ঢাকামঙ্গলবার, ১০ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গরমের উত্তাপ তরমুজে, দাম বেড়েছে দ্বিগুণ

NewsDay 24
এপ্রিল ১৯, ২০২৩ ১১:৫৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক :
তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। তীব্র তাপে প্রচুর তৃষ্ণায় একেবারে নিষ্ক্রিয় হয়ে ওঠে পুরো শরীর। এ  সময়ে অনেকেরই প্রথম পছন্দ তরমুজ। কেননা, তরমুজ শরীর ঠাণ্ডাও করে, আবার শরীরে পানির চাহিদাও মেটায়। তীব্র তাপদাহে সপ্তাহের ব্যবধানে তরমুজের দাম বেড়ে গেছে দ্বিগুন। সরবরাহ কমে আসায় তরমুজের দামে আগুন বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
বুধবার (১৯ এপ্রিল) নগরের রিয়াজুদ্দীন বাজার ও কর্ণফুলী বাজার ঘুরে তরমুজের দোকানের সামনে দেখা গেছে ক্রেতার জটলা। তবে বিক্রেতার মুখে দর শুনে মুখ ফ্যাকাসে হয়ে অধিকাংশ ক্রেতাকে ফেরত যেতে দেখা গেছে। নতুবা র্অধেক দাম হাঁকাতে শোনা গেছে। আড়তে দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা পর্যায়েও তরমুজের দাম বলে ক্রেতাদের জানাচ্ছেন বিক্রেতারা।
চট্টগ্রামে ফিরিঙ্গিবাজার ও ফলমণ্ডি এলাকার আড়তে সবচেয়ে বেশি পাইকারি দরে তরমুজ বিক্রি হয়। সেখানে দুসপ্তাহ আগেও বড় সাইজের তরমুজ ১০০ পিস ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। আড়তেই প্রতি পিস তরমুজ বিক্রি হয়েছিল ৩শ টাকায়। অথচ বর্তমানে আড়তেই প্রতিপিস তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৪শ টাকায়।
এদিকে নগরের বিভিন্ন এলাকার খুচরা দোকান বা ভ্যানে ছোট সাইজের তরমুজ ১২০ টাকা, মাঝারি সাইজের তরমুজ ২২০ থেকে ৩শ এবং বড় সাইজের তরমুজ ৫শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নগরের রিয়াজুদ্দীন বাজারের তরমুজ বিক্রেতা মো. ইসলাম বলেন, বাজারে তরমুজের সরবরাহ কমে গেছে। আড়তদাররা বাড়তি দরে তরমুজ বিক্রি করছেন। তাই আমরাও বেশি দরে বিক্রি করছি। তাছাড়া উপায় নাই।
ফলমন্ডির আড়তদাররা জানান, চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি তরমুজের যোগান আসে নোয়াখালীর সুবর্ণচর এলাকা থেকে। এই এলাকার তরমুজ চট্টগ্রামের প্রায় ৭০ ভাগ চাহিদা পূরণ করে। এছাড়াও চট্টগ্রামে তরমুজ আসে ভোলা, খুলনা, রাজশাহী, যশোরের , বরিশাল, পার্বত্য এলাকা এবং কক্সবাজার থেকেও। সাধারণত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে তরমুজের চাষ শুরু হয়। কিন্তু এবছর রমজানকে সামনে রেখে ডিসেম্বর থেকেই তরমুজের চাষ শুরু করেছেন কৃষক।
জানা গেছে, চলতি বছর নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় উৎপাদিত তরমুজ চট্টগ্রামের ৭০ ভাগ চাহিদা পূরণ করে। এই উপজেলায় এবার প্রায় ৪ হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ৩৫ মেট্রিক টন তরমুজের ফলন হয়েছে। ভোলায় ১৮ হাজার ৩শ হেক্টর জমিতে ৫২ মেট্রিক টন তরমুজের ফলন হয়েছে। খুলনায় ৭ হাজার ৬০৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে। তাছাড়া রাঙ্গামাটিতে ৭২০০ মেট্রিক টন তরমুজ উৎপাদন হয়েছে।
রিয়াজুদ্দীন বাজারে তরমুজ কিনতে আসেন মো. হাসেম। তিনি বলেন, কি আর তরমুজ কিনবো। দাম শুনেই তো অজ্ঞান হবার মত দশা। বড় সাইজের তরমুজ ২৫০ থেকে ২৭০ টাকায় কিনেছি। এখন ওই সাইজের তরমুজের দাম বলছে ৫শ টাকা। তাই মাঝারি আকারের তরমুজ কিনেছি ২২০ টাকায়।
চট্টগ্রাম ফলমন্ডির আড়তদার মো. সেলিম বলেন, বৃষ্টির ভাব দেখে অনেক কৃষক অপরিপক্ব তরমুজ তুলে ফেলেছেন। পাকা তরমুজ বেশিদিন রাখা গেলেও অপরিপক্ব তরমুজ বেশি দিন আড়তে রাখা যায় না। ফলে অপরিপক্ব তরমুজ বেশি নষ্ট হচ্ছে। সবমিলিয়ে বাজারে তরমুজের সরবরাহও কম। তাই চড়াদামে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।