ঢাকাশনিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তেল চুরির অভিযোগে বরখাস্ত হওয়া ব্যক্তিরা আবারো ফিরে আসছে!

admin
আগস্ট ১৭, ২০২৪ ৭:২৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চট্টগ্রাম বন্দরে আসা দেশি–বিদেশি চার হাজারের বেশি জাহাজ এবং দেশের জ্বালানি তেলের প্রধান ডিপোকে কেন্দ্র করে বছরে অন্তত ৫শ কোটি টাকার তেল চোরাচালানের ঘটনা ঘটছে। সংঘবদ্ধ একাধিক চক্র নানা কৌশলে তেল পাচারের সাথে জড়িত। কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে বিলিবণ্টন করে তেল চোরাচালানের রাঘব বোয়ালরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। প্রভাবশালীদের কেউ কেউ তেল চোরদের আশ্রয়–প্রশ্রয় দেয়ায় মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রায় আমদানিকৃত তেলের চোরাচালান ঠেকানো যাচ্ছে না। বরং পতেঙ্গা, আনোয়ারা ও কর্ণফুলী থানা এলাকায় অপতৎপরতা বেড়েছে।

দেশের জ্বালানি তেলের প্রায় পুরোটাই আমদানিনির্ভর এবং সরকার নিয়ন্ত্রিত। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) জ্বালানি তেল আমদানি এবং বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করে। নিজেদের তিনটি তেল বিপণন কোম্পানি পদ্মা অয়েল, যমুনা অয়েল ও মেঘনা পেট্রোলিয়ামের মাধ্যমে দেশব্যাপী জ্বালানি তেল বাজারজাত করা হয়। প্রচলিত আইনে ব্যক্তি পর্যায়ে জ্বালানি তেল আমদানি বা বাজারজাতের সুযোগ নেই। অথচ আইন ভেঙে সংঘবদ্ধ চক্র জ্বালানি তেল কেনাবেচা থেকে শুরু করে লোপাট ও পাচার করছে।

মেঘনা পেট্রোলিয়ামে তেল চুরি অভিযোগে ২০২২ সালের ১৭ আগষ্ট বরখাস্ত হওয়া পাম্প অপারেটর জুয়েল ও ফায়ার সেকশান এর আরমান চলতি মাসের ১৪ আগষ্ট (বুধবার) কাজে যোগদান করায় নতুন করে আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে পদত্যাগ করে দেশ থেকে পালিয়ে যায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্নীতিবাজ ও আওয়ামী সরকারের সমর্থিত ব্যক্তিরা গা ঢাকা দেন। যার ফলে অনেকেই নতুন করে এখন সুযোগ করে নিচ্ছে।

জুয়েল ও আরমান তেল চুরির সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত রয়েছে যা অনেক সিবিএ নেতা সহ মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা অবগত আছেন।

অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে জুয়েল এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন “রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে তাকে ফাঁসানো হয়েছিলো। তিনি মূলত বিএনপি সমর্থিত একজন কর্মী। বিভিন্ন মিটিং মিছিলে যাওয়ায় তাকে ও ফায়ার সেকশান এর কর্মচারী আরমানকে পরিকল্পিতভাবে তেল চুরির অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় দুজনই কাজে যোগদান করেছেন।

এই বিষয়ে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের এজিএম (এম আই) আবুল মেরাজ এর সাথে কথা হলে তিনি তেল চুরির বিষয়টি জানেনা বলে জানান। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির ডিজিএম (অপারেশন) মুজিবুর রহমান চৌধুরী’কে ফোন করেও যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

জুয়েল ও আরমানের ফিরে আসার খবরে অনেকেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

সিবিএ এর কর্মরত নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানায় জুয়েল ও আরমান কোম্পানিতে ‍ঢুকেছে বাকি আরও যারা বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে বরখাস্ত আছে তাদেরকেও কর্মস্থলে যোগদান করার জন্য ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণ ও সিবিএ নেতারা অনৈতিকভাবে পায়তারা করছে। এমন যদি হয় তবে চোর সিন্ডিকেটের প্রভাবে লোকসানে পরবে মেঘনা পেট্রোলিয়াম কোম্পানী।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।