজুদ আছে তা আগের কেনা। এসব চিনি নতুন দরে বিক্রি করলে লোকসান হবে। এদিকে ১১৫ টাকার চিনি কেন ৫ টাকা বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে মিলেছে বাড়তি পরিবহন ভাড়ার অজুহাত।
নগরের হালিশহর এলাকার ভাই ভাই স্টোরের মালিক মো. শফি বলেন, খাতুনগঞ্জ প্রতিবস্তা চিনি ৫ হাজার ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সে হিসেবে প্রতিকেজি চিনির দাম পড়ে ১০৯ টাকা। তাই খুচরা পর্যায় এসে বেশি দরে চিনি বিক্রি করতে হচ্ছে।
নগরের খুলশী এলাকার বাসিন্দা মো. আহনাফ বলেন, সরকার নির্ধারিত চিনির নতুন দর আজ বাস্তবায়ন করার কথা। দাম কমা তো দূরে থাক। এতদিন ১১৫ টাকায় খোলা চিনি বিক্রি হলেও আজ তা বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সরকার চিনির দাম নির্ধারণ করে দিলেও অসাধু ব্যবসায়ীরা তা মানতে নারাজ। এর আগে যতবারই নতুন করে চিনির দর নির্ধারণ করা হয়েছে তা সাথে সাথে বাস্তবায়ন করতে পারেনি ব্যবসায়ীরা। তবে সরকার কোন পণ্যের দাম বাড়ার ঘোষণা দিলে তা সাথে সাথে বাস্তবায়ন হয়, যেটা আমরা জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে দেখেছি। কাজেই ক্রেতাদেরকে ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ জানাতে হবে। পাশাপাশি প্রশাসনকে পাইকারের পাশাপাশি খুচরা বাজার নজরদারি বাড়াতে হবে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান বলেন, বাজার দর স্বাভাবিক রাখতে আমরা প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করছি। আমরা ক্রয় আর বিক্রয়মূল্য যাচাই করছি। অনিয়ম পেলে জরিমানা করছি। আমাদের লোকবল কম, তবুও আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছি। ক্রেতারা প্রতারিত হলে বা বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি হলে আমাদের কাছে অভিযোগ করার সুযোগ তো আছেই। আমরা ব্যবস্থা নেব।

