ঢাকাশনিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চিপস খাওয়ানোর প্রলোভনে শিশু চুরি, দুই লাখে বিক্রি

NewsDay 24
এপ্রিল ২৯, ২০২৩ ৯:০২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক :
নগরের চান্দগাঁও থেকে আড়াই বছর বয়সী শিশু চুরির ঘটনায় এক নারীসহ চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে হাটহাজারী উপজেলার ছিপাতলী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটিকে চুরি করে নিয়ে দুই লাখ ২০ হাজার টাকায় নিঃসন্তান ওই নারীর কাছে বিক্রি করেছিল বাকি তিন জন। তবে শিশুটিকে চুরির মূল হোতা মো. হাশেম পলাতক আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন— মো.নুর ইসলাম প্রকাশ মুরাদ (২৪), মো.জুয়েল (১৯), মো.রাসেল (৩৭) ও রিমা আক্তার (৩০)।
এদিকে, গত ২৫ এপ্রিল দুপুরে চান্দগাঁও থানার মধ্যম মোহরা এলাকা থেকে খেলাধুলা করার সময় আড়াই বছর বয়সী শিশুটি নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় শিশুটির মা পারুল বেগম সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন। ভিডিও ফুটেজ দেখে অপহরণে ব্যবহৃত অটোরিকশা শনাক্ত করার পর অপহরণের ঘটনা উদঘাটন করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায় এক যুবক শিশুটিকে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাচ্ছে। এর সূত্র ধরে পুলিশ তদন্ত করে হাটহাজারীর ছিপাতলীতে রিমা আক্তারের বাসায় অপহরণের শিকার শিশুটির সন্ধান পায়। পরে আসামি রিমার দেওয়া তথ্যে অভিযান চালিয়ে তিন জনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, হাশেমসহ চার জন মিলে চিপস খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে শিশুটিকে চুরি করে নিয়ে যায়। নিঃসন্তান রিমা আক্তারের সঙ্গে আগে থেকেই তাদের দুই লাখ ২০ হাজার টাকায় একটি শিশু পাইয়ে দেওয়ার মৌখিক চুক্তি হয়েছিল। চুরি করা শিশুটিকে তাকে হস্তান্তরের পর রিমা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করেন। সেই টাকায় মুরাদ একটি মোটরসাইকেল কেনেন। গ্রেপ্তার মুরাদের হেফাজত থেকে শিশু চুরির টাকায় কেনা মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে।
চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে জেনেছি তারা শিশু অপহরণ দলের সক্রিয় সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে একে অপরের সহযোগিতায় ছদ্মবেশে বিভিন্ন এলাকায় শিশুদের অপহরণ করে আসছিল। অপহরণ করা শিশুদের বিভিন্ন এলাকায় টাকার বিনিময়ে বিক্রি করতো। পলাতক একজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে। আসামি জুয়েলের হেফাজত থেকে শিশুটিকে তুলে নেওয়ার সময় ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে। জুয়েলের বিরুদ্ধে একই অভিযোগে বিভিন্ন থানায় আরও তিনটি মামলা রয়েছে। শিশু চুরির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে চান্দগাঁও থানায় মানব পাচার আইনে মামলা দায়ের করেছেন পারুল বেগম।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।