ঢাকামঙ্গলবার, ১০ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যাত্রীদের ঝুঁকিতে রেখে টাকা আদায় করেন ট্রেনের গার্ড

নিজস্ব প্রতিবেদন
জুন ৪, ২০২৪ ৮:৪৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

যাত্রীবাহী ট্রেনের পরিচালকের (গার্ড) সবুজ সংকেত পেলেই চালক গাড়ি ছাড়েন এবং থামাতে পারেন। কোনো স্টেশনে প্রবেশের আগের ট্রেনচালক স্টেশন মাস্টারের সিগন্যাল খেয়াল না করলে বা সিগন্যাল অমান্য করলে দুর্ঘটনা এড়াতে গার্ড ব্রেকের মাধ্যমে ট্রেন থামাতে পারেন। যে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষায় ট্রেনের শেষে গার্ড ব্রেক যুক্ত থাকে।

রেলওয়ে আইন অনুযায়ী ট্রেন পরিচালকের গার্ড ব্রেক ছেড়ে কোথাও যাওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু যাত্রীদের ঝুঁকিতে রেখে গার্ড ব্রেক থেকে নেমে যাত্রী বগিতে গিয়ে অবৈধভাবে নিয়মিত টাকা আদায় করছেন শামসুল আলম নামে একজন গার্ড। তিনি লাকসাম হেডকোয়ার্টারে চুক্তিভিত্তিক গার্ড। গার্ড গ্রেড-২ হিসেবে অবসরে যাওয়ার পর গার্ড সংকটের কারণে তাকে পুনরায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। লাকসাম-নোয়াখালী-ঢাকা রুটে চলাচলরত নোয়াখালী এক্সপ্রেস ট্রেনে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। অবসরে যাওয়ার পর চুক্তিভিত্তিক গার্ডদের তুলনামূলক কম দূরত্বে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা রয়েছে, কিন্তু শামসুল আলম শাহিদ হোসেন খোকন নামে এক শ্রমিক নেতার ফুফা হওয়ায় তাকে সেখানে পদায়ন করা হয়েছে।

নোয়াখালী এক্সপ্রেস ট্রেনের পরিচালক শামসুল আলম গার্ড ব্রেক থেকে নেমে যাত্রী বগিতে গিয়ে টাকা তোলার কয়েকটি ভিডিও ফুটেজ “নিউজ ডে২৪”এর হাতে এসেছে। ওই ভিডিও ফুটেজগুলো গত ২৫ মে ধারণ করা হয়েছে।

ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ২৫ মে নোয়াখালী এক্সপ্রেস ট্রেনটি লাকসাম থেকে সন্ধ্যা ৬টায় নোয়াখালীর উদ্দেশে ছেড়ে যায়। পরবর্তী স্টেশন দৌলতগঞ্জে ট্রেন থামলে তিনি নেমে যাত্রী বগিতে ওঠে বসেন। ওই বগির যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নিজের পকেটে রাখতে দেখা যায়। তবে যাত্রীদের কোনো রসিদ দেননি। টাকা তোলার পর তাকে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা এবং পরবর্তী খিলা স্টেশনে ট্রেনটি থামলে গার্ড ব্রেকে গিয়ে ওঠেন। ট্রেনটি নাথেরপেটুয়া স্টেশনে থামলে গার্ড ব্রেক থেকে পুনরায় নেমে যাত্রী বগিতে ওঠেন এবং যথারীতি টাকা আদায় করেন। এরপর বিপুলাসার স্টেশনে ট্রেন থামলে ফের গার্ড ব্রেকে ওঠেন। যাত্রীদের ঝুঁকিতে ফেলে নিয়মিত এভাবে টাকা আদায় করেন বলে রেলের সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র “নিউজ ডে২৪”কে নিশ্চিত করেছে।

রেল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা রেলেওয়ে আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। গার্ড ব্রেক ফেলে রেখে যাত্রী বগিতে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তখন এর দায়ভার কে নেবেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত গার্ডদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্তা নেওয়া উচিত।

জানা গেছে, নোয়াখালী এক্সপ্রেস ট্রেনটি লাকসাম স্টেশন থেকে সন্ধ্যা ৬টায় নোয়াখালীর উদ্দেশে ছেড়ে রাত ৭টা ৫৫ মিনিটে নোয়াখালী স্টেশনে পৌঁছে। রাত পৌনে ৯টায় ট্রেনটি নোয়াখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায় এবং ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছে। একই দিন রাত ৭টা ১০ মিনিটে ট্রেনটি নোয়াখালীর উদ্দেশে কমলাপুর ছেড়ে আসে। রাত ২টা ৫৫ মিনিটে নোয়াখালী পৌঁছে সকাল ৭টায় সেখান থেকে যাত্রা করে সকাল পৌনে ৯টায় লাকসাম পৌঁছে। দুটি যাত্রীবাহী কোচ, একটি মালবাহী ও একটি গার্ড ব্রেক নিয়ে নোয়াখালী এক্সপ্রেস ট্রেনটি চলাচল করে।

জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান পরিবহন কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম “নিউজ ডে২৪” কে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করতে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তাকে (ডিটিও) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গার্ড ব্রেক ছেড়ে যাত্রীবগিতে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ডিটিও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। ডিটিও আনিসুর রহমানের ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

গার্ড ব্রেক থেকে যাত্রী বগিতে গিয়ে টাকা আদায়ের বিষয়ে শামসুল আলম বলেন, আমি যাত্রীবগিতে যাইনি। তবে এক দিন আমি একটি বগিতে গিয়েছিলাম। আমার বিরুদ্ধে একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করছে। তাই এসব রটানো হচ্ছে। ভিডিওর বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।