বৈষম্যমুক্ত নবম পেস্কেলের দাবি জানিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে ১১-২০ গ্রেড সরকারি চাকুরিজীবী ফোরামের জেলা নেত্রীবৃন্দ। গত ২৪ এপ্রিল (বুধবার), চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে তারা এ স্মারকলিপি প্রদান করেন।
নবম পে-স্কেল ঘোষণা সহ অন্যান্য দাবীতে আন্দোলনরত ১১-২০ গ্রেড সরকারি চাকুরিজীবী ফোরামের বিভাগীয় সহ-সভাপতি জনাব নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল আজিম,সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ তাওহীদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম মহানগরের সদস্য সচিব মোঃ নজরুল ইসলাম এর নেতৃত্বে দুপর ১২:০০ টায় স্মারক লিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপি প্রদানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় দপ্তর সম্পাদক কামাল হোসেন,প্রচার সম্পাদক মোজাম্মেল হক, নিরাপত্তা বিষয়ক সম্পাদক আমির হোসেন,সদস্য জাকির হোসেন, চট্টগ্রামের আহবায়ক মোঃ মাহবুব-উল-আরেফিন,যুগ্ম আহবায়ক জাফর আহম্মেদ মজুমদার,গোলাম মাওলা মোঃ আব্দুল্লাহ, সদস্য মোঃ সাইফুল ইসলাম, নাছির উদ্দীন, ইসমাঈল উদ্দীন, শরীফুল ইসলাম পাটোয়ারী, জাহাঙ্গীর হোসেন,চট্টগ্রাম কলেজের মোঃ সাইফুল ইসলাম, মোঃ মনিরুল ইসলাম, গোলাম রহমান,মোঃ কাউসার,অন্যান্য নেত্রীবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
দাবিগুলো হচ্ছে- বৈষম্য মুক্ত ৯ম পে-স্কেল প্রদানের লক্ষ্যে পে- কমিশন গঠন, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি চলমান রাখা, টাইম স্কেল সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল, এক ও অভিন্ন নিয়োগ বিধি বাস্তবায়ন, শতভাগ পেনশন প্রদানসহ কাজের ধরন অনুযায়ী পদ নাম ও গ্রেড পরিবর্তন।

জানা যায়, জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান পর তারা বিভিন্ন মন্ত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরাসরিও স্মারকলিপি প্রদান করবেন, এতে যদি দাবী আদায় না হয় তাহলে আগামী ৬ জুন জাতীয় প্রেসক্লাবে একই দাবিতে মানববন্ধন করবে সংগঠনটি, উল্লেখ্য এই সংগঠন গতবছর মহাসমাবেশের ডাক দিয়েও সরকারের বিশেষ অনুরোধে নির্বাচন পূর্ব বিশৃঙ্খলা এড়াতে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে!! বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে পেস্কেলে বিষয়টি উল্লেখ থাকায় সরকারের এই ইশতেহারের বাস্তবায়ন চায় ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীরা। তাদের বক্তব্য গত ৯ বছরে পেস্কেল প্রদান করা হয়নি অথচ দ্রব্যমূল্যের চরম উর্দ্ধগতির কারনে তাদের সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে! তাই বৈষম্য মুক্ত পেস্কেল পেতে তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তাদের আশা শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের দাবি বাস্তবায়ন হবে।
চট্টগ্রাম মহানগরের সদস্য সচিব মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের অভুক্ত রেখে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়া কখনও সম্ভব নয়। দ্রব্যমূল্যের দাম দ্বিগুণ-তিনগুন বেড়ে যাওয়ার কারণে সরকারি চাকরিজীবীরা চরম অসহায় অবস্থায় আছে। কেবল ভিক্ষা করতে পারছি না। প্রতি পাঁচবছর পর সরকারের পে-স্কেল দেওয়ার নিয়ম থাকলেও গত ৯ বছরে তা দেওয়া হয়নি। এখন সরকারি কর্মচারীদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে আগামী বাজেটে বৈষম্যমুক্ত পে-স্কেল দেওয়ার আকুল আবেদন জানাচ্ছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

