ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ঐতিহ্যবাহী খরমপুর কেল্লা শহীদের মাজারে রেললাইন ধরে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় দুই মাজার ভক্ত মারা গেছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) রাত পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা-সিলেট রেলপথের আখাউড়া খরমপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে একজনের নাম পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম শুক্কুর মিয়া (৫৫)। তিনি নরসিংদী জেলার মাধবদী উপজেলার দোয়ারি গ্রামের গাজী মিয়ার ছেলে। অপর অজ্ঞাত যুবকের (২৪) নাম পরিচয় জানা যায়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আখাউড়া রেলওয়ে জংশন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন খন্দকার জানান, বৃহস্পতিবার থেকে খরমপুর কেল্লা শাহ’র মাজারে বার্ষিক ওরস শুরু হয়েছে। এই ওরসে নৌপথ, সড়ক পথ এবং রেলপথে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্ত আশেকান জমায়েত হন। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে অসংখ্য ভক্ত আশেকান রেললাইন ধরে পায়ে হেঁটে খরমপুর মাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনে দ্রুত চলে আসে। এরমধ্যে ট্রেন দেখে শুক্কুর মিয়া রেলসেতু থেকে তিতাস নদীতে ঝাঁপ দেন। অপর অজ্ঞাত পরিচয়ে যুবক ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে আহত অবস্থায় নদীতে পড়ে যায়। এ সময় দুইজনই প্রাণ হারান। খবর পেয়ে আখাউড়া রেলওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। তাদের মধ্যে একজনের নাম শুক্কুর মিয়া। অপর যুবকের নাম পরিচয় জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধে রেলওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে সচেতনতার পাশাপাশি আরও তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার থেকে আখাউড়া খরমপুর মাজার শরীফে বার্ষিক ওরস শুরু হয়েছে। ১৪ আগস্ট আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ওরস শেষ হবে। ওরসে লাখো লোকের সমাগম হয়।

