ঢাকাশনিবার, ১৪ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নাশকতায় পোড়া ‘ট্রেনের বগি’ এবার চোরের কবলে, ঘটনা ধামাচাপা (ভিডিও)

নিজস্ব প্রতিবেদন
ডিসেম্বর ২৪, ২০২৩ ৬:৫৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নাশকতায় পোড়া ট্রেন এবার চোরের কবলে জামালপুরে নাশকতাকারীদের দেওয়া আগুনে পোড়া যুমনা এক্সপ্রেস ট্রেন এবার চোরের কবলে পড়েছে। মেরামতের জন্য ট্রেনটি চট্টগ্রামে নেওয়ার পথে তামার তার, বৈদ্যুতিক বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটেছে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, বিএনপি-জামায়াতের ডাকা হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি কেন্দ্র করে গত ১৮ নভেম্বর রাতে জামালপুরের সরিষাবাড়ী এলাকায় ট্রেনটিতে আগুন দেয় দুবৃর্ত্তরা। এ সময় পেছন দিকের তিনটি বগি পুড়ে যায়। ৯ ডিসেম্বর ট্রেনটি মেরামতের জন্য ঢাকা থেকে লাকসাম পাঠানো হয়। পরের দিন লাকসামের পাওয়ার হাউস বিদ্যুৎ অফিসের সামনে বগি গুলো রাখা হয়। ওই দিনই যমুনা এক্সপ্রেসের ক্ষতিগ্রস্ত বগিগুলো চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলওয়ে কারখানায় পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই চুরির ঘটনা ঘটে। রেলওয়ের কয়েকজন কর্মী সেটি দেখে ফেললেও পরে চুরির ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পোড়া বগি থেকে বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরির পর ট্রেনটি পাহাড়তলী পাঠানো হয়।

চুরির ঘটনার ২১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। এতে দেখা গেছে, রেললাইনে দাঁড়িয়ে থাকা যমুনা এক্সপ্রেসের একটি বগি থেকে তামার তার খুলছে এক যুবক। পরে অন্য একজন লোক এসে তাকে বাধা দিলে ওই যুবক সটকে পড়ে। ভিডিওটি লাকসামের রেলওয়ে বৈদ্যুতিক পাওয়ার হাউসের সামনের বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জানা যায়, পোড়া বগি থেকে বিভিন্ন সরঞ্জাম তামার তার খুলে চুরি করে নিচ্ছে লাকসাম স্থানীয় বাসিন্দা কামাল নামে এই যুবক। সে পেশাদার চোর বলে জানা যায়। তার সঙ্গে লাকসাম বিদ্যুৎ বিভাগের লাইনম্যান সুফিয়ানের সঙ্গে পারিবারিক ভাল সখ্যতা রয়েছে।

লাকসাম রেলওয়েতে কর্মরত একজন স্টাফ বলেন, পাহাড়তলী কারখানা ও বিভিন্ন স্পটে দায়িত্বশীলদের সঙ্গে যোগসাজশে প্রায়ই চুরি সংঘটিত হয়। এমন ঘটনা অনেকবার ঘটেছে। কিন্তু এবার নাশকতায় পোড়া ট্রেনের বগি গুলোকে কেন্দ্র করে চোর চক্র সক্রিয় হচ্ছে। লাকসামে ক্ষতিগ্রস্ত ট্রেন থেকে চুরির ঘটনা লাকসাম ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কিশোর চন্দ্র দেব বর্মা জানার পরও নিজের দায় এড়িয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। কারণ আগুনে পুড়ে যাওয়া ট্রেনে কী নষ্ট হয়েছে বা হয়নি, সেটা তো বোঝার উপায় নেই। তিনি নিজেও সরোজমিনে এসে বগি গুলো দেখেননি।

যমুনা এক্সপ্রেসে চুরির বিষয়ে জানতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (অতিরিক্ত) নাজমুল হোসেনকে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) চিফ ইন্সপেক্টর (লাকসাম) সালামত উল্লাহ বলেন, ট্রেনটি চট্টগ্রামে পাঠানোর পথে লাকসামে রাখা ছিল। এখান থেকে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে কিছুদিন আগে। এখানে থাকা অবস্থায় চুরির ঘটনা ঘটেছে কি না জানা নেই। চুরির অভিযোগও কেউ করেননি। যাত্রী নিরাপত্তা ও রেলওয়ের সম্পদ রক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর। যে কোনো অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।