ঢাকারবিবার, ১৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

টিকিট কালোবাজারির অভিযোগে রেল স্টেশনে দুদকের অভিযান, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাই হোতা

নিজস্ব প্রতিবেদন
মে ২৮, ২০২৫ ১১:৩৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দীর্ঘদিন যাবৎ ট্রেনের টিকিট সহজলভ্য করার জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ থেকে নানান উদ্যোগ নেয়া হলেও রেলওয়েতে কাজ করা কিছু অসাধু ব্যক্তিদের কারণে রেলের টিকিট সঠিক সময়ে সঠিক দামে পাওয়া যায় না। এর মধ্যে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, রেলওয়ে পুলিশ, বুকিং সহকারী, এটেন্ড্যান্ট, টিটিই, গাইড সহ ট্রেনে ডিউটি করে এমন অনেকের নামে টিকিট কালোবাজারি সহ অনিয়ম দূর্নীতির নানান অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

হুট করে আজ বুধবার ২৮ মে ছদ্মবেশে দুদুকের কর্মকর্তারা হাজির চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে। দুদুকের টিম নাম পরিচয় গোপন রেখে বেশ কিছু টিকিট কিনে নেয় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কাছ থেকে। তারা যাতে অস্বীকার যেতে না পারে সেই লক্ষ্যে টিকিট ক্রয়ের কিছু ভিডিও ফুটেজ ধারণ করে রাখে। দুদুকের অভিযান টের পেয়ে মূহুর্তেই চট্টগ্রাম রেল স্টেশন শুদ্ধ হতে শুরু করে।

দুদকের সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম আরো জানান, নিরাপত্তা বাহিনী, স্টেশন ম্যানাজার সহ স্টেশনে যারা কর্মরত আছেন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েই আমরা আজ অভিযানে এসেছি। আমরা আরো লক্ষ্য করলাম টিটিই, এটেন্ড্যান্টদের টিকিট ছাড়াই মানুষজনদের ট্রেনে উঠাচ্ছে। এতে আজ অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। আরো যারা টিকিট কালোবাজারির সাথে জড়িত আমরা তাদের বিস্তারিত নিয়ে প্রতিবেদন আকারে কমিশন বরাবর জমা দিবো।

রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর জেনারেল শাখার টিকিট নাম্বার ১৩৫৪ই আরিফুর রহমান এবং ৭৮২ই মো. রফিকুল ইসলামকে হাতেনাতে টিকিট কালোবাজারির দায়ে শনাক্ত করে দুদক টিম।

গোপন তথ্য থেকে পাওয়া-

এই অভিযানের পর খোঁজ নিয়ে জানা যায় চট্টগ্রাম স্টেশনে সিআই আমান উল্লাহ আমান এর অধীনস্থ পোষ্টিং হাবিলদার হাফিজুর রহমান, সিপাহী আরিফুর রহমান, রফিকুল ইসলাম, আলমগীর হোসেন, ওহিদ উল্লাহ, জামাল মল্লিক, জাহিদ চৌধুরী, সোহেল সরকার, মো. মামুন গংরা দীর্ঘদিন ধরে টিকিট কালোবাজারির সাথে জড়িত।

বহিরাগতের নামের তালিকায় পাওয়া যায়, মজনু আলম, আব্দুর রহিম, মো. রফিক, আনসার সদস্য স্বপন সহ অনেকে।

এ বিষয়ে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর চীফ কমান্ড্যান্ট আশাবুল ইসলাম জানান, টিকিট কালোবাজারির সাথে আমাদের যে’ই সম্পৃক্ত থাকবে তার বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিবো এবং টিকিট কালোবাজারিতে আমরা জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছি।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, সংস্থাটির সদস্যরা ছদ্মবেশে টিকিট সংগ্রহের চেষ্টা করে। এতে দেখা যায়, টিকিট পেতে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে। টিকিট বুকিং সহকারীরা স্টেশনে দায়িত্বরত রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সদস্যদের সঙ্গে যোগসাজশ করে টিকিট কালোবাজারিতে জড়িত। অভিযানে এ চক্রের কার্যকলাপের সরাসরি প্রমাণ সংগ্রহ করে দুদক টিম।

এ ছাড়াও, ঢাকাগামী মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের বগিগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। সেখানে দেখা যায়, টিকিট ছাড়াই যাত্রীদের বগিতে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। তাও অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে। এ অনিয়মে জড়িত রেলওয়ে কর্মীদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

দুদক এর সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম জানান, অভিযানে পাওয়া নানা অনিয়মের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করে কমিশনে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

দুদকের অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন ম্যানাজার মো. আবু বক্কর সিদ্দিকী বলেন, বাড়তি দামে ও কালোবাজারে টিকিট বিক্রির অভিযোগ সত্য নয়। দুদকের সদস্যরা কাউন্টারে সব তদারকি করে দেখছেন, কিছুই পাননি। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যকে বেশি দামে টিকিট জোগাড় করে দেওয়ার জন্য প্রলুব্ধ করেছেন। কিন্তু কেউ বেশি দামে টিকিট বিক্রি করেননি।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।