ঢাকারবিবার, ৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অনিয়মের শীর্ষে সিজিপিওয়াই- আরএনবি, সিসি ক্যামেরা আসে না কোনো কাজে !

নিজস্ব প্রতিবেদন
মার্চ ৩, ২০২৫ ১০:৩৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

একের পর এক গার্ড ব্রেক ভ্যান থেকে ব্যাটারি চুরি হচ্ছে সিজিপিওয়াই’তে। রেল প্রশাসনের দায়িত্ব অবহেলায় বার বার চুরি হচ্ছে রেলওয়ের মূল্যবান এইসব ব্যাটারি।

গত ফেব্রুয়ারি মাসের ১৮ তারিখ সিজিপিওয়াইতে গার্ড ব্রেক ভ্যান থেকে ২টি মূল্যবান ব্যাটারি চুরির ঘটনার পর আবারো ২মার্চ সেহেরীর সময় ৪টি ব্যাটারি চুরির ঘটনা ঘটে। একাধিক সূত্রে জানা যায়, এবারের চুরি ঘটনাটি ঘটে ভোর রাতে সেহেরির পরে। দায়িত্বরত রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সেহেরির সময়কে টার্গেট করে চোরচক্র চুরি করে নেয় ওই ৪টি ব্যাটারি।

সূত্র মতে আরো জানা যায়, সিজিপিওয়াই’তে এখন পর্যন্ত যত ব্যাটারি চুরি হয়েছে তা বেশীর ভাগই মাস শেষে এবং মাসের শুরুতেই চুরি হয় আসছে। নাম প্রকাশ না করা শর্তে রেলওয়ের একাধিক স্টাফরা জানান, মুল্যবান জিনিসপত্র দেখাশুনা করার জন্য যেমন আরএনবি মোতায়েন থাকে তেমনি করে সিসিটিভি ক্যামেরাও স্থাপন করা আছে- তবুও কেনো চোর শনাক্ত করা যায় ? এই চুরির সাথে আমাদের স্টাফরাই (আরএনবি) জড়িত। যাদের সেইফ করতে সজাগ দৃষ্টি রাখে দুর্নীতিগ্রস্থ কিছু কর্মকর্তা, এই বিষয়ে যারাই প্রতিবাদ করে তাদেরকেই হেনস্থা করেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সদ্য চুরির বিষয়ে চীপ কমান্ড্যান্ট আশাবুল ইসলাম জানান, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে আমাদের কিছু স্টাফ ওই সময় ঘুমিয়েছিলো, দায়িত্ব অবহেলার দায়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চোর শনাক্ত হয় না কেন, এমন প্রশ্ন করলে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের থেকে কোন উত্তর মেলেনি এখন পর্যন্ত। সিসি টিভি ফুটেজ থাকার পরেও সিসি টিভি ফুটেজ না দেখে মুখস্থ চোর ধরিয়ে দেয়া বা পরিকল্পিত ভাবে নিরপরাধ কাউকে চোরের ট্যাগ লাগিয়ে দেয়া হয়।

গত মাসের ব্যাটারি চুরির বিষয়ে জানতে চাইলে কমান্ড্যান্ট শহীদ উল্লাহ জানান, চুরি হওয়া ব্যাটারি ২টি সিজিপিওয়াই এর পশ্চিম পাশের ঝাউবন থেকে উদ্ধার হয়েছে বলে জানান তিনি। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চোর কেন শনাক্ত হয় না, এর কোন উত্তর মেলেনি কমান্ড্যান্ট শহিদ উল্লাহ থেকেও।

বিশেষ সূত্রে জানা যায়, সিজিপিওয়াই’তে অস্থায়ী রেল কর্মী টিএলআর আব্দুল্লাহ আল মামুন, পোষ্টিং হাবিলদার জসীম উদ্দিন, ট্রাফিক স্টাফ জুয়েল সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই এই চুরি হয়ে আসছে। ব্যাটারি চুরির পর আবার এরাই ব্যাটারি কিনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে সেখানে তা সাপ্লাই দেয়। অথচ তারা ধরা ছোঁয়ার বাহিরেই থেকে যায় প্রতিবার। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে ভালো সম্পর্ক থাকায় তারা তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশীর্বাদে এখন পর্যন্ত একই কর্মস্থলে কাজ করে যাচ্ছেন দাপুটের সহিত।

দায়িত্ব অবহেলায় অভিযুক্ত হাবিলদার মো. মুছা মিয়া, সিপাহি মো. শফিকুর রহমানকে ফোন দিলে তারা জানান, আমরা এখানে নতুন মানুষ। আমরা এখনো এখানের হাওয়া বাতাস বুঝি না। কে বা কারা চুরি করেছে আমরা জানি না। আমাদের ফাঁসিয়ে দেয়া হচ্ছে।

এই ব্যাপারে পূর্বাঞ্চলের রেল জিএম মো. সুবক্তগীন জানান, আপনারা নিউজ করলে আমরা সেটা জানতে পারি। নিউজ পেলে আমরা তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়ে দেই ব্যবস্থা নিতে। অন্যায় করে কেউ ছাড় পাবে না।

সিজিপিওয়াই এর অনিয়মের শীর্ষে যারা-

১. পোষ্টিং হাবিলদার মো. জসিম উদ্দিন, ২. ট্রাফিক স্টাফ জুয়েল, ৩. নায়ক দুলাল, ৪. অস্থায়ী টিএলআর কর্মী আব্দুল্লাহ আল মামুন, ৫. ট্রাফিক স্টাফ শহিদ, ৬. ইয়ার্ড মাষ্টার আব্দুল মালেক; উল্লেখিত অভিযুক্তদের শেষ ভরসাস্থল ইনস্পেক্টর মো. আবু সুফিয়ান- তথ্যসূত্রে জানা যায় সিজিপিওয়াই’তে পোষ্টিং নিয়ে আসতে আবু সুফিয়ানকে গুনতে হয়েছে মোটা অঙ্কের অর্থ, যা অভিযুক্তদের অপকর্ম ধামাচাপা দিয়ে এখন অনেকটাই উসুল।

চলছে অনুসন্ধান পরবর্তী নিউজে চোখ রাখুন।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।