পূর্বাঞ্চলে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যর্থতার কারণে চুরি সহ বিভিন্ন অপকর্ম এখন নিত্য দিনের খবর। ধারাবাহিক ভাবে চুরি হচ্ছে সিজিপিওয়াই এলাকায়। ২ সপ্তাহের ভিতরে মোট তিনবার চুরি হয় সিজিপিওয়াই ইয়ার্ডে। প্রথম রমজানের দুইদিন পর ফের গত মঙ্গলবার ভোর রাতে সান্টিং ইঞ্জিন-২২২৬ থেকে ৩টি ব্যাটারি চুরি হয় সেখানে। এঘটনায় সান্টিং ইঞ্জিনে কর্মরত এসএলএম আফতাব উদ্দিন ও এএলএম আব্দুর রহমানকে সাসপেন্ড করা হয়। জানা যায়, তারা উভয়ে সেহরি খাওয়ার জন্য রাত ৩ টার দিকে ইয়ার্ড এলাকা ত্যাগ করার পরে সান্টিং ইঞ্জিন থেকে ৩টি ব্যাটারি চুরি হয়।
আফতাব উদ্দিন জানান, ওই সময় ইয়ার্ড এলাকার দায়িত্বে ছিলো রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর নায়েক দুলাল। দুলালের অবহেলায় ব্যাটারি চুরি হয়েছে বলেই বলছেন অনেক রেলওয়ে স্টাফরা।
নায়েক দুলাল এর কর্মজীবনে অসচ্ছতার গল্প আছে ইয়ার্ড এলাকায়। দীর্ঘদিন যাবৎ পোষ্টিং হাবিলদার জসীম উদ্দিনের কাছের মানুষ হিসাবেই বিভিন্ন অপকর্ম করে যাচ্ছে সেখানে। নায়েক দুলাল পোষ্টিং হাবিলদার জসীম উদ্দিন সরকারের হয়ে অবৈধ সকল লেনদেনের টাকাপয়সা সংগ্রহ করেন বলেও জানা যায়। জসীম দুলালের দাপট, মারমুখী আচরণ, অসভ্য আচরণ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, সাজানো বিভাগীয় শাস্তির মূখে অথবা নাটকীয় ভাবে সাসপেন্ড হওয়ার ভয়ে কেউ তাদের নামে অভিযোগ করতে চায় না।
এতসব অভিযোগের বিষয়ে জসীম আর দুলালকে ফোন দিলে, জসীম ফোন ধরেনি সেদিন। কিন্তু নায়েক দুলাল মুঠোফোনেই খুব চটে যায় দৈনিক আজকালের খবর পত্রিকার প্রতিনিধি শাকিলের সাথে। মুঠো ফোনেই নায়েক দুলাল সাংবাদিক শাকিলকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করতে থাকে। যার একটি অডিও রেকর্ড ইতি মধ্যে ভাইরাল হয়ে গেছে নেট দুনিয়ায়।
এবিষয়ে অভিযোগ দিতে সাংবাদিক শাকিল চীফ কমান্ড্যান্ট আশাবুল ইসলামকে ফোনে না পেয়ে কমান্ড্যান্ট শহীদ উল্লাহ’কে অবগত করলে তিনি ব্যাটারি চুরি হওয়ার বিষয়টি জানেন বলে জানান। সাংবাদিকের সাথে অশোভন মন্তব্যের বিষয়ে কমান্ড্যান্ট শহীদ উল্লাহ জানান, দুলাল এটা অন্যায় করেছে। তার শাস্তির বিষয়ে নিশ্চিত করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। পরের দিন ৬ মার্চ সকালেই সেই অনুযায়ী নায়েক দুলালের নামে নোটিশ ইস্যু করেন তিনি।
সেদিন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ অনুযায়ী চোর সনাক্ত করা হয়েছে কিনা তা জানতে চীফ ইয়ার্ড মাস্টার আব্দুল মালেক এর কাছে সাংবাদিক শাকিল সরাসরি গেলে তিনি বলেন, চুরির বিষয়টি সত্য। আমাদের থেকে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর পোষ্টিং হাবিলদার জসীম উদ্দিন এসে সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে গেছেন। বাকিটা উনারা ভালো বলতে পারবেন।
পুরো বিষয়টির তথ্য জানতে সিআই আবু সুফিয়ান এর দপ্তরে চোর সনাক্তের বিষয়ে জানার জন্য গেলে সেখানে দায়িত্বশীল অবস্থায় আবু সুফিয়ানকে না পেয়ে তাকে ফোন দিলে সেও ফোন ধরেননি। একাধিক বার ফোন দিলে তারা কেউই ফোন ধরেননি বলে জানান সাংবাদিক শাকিল।
সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে চোর ধরলে থলের বিড়াল বের হয়ে যাওয়ার ভয়ে, নানান নাটকীয় ভাবে প্রত্যেকবার চুরির বিষয়টি কোন না কোন ভাবে এড়িয়ে যায় সিজিপিওয়াইতে কর্মরত’রা। বিভিন্ন সোর্স মাধ্যমে জানা যায়, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ইয়ার্ডের ভিতরের স্থায়ী অস্থায়ী রেলওয়ে কর্মীরা একে অপরের সহযোগী এই সব অপকর্মে।
এইসব বিষয়ে সাংবাদিকদের একটি টিম প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে রাষ্ট্রের সম্পদ চুরি ঠেকাতে ও সেখানকার মুখোশধারী দুর্নীতিবাজদের মুখোশ খুলে দিতে।
সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে জানা যায়ঃ
ঘটনার পিছনের ঘটনায় উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সিআই আবু সুফিয়ানের দায়িত্বহীনতায় একের পর এক এমন চুরি ঘটছে বলে মন্তব্য করেন অনেকে। এত বড় বিশাল এলাকার দায়িত্ব পালন করার মত যোগ্য লোক না থাকায় আবু সুফিয়ানের মত জুনিয়র স্টাফ দ্বারা ইয়ার্ড এলাকা নিয়ন্ত্রণের কারণে সেখানে লেগে আছে একের পর এক অন্যায় অপকর্ম। এমনই মন্তব্য করেছেন রেলওয়েতে কর্মরত সিনিয়র স্টাফরা।

অপরিপক্ক সিআই আবু সুফিয়ানঃ
জনবল শূন্যতাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন লবিং মারফতে চট্টগ্রামের সব চেয়ে দায়িত্বশীল জায়গায় চেয়ার বাগিয়ে নিয়েছে সাব ইন্সপেক্টর আবু সুফিয়ান। আবু সুফিয়ান ছাড়াও আরো দায়িত্ববান সদস্য রয়েছে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীতে। জুনিয়র এবং দায়িত্ব না বুঝা লোককে দায়িত্বশীল জায়গায় দায়িত্ব দেয়াকে নিয়ে আলোচনা সমালোচনা কম নয় চট্টগ্রামে। যা নিয়ে বাহিনীর ভিতরেই অসন্তুষ্টি আর অভিযোগের শেষ নেই। এছাড়া যার মাথার উপর রাজনীতির ছায়া থাকে, তার বিরুদ্ধে কথা বললেই বলদি হওয়ার রাস্তা তৈরী হয়ে যায়। তেমন’ই এক দাপুটে সদস্য হলো আবু সুফিয়ান। যার মাথার উপরেও রাজনৈতিক ছায়ার আভাস আছে বলে ধারণা করছে অনেকে। আরএনবি’র সিনিয়র সাব-ইন্সপেক্টর মো. জাহাঙ্গীর আলমের একটি পদায়ন আবেদনে দেখা যায়, তারই ৪ জন পিছনের জুনিয়র আবু সুফিয়ান চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল সিজিপিওয়াই’তে কর্মরত আছেন। যা নিয়ে আলোচনা সমালোচনাও কম নেই চট্টগ্রামে। কিন্তু জাহাঙ্গীরকে দেয়া হয়নি কোন উপযুক্ত স্থানে পদায়ন।
নায়েক দুলাল – পোষ্টিং হাবিলদার জসীম নামাঃ
নায়েক দুলাল সিজিপিওয়াইতে প্রায় ৮ বছরের বেশী কর্মরত আছেন। সিপাহী পদে জয়েন করার পর থেকে নায়ক পদ পর্যন্ত একই জায়গায় দীর্ঘদিন বহাল তবিয়তে আছে।
দীর্ঘদিন যাবৎ সিজিপিওয়াইতে থাকার কারণে নায়েক দুলাল ওখানকার সমস্ত অবৈধ আয়ের থেকে মাসিক মাসোহারা তোলার জন্য দায়িত্ব পায়। যা কৌশলে পোষ্টিং হাবিলদার জসীম উদ্দিন সরকার তাকে দিয়ে করায়। কারণ এর আগে বেশ কয়েকবার জসীমের দূর্নীতি নিয়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ সহ ভিডিও ভাইরাল হয়।
সিজিপিওয়াই ইয়ার্ডের ভিতরে গেলে দেখা যায়, রেলের খন্ড খন্ড জায়গায় চাষবাস করে বহিরাগতরা। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, রেলের জায়গা ভাড়া খাটানোর টাকা কালেকশন করে নায়েক দুলাল। বিভিন্ন অপকর্ম চুরিদারি ভাগ-বাঁটোয়ারা নায়েক দুলালের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। রেলের জায়গায় ট্রাকের গ্যারেজ থেকেও আসে মোটা অংকের অর্থ। বিভিন্ন জায়গায় তেলচুরি, রেলের লোহা চুরি, অবৈধ ভাবে টিএ বিল নেয়া, ভগবান দিয়ে বেতনের অর্ধেক টাকা হাতিয়ে নেয়া সহ নানান অপকর্ম হয় চট্টগ্রামের রেলের সর্ববৃহৎ আয়ের জায়গা সিজিপিওয়াইতে।
মোট কথা সিজিপিওয়াইতে নায়েক দুলাল’কে সবাই আরএনবি’র ক্যাশিয়ার হিসাবেই চিনে জানে। নায়েক দুলাল থেকে জসীম উদ্দিন সরকার এরা সবাই উগ্রবাদী মানুষ। তাদের কাছে বাহিনীর লোকেরাও গালাগালি ও হেনস্তার শিকার হয় হরহামেশা। তাদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুললে উল্টো হয়রানি শিকার হয় অন্যান্য স্টাফরা। দুলাল-জসীমের এই জুটির সব অপকর্ম পিছনে স্পষ্ট মদদ পাওয়া যায় আবু সুফিয়ানের। তাদের এই সিন্ডিকেটকে নিয়ন্ত্রণ করে কমান্ড্যান্ট শহীদ উল্লাহ। যে শহীদ উল্লাহ ঢাকায় এক চেটিয়া ১৭ বছর কর্মরত ছিলেন। যার নামেও অভিযোগের শেষ নেই। চট্টগ্রাম আসতে না আসতেই আবারো সিন্ডিকেট করে বসেছে শহীদ উল্লাহ গং।
যা নিয়েও থাকবে একটি বিশদ বিস্তারিত প্রতিবেদন। তা জানতে চোখ রাখুন নিউজডে২৪ এর পর্দায়.
জসীম উদ্দিন রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে প্রভাবশালী একজন সদস্য। যার মাথার উপর ছায়া হিসাবে ছিলো চট্টগ্রামের সাবেক চীপ কমান্ড্যান্ট জহিরুল ইসলাম-এর। ২০২১ সালে পাহাড়তলী ওয়ার্কসপ এ চুরির মাল সহ স্থানীয় সাংবাদিক ও জনতার ধাওয়া খাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তাকে সিজিপিওয়াই বদলি করা হয়। সেখানেও চাকরিরত অবস্থায় বিদেশ থেকে আমদানিকৃত ৬৬ সিরিয়ালের ইঞ্জিনের মোট ৩টি ইঞ্জিনের টাকশাল মোটর এর তার খোঁয়া যাওয়ার অভিযোগে কক্সবাজারে বদলি করা হয় তাকে। সেখানেও থেমে ছিলো না তার একই অপকর্ম। একের পর এক চাঁদাবাজি অপকর্মের ফিরিস্তি বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় সংবাদ হওয়ার পর শাস্তির বদলে পুরুষ্কার হিসাবে সিজিপিওয়াইতে আবারো পোষ্টিং হাবিলদার হিসাবে পদায়ন হয় তার। ততকালীন চীফ কমান্ড্যান্ট জহিরুল ইসলামের নিকট আত্মীয় হওয়াতে তখন থেকে এখনো নানা অপকর্মে অপ্রতিরোধ্য জসীম।
সম্প্রতি সিআরএ সদস্য সাংবাদিক শাকিলের সাথে দুর্নীতিগ্রস্ত আরএনবি সদস্য দুলালের অকথ্য মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন । এই ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রেল কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সাংবাদিক সমাজ।
প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে একের পর এক তথ্য ধারাবাহিকভাবে আসছে গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে। মুখোশ খুলতে পারে বড় বড় রাঘব বোয়ালদের!

