গাইবান্ধার সদর উপজেলায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের (এলডিডিপি) আওতায় উৎপাদনকারী দলের সদস্যরা মুরগি ও ছাগলের জলবায়ু সহিঞ্চু ঘর পেয়েছে।
জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে উপজেলায় মোট ৯০ টি স্মার্ট শেড নির্মাণ করা হয়। রঙ্গিন টিনের ছোট্ট ঘরে মুরগি ও ছাগল পালনের মাধ্যমে সংসারে নতুন মাত্রার সৃষ্টি করে সাড়া ফেলেছে সদর উপজেলার সুবিধাভোগীরা। এতে মুরগি ও ডিম বিক্রি করে বাড়তি আয়ের পাশাপাশি পরিবারের পুষ্টির চাহিদাও পূরণ করতে সক্ষম হচ্ছেন উপকারভোগীরা। প্রকল্পের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সচেতন মহল।
পিজি গ্রুপের সদস্য বেবি বেগম জানান, আমরা ঘর পাওয়ার পর থেকে মোরগ- মুরগি পালন করা শুরু করেছি। মুরগি ও ডিম বিক্রি করে সংসারে অনেক আয় করেছি। আমার সংসার আগের চেয়ে ভালো চলছে এখন।
নুরি বেগম জানান,আমি বর্তমানে ২৫ টার মত মুরগি পালন করছি। প্রতিদিন ডিম বিক্রি করে ভালো টাকা পাই। সংসারে বাড়তি টাকা আয় হওয়ায় এখন খুবই ভালো লাগছে।
একাধিক খামারি বলেন, উৎপাদনকারী দলের সদস্য হিসেবে তারা নিয়মিত কারিগরি প্রশিক্ষণ পেয়ে নতুন নতুন জ্ঞান অর্জন করছেন এবং বিজ্ঞান ভিত্তিক খামার গড়ার কৌশল শিখে নতুন স্বপ্নের বীজ বপন করছেন। গিদারী ইউনিয়নের উৎপাদনকারী দলের সদস্য হাসি,নাজমা,স্বপ্না ও নূরজাহান বলেন, “হামরা পশু হাসপাতালের ঘর পায়া খুব খুশি বাহে, নতুন করে আরও মুরগী নাগামো,ঘর সুন্দর করি বানাচোম, মুরগী যেন কোনো কষ্ট না পায়”।
অন্য দিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তরুন কুমার দত্ত বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নত সুখী, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মানের অংশ হিসেবে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তত্ত্বাবধানে খামারীরা স্মার্ট খামার গড়ে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের স্মার্ট শেডে মুরগি ও ছাগল লালন পালন করলে রোগের প্রাদুর্ভাব অনেকটাই কমে যাবে এবং ডিম ও মাংস উৎপাদন অনেকাংশে বেড়ে যাবে।

