বন্দর নগরীর চট্টগ্রামের পর্যটন এলাকা হিসেবে সু-পরিচিত ফয়েজ লেক । যেখানে বিনোদনের জন্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ঘুরতে আসে। চিড়িয়াখানা, কনকর্ড ও সী-ওয়ার্ল্ড একই স্থানে থাকায় এই এলাকাটি বেশ লোকসমাগমে ভরপুর থাকে। লোকসমাগম হওয়ায় এই এলাকাটিতে নামে বেনামে গড়ে উঠেছে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। যার মধ্যে ঠাই হয়েছে আবাসিক হোটেল, মোটেল ও গেষ্ট হাউজের মত ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান।
কিন্তু ব্যবসার আড়ালে এই এলাকাটিতে অনৈতিক কর্মকান্ড এখন বেশ রমরমা। আবাসিক হোটেল, মোটেল ও গেস্ট হাউজগুলোতে অবাধে চলছে দেহ ব্যবসার মতো অনৈতিক কর্মকান্ড। যা নিয়ে বেশ কয়েকবার বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখালেখিও হলেও বন্ধ হচ্ছে না এইসব অনৈতিক ব্যবসা।
গত ৮মে অনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ে ফয়েজলেক এলাকায় একাধিক আবাসিক হোটেল, মোটেল ও গেষ্ট হাউজে অনুসন্ধান চালায় দৈনিক লাখো কন্ঠ পত্রিকার সাংবাদিক মোঃ শাকিল (৩৪), মোঃ আরাফাত ইসলাম (৩৪) ও দৈনিক সাঙ্গু পত্রিকার ফটো সাংবাদিক মোঃ নুরুল আজম (৩৫)।
তাদের অনুসন্ধানে গোপন ধারনকৃত অনৈতিক ব্যবসার ভিডিও ফুটেজ ও তথ্য সংগ্রহ শেষ করে যাওয়ার পথে অনৈতিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মূল ফটকের ছবি ধারন করতে গেলেই তাদের উপর হামলা চালায় প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মচারী ও দালাল চক্রের সদস্যরা। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয় দৈনিক সাঙ্গু পত্রিকার ফটো সাংবাদিক মোঃ নুরুল আজম (৩৫) ও দৈনিক লাখো কন্ঠ পত্রিকার সাংবাদিক মোঃ শাকিল। হামলার সময় ভেঙ্গে ফেলা হয় নুরুল আজম এর ব্যবহৃত ক্যামেরা- এইসময় তার পকেটে থাকা নগদ অর্থ হাতিয়ে নেয় দালাল চক্রের সদস্যরা।
পরে আহত অবস্থায় জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এ কল দিয়ে খুলশী থানা পুলিশের সাহায্য নেয় সাংবাদিক নুরুল আজম। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে ফেইসবুক লাইভে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় সাংবাদিক নুরুল আজম (৩৫) জানান, অনৈতিক ব্যবসার তথ্য সংগ্রহকরায় তার উপর হামলা চালিয়েছে হোটেলের ছেলেরা। তাকে নিউজ না করার জন্য আর্থিক প্রলোভন দেখিয়েছিলো, টাকা না নেয়ায় আরো বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করেছে তার ক্যামেরা ভেঙ্গেছে।
ঘটনার পর পুলিশের সহযোগীতায় সাংবাদিক নুরুল আজমকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। চিকিৎসা শেষে ১২জনের নাম উল্লেখ্য করে খুলশী থানায় বাদী হয়ে একটি মামলা করেন নুরুল আজম।
এই ঘটনার বিষয়ে আহত নুরুল আজম জানায়, তাদের অনুসন্ধানে পেয়েছে এই হোটেল গুলোতে অপ্রাপ্ত বয়স্ক যুগল, স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, বিবাহ বহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্কে আবদ্ধসহ যে কোন বয়সের যে কেউ খুব সহজে এখানে একান্তে সময় পার করতে পারে। এই সুবিধা নিতে কারোরই নুন্যতম তথ্য যাচাইকরণ ছাড়াই চড়া মূল্যে একান্তে সময় কাটানোর জন্য ঘন্টা অনুযায়ী ও সারা রাতের জন্য দেয়া হয় রুম ভাড়া। দেহ ব্যবসার সাথে এই স্থানে নির্ভয়ে মাদক সেবনও চলে।
তিনি আরো জানান, এই কাজে প্রশাসনের সহযোগীতা পায় এই প্রতিষ্ঠানগুলো, যা স্বীকারোক্তিমূলক একটি রেকর্ড রয়েছে। পরবর্তীতে গোপন ভিডিও ও রেকর্ড নিউজডে ২৪ এর কাছে প্রেরণ করেন ফটো সাংবাদিক মোঃ নুরুল আজম। তাদের কাছে যা আমাদের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।
সেদিনের ঘটনার বিবরনে তিনি আরো জানান, এই স্থানগুলো থেকে রাজনৈতিক পরিচয়ে বিভিন্ন নেতাকর্মীরা, প্রশাসন ও সাংবাদিকরা নিয়মিত মাসোয়ারা পায় বলে জানায় আনোয়ার নামের এক ব্যক্তি। আনোয়ার নিজেকে মালিকপক্ষের একজন শেয়ার হোল্ডার দাবি করে গরম মেজাজে চোখ রাঙ্গিয়ে বলেন ফয়’স লেক এলাকার কম-বেশি সবগুলো আবাসিক হোটেলেই একই প্রক্রিয়ায় একান্তে সময় কাটাতে স্বল্প সময়ের জন্য অবিবাহিত তরুণ-তরুণী এবং স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের রুম ভাড়া দেয়। এমনকি ফয়’স লেক এলাকার বেশ কিছু হোটেলে সরাসরি পতিতা ব্যবসার সাথেও তার সক্ষতা রয়েছে। পুলিশ প্রশাসন,সাংবাদিক ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সাথে সক্ষতা বজায় রেখেই তারা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে।
এই বিষয়ে সিএমপির উত্তর জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার এর সাথে কথা বল্লে তিনি জানান, থানায় মামলা হয়েছে আসামী গ্রেফতার আছে বাকী আসামীদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

