ঢাকাশুক্রবার, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে রাঙামাটিতে বিশাল সমাবেশ

মেহেদী ইমাম, রাঙামাটি প্রতিনিধি
মে ১৭, ২০২৩ ১০:৪১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে রাঙামাটিতে বিশাল সমাবেশ ও র‍্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১৭ মে) বিকেলে রাঙামাটি জেলা পরিষদ প্রাঙ্গন হতে বিশাল একটি র‍্যালী বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পৌরসভা মাঠে শেষ হয়। র‍্যালী শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাংগঠনিক সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন (এমপি)।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও ২৯৯নং আসনের সাংসদ দীপংকর তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুর, সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চিংকিউ রোয়াজা, রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী, সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব, ত্রিদীব কান্তি দাশ, রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য হাজি মোঃ মুসা মাতব্বর, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শামসুদোহা চৌধুরী, মোঃ শাওয়াল উদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক মোঃ রফিক আহম্মদ তালুকদার, জেলা পরিষদ সদস্য ইলিপন চাকমা, রেমলিয়ানা পাংখোয়া সহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আওয়ামীলীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল মাহমুদ স্বপন বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে আপনাদের ব্যপক উপস্থিতি আমাকে বিমোহিত করেছে। তিন পার্বত্য জেলায় অপার সম্পভাবনা রয়েছে। পাহাড় ও নদী রাঙামাটি কে আরো সৌন্দর্যময় করে তুলেছে। পর্যটন শিল্পে উল্লেখযোগ্য লোকের কর্মসংস্থান রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা পৃথিবীতে একজন অসহায় ও শক্তিশালী ব্যক্তি। ১০-১৫মিনিট এত অল্প সময়ের মধ্যে তিনি স্বপরিবার কে হারিয়েছেন। ঘাতকরা ৮বছরের ছোট শিশু শেখ রাসেল কেউ হত্যা করতে দ্বিধাবোধ করেনি। এই পার্বতাঞ্চলে কত রক্তের হলি খেলা চলেছে। আলোচনা করে পার্বতাঞ্চলে শান্তি চুক্তির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি। শেখ হাসিনার আন্তরিকতায় পাহাড়ে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। দারিদ্রসীমা অতিক্রম করে বাংলাদেশ আজ স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে এগিয়ে যাচ্ছে।

এসময় তিনি শেখ হাসিনাকে সাহসী নেত্রী উল্লেখ করে বলেন, পাহাড়ে মানুষের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যারা বলেছিল বাংলাদেশ শ্রীলংকা পাকিস্থান হয়ে যাচ্ছে। তাদের কে বলতে চাই বাংলাদেশ শ্রীলংকা হয়ে যায়নি। তিনি দেশের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছেন। কর্ণফুলী টানেল উদ্বোধনের অপেক্ষায়। ওয়াদা করে কোন কাজ বাকি রাখেন না শেখ হাসিনা।

দলীয় নেতাকর্মীদের কে উদ্যেশ্য করে তিনি বলেন, নিজেদের মধ্যে কাঁদা ছোড়াছুঁড়ি না করে তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের কে ঐক্যবদ্ধ করে আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করতে হবে। নিজেদের মধ্যে কোন বিষয়ে মতবিরোধ হলে আলোচনা করে তা সমাধান করতে হবে। তৃণমূল নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের শক্তি বলেও মন্তব্য করেন এই সাংসদ।

সভাপতির বক্তব্যে দীপংকর তালুকদার বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ই মে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছে। বৃষ্টিতে ভিজে নেতাকর্মীদের উপস্থিতিই প্রকাশ করে কর্মীরা জিপিএ ৫ পেয়েছে। এটাই আওয়ামী লীগ। অপ্রতিরোধ্য এই আওয়ামীলীগ কে কেউ রুখতে পারবেনা।

৮০এর দশকে শেখ হাসিনা অনুধাবন করতে পেরেছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি বিচ্ছিন্ন অঞ্চল। কোন সরকার এই এলাকা নিয়ে আগ্রহ দেখায়নি। এই এলাকা কে তিনি হট স্পট নামকরণ করে অগ্রাধিকার দিয়ে ব্যপক উন্নয়ন করেছেন। স্কুল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, মাচাং ঘর, সেতু, সড়ক সহ বিরাজমান উন্নয়ন করছেন।

পার্বতাঞ্চলের মানুষের জন্য ১৭ই মে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। পার্বত্যাঞ্চলের মানুষের জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনা আন্তরিক বলেই আজ পাহাড়ের মানুষের জন্য ব্যপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনার দুরদর্শীতায় বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। এসময় শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করেন দীপংকর তালুকদার।

বক্তব্যে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরী বলেন, ১৭ই মে জননেত্রী শেখ হাসিনা জীবিনের ঝুঁকি নিয়ে দেশে এসেছিলেন বলেই আজ আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি। স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারে কাজ চলছে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে।

বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, ১৯৯৭ সালে শান্তিচুক্তিতে সরকার ৭২টি ধারার মধ্যে অনেকাংশেই বাস্তবায়ন করেছে। অথচ জেএসএস ১টি মাত্র ধারা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। ২৫বছর অতিক্রম হলেও অদ্যাবধি অবৈধ অস্ত্রের দাপট কমেনি। রক্তারক্তি বন্ধ হয়নি। কমেনি পাহাড়ে সন্ত্রাসীদের ক্ষমতার দাপট।

এসময় এসব অবৈধ অস্ত্রধারীদের উদ্যেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা এসব খুনাখুনি, রক্তারক্তি ও অস্ত্রের ঝনঝনানি বন্ধ করেন। শেখ হাসিনা শান্তিচুক্তির ৭২টি ধারাই বাস্তবায়ন করবেন। তিনি আরো বলেন, রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ। আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে সকল কে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা দুর্বল নই। অসাম্প্রদায়িক, উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে শেখ হাসিনার হাত কে শক্তিশালী করতে ২৯৯নং আসনে দীপংকর তালুকদার (এমপি)র বিকল্প নেই।

সভায় বক্তারা বলেন, ৭৫সালে বঙ্গবন্ধুর হত্যার পরে স্বাধীনতা বিরোধীরা ভেবেছিল আওয়ামীলীগ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। কিন্তু না ঐতিহাসিক ১৭ই মে জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এসে স্বাধীনতা বিরোধীদের দাত ভাঙা জবাব দিয়েছেন। শেখ হাসিনার দূরদর্শীতায় পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি চুক্তি হয়েছে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়েছে।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।