নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া’য় অবৈধভাবে জমি দখল করে বিল্ডিং নির্মাণ সহ নানা অভিযোগ উঠেছে জাহাজমারা ইউনিয়নের সেন্টার বাজারের আওয়ামী-লীগের দোসর ও স্থানীয় ৬ নং ওয়ার্ডস্থ সাবেক বাশার মেম্বার এবং সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলীর অনুসারী ভূমিদস্যু ও মানব প্রাচারকারী আবু তাহের (প্রকাশ) বিহারি আবু’র বিরুদ্ধে।
জানা যায়-আবু তাহের (প্রকাশ) বিহারি আবু দীর্ঘদিন যাবৎ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ছত্র-ছায়ায় হুমকি-ধমকি দিয়ে সেন্টার বাজারের পূর্ব পাশে অবস্থিত নোমান গং- দের ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তি দখল করে জোরপূর্বক দুই তলা বিশিষ্ট বাড়ি নির্মাণ করে ভোগ করে আসছেন।
বর্তমানে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারি থাকলেও আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে, স্থানীয় জসিম মেম্বারের সহযেগীতায় অর্ধশত লোক জড়ো করে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের নাকের ডোগায় নোমান গং- দের সম্পত্তির চলাচলের পথ সহ ভূমির বিভিন্ন অংশে পুকুর থেকে মাটি কেটে ভরাট করে জবর দখল করার চেষ্টা করছেন আবু তাহের গং।
ভুক্তভোগী নোমান গং- দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমি দখল, মারধর, চুরি, শ্লীলতাহানি এবং ভয়-ভীতি প্রদর্শনসহ কয়েকটি অভিযোগে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত হাতিয়া, নোয়াখালী তে একটি ফৌজদারি মামলা চলমান রয়েছে। উক্ত মামালায় আসামীরা হলেন- হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের আবু তাহের আবু (৫৫) পিং মৃত গোলাম আলী, আবুল খায়ের (৫৫) পিং মৃত মোবাশ্বর আহাম্মদ, আলা উদ্দিন (৩৫) পিং আবু তাহের আবু, মোঃ নিজাম (৪৫) পিং মোশ্বর আহাম্মদ সহ আরো অজ্ঞাতনামা ৮/১০ জন।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয়রা জানান- নোমান গং- দের স্ব-পরিবার এবং আত্মীয়-স্বজনরা দীর্ঘদিন যাবৎ চট্টগ্রামে বসবাস করছেন, এই সুযোগে ভূমিদস্যু ও মানব প্রাচারকারী আবু তাহের (প্রকাশ) বিহারি আবু এবং তার সহযোগিরা এমন কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন যাবৎ পরিচালনা করে আসছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের আরেক সদস্য মোহাম্মদ আরিফ জানান, আবু তাহের এক সময় আমাদের বর্গা চাষী ছিলো, আমাদের মালিকানাধীন সম্পত্তির কিছু অংশ তার মায়ের নামে প্রতারণামূলকভাবে রেকর্ড করে দখল করা জমিতে পূর্বমুখী দ্বিতল ভবন নির্মাণ করে। আমরা আবু গং- দের দ্বিতল ভবন ও চলাচলের পথে নির্মাণকৃত দেওয়াল ভেঙ্গে উচ্ছেদের জন্য হাতিয়া দেওয়ানী আদালতে আরেকটি উচ্ছেদের মামলা চলমান রয়েছে।
স্থানীয়রা আরো জানান, আবু তাহের গং- নিরীহ মানুষকে যুদ্ধবিধ্বস্ত লিবিয়া এবং অবৈধ পথে ইতালি নেওয়ার প্রলোভন দিয়ে মানব প্রাচার করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। মানব প্রাচারের অর্থ দিয়ে গড়েছেন বিশাল সাম্রাজ্য। কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুললেই নেমে আসে নির্যাতন। এলাকার মানুষ এবং নোমান গং- রা তার এই নির্যাতনে অতিষ্ঠ এবং এর থেকে পরিত্রাণ চান।
অভিযুক্তদের সাথে সাংবাদিক পরিচয়ে কথা বললে- অভিযোগের বিষয়ে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। জমির কাগজ-পত্রের বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। এ বিষয়ে আদালতে দেখবেন বলে জানান।
এই ঘটনায় হাতিয়া জাহাজমারা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ আনিসুর রহমান জানান, আমরা ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

