বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে কর্মরত রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর ঢাকা বিভাগে একক নিয়ন্ত্রণের পর এবার চট্টগ্রাম নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত। গত স্বৈরাচার শাসনামলে তিনি স্বৈরাচারের মতো ঢাকা বিভাগের সকল বদলী বাণিজ্য, সাধারণ স্টাফ হয়রানি থেকে শুরু করে সব কিছু নিয়ন্ত্রণে ছিল তার। এই নিয়ে আলোচনা সমালোচনার পরে সাংবাদিকরা নিউজ করার জন্য গেলে সাংবাদিককে অনৈতিক ভাবে উৎকোচ প্রদানের ভিডিও ভাইরালও হয়।
সূত্রে জানা যায়, দুদকে চলমান রয়েছে তার নামে একাধিক মামলা। সাবেক রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন, মজিবুল হক এবং জিল্লুল হাকিম এর সাথে ছিলো তার সখ্যতা। সেই সখ্যতার কারণে তিনি দেদারসে করছেন নিয়োগ বাণিজ্য, প্রমোশন বাণিজ্য, সেই সাথে ছিলো বদলী বাণিজ্য।
গত ২-৩ মাস আগে চট্টগ্রাম বিভাগে দায়িত্ব নেওয়ার পর আবারো শুরু করেছে আগের মত স্বৈরাচারী আচরণ। চট্টগ্রাম বিভাগের সকল আরএনবি ইউনিট সমুহে আকস্মিক পরিদর্শনের নামে করছেন সাধারণ স্টাফ হয়রানি।
জানা যায়, একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিয়ম অনুযায়ী মাসে সর্বোচ্চ একবার পরিদর্শন করতে পারেন, যা আগেও অনেকে দেখেছেন রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীতে। কিন্তু তিনি দায়িত্বে নেওয়ার পর থেকে সপ্তাহে ৩-৪ বার বিভিন্ন সার্কেল পরিদর্শন করে সাধারণ নিরীহ স্টাফদের হয়রানি করছেন বলে তথ্য উঠে এসেছে। তার এই নির্যাতনের হাত থেকে বাদ যাচ্ছে না সার্কেলের দায়িত্বরত কেউ।
গত বছর নভেম্বর মাসে স্টোরের দায়িত্বে থাকা রানা দাস নামের একজন সিপাহী মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। হঠাৎ তার পায়ের ক্ষত স্থানে ইনফেকশন দেখা দেয়ায় তিনি ২৬শে নভেম্বর ২৪ তারিখে তার কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকে ইমার্জেন্সি ডাক্তারের কাছে যান চিকিৎসা নিতে। এজন্যও তার বিরুদ্ধে নোটিশ ইস্যু করা হয়। অথচ ওই সিপাহীকে নোটিশ প্রদানের আগে স্ট্রেচারে ভর করে কমান্ড্যান্ট শহীদুল্লাহ্ এর সাথে দেখা করে নিজের শারিরীক অবস্থার কথা তুলে ধরেন। কতটা অমানবিক হলে চলার অনুপোযোগী আহত স্টাফের বিরুদ্ধে নোটিশ ইস্যু করতে পারেন কমান্ডেন্ট শহীদ উল্লাহ এমনই সমালোচনা হচ্ছে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীতে। তবে এই বিষয়ে রানা দাস কোনো ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সাধারণ স্টাফদের ছুটির বিষয়েও শহীদ উল্লাহ এর আপত্তি রয়েছে বলেও জানা যায়। কে কখন কতদিন ছুটি পাবেন তাতেও তার নিয়ন্ত্রণ থাকে। তিনি সাধারণ স্টাফদের ছুটির অধিকার খর্ব করছেন এমন অভিযোগ করছেন কেউ কেউ।
চট্টগ্রামে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই চট্টগ্রাম বিভাগের সকল আরএনবি সদস্যগণ তার নির্যাতন হতে পরিত্রাণ চায়, অনেকের কাছে অস্বস্থির নাম এখন কমান্ড্যান্ট শহিদ উল্লাহ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমান্ড্যান্ট (পূর্ব) মোঃ শহিদ উল্লাহ জানান, রেলওয়েতে বিভিন্ন দপ্তরে চুরি ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেই চলছে, যার ফলে আরএনবি সদস্যদের দায়িত্ব পালনে যাতে অবহেলা না হয় সেই জন্য নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিদর্শন করা হচ্ছে। রেলওয়ের সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর। নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না। আর যাদের বিরুদ্ধে নোটিশ বা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তাদের দায়িত্বে অবহেলার সু-স্পষ্ট প্রমান পাওয়া গেছে।
কমান্ড্যান্ট শহীদুল্লাহ’র বিরুদ্ধে আরএনবি সদস্যদের অভিযোগের সূত্রধরে চীফ কমান্ড্যান্ট আশাবুল ইসলাম এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, ঊনার কাছে কমান্ড্যান্ট (পূর্ব) মোঃ শহিদ উল্লাহ এর বিরুদ্ধে তেমন কোনো অভিযোগ নেই। প্রতিবেদকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শহিদ উল্লাহ সাহেব ঢাকায় থাকা অবস্থায় যেসকল অনিয়ম দুর্নীতির খবর প্রচার হয়েছে তা সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন। তার (কমান্ড্যান্ট শহিদ উল্লাহ) বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে অফিসে গিয়ে কথা বলুন।

