ঢাকামঙ্গলবার, ১০ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

“জনতাই বৈধতা “- আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৫ ৮:৫৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

একটা রাষ্ট্র গঠনের দিকে যখন যাই আমরা রিপাবলিক গড়বার কথাই ভাবি আমরা। গণতন্ত্র তখন একটা সিস্টেম ডেভলাপ করে, যার ভিতর দিয়া রাষ্ট্র ফাংশনাল থাকে। এভাবে আসে ক্ষমতার চেক এন্ড ব্যালেন্সের প্রশ্ন। একটা রাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি আদর্শিক থাকে যখন তার ক্ষমতা কাঠামোর সর্বোচ্চ চেক এন্ড ব্যালেন্স নিশ্চিত করা যায়। এই নিশ্চিত করাটা হতে হয় জনগণের রায়ের মধ্যস্থতায়। এভাবে আসে রাষ্ট্রের তিনটা বডির আলাপ। জুডিশিয়ারি, এক্সিকিউটিভ, লেজিসলেটিভ।

বাংলাদেশে এক্সিকিউটিভ ব্রাঞ্চ সাংবিধানিকভাবে যা ইচ্ছা তা করবার অনুমতি পাইলেও সবচে বেশি স্বাধীনতা চর্চা করার সুযোগ পায় জুডিশিয়ারি! রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আইনবিভাগের তেমন পাত্তা থাকে না। কারণ জরুরি অবস্থা মানেই অনেকাংশে লেজিসলেটিভ বডির অনুপস্থিতি।

এক হিসাবে দেখবেন সার্বভৌম বলে যেই জিনিস আমরা বুঝি এইদেশে তা ঠিকঠাকভাবে উপভোগ করা একমাত্র সভ্রেইন বডির নাম হলো জুডিশিয়ারি! বর্তমান ইন্টেরিম সময়ের শাসনকালকে একটু খেয়াল করলে এই জিনিস বুঝা যাবে, যে, কোনরকম জুডিশিয়াল ঝাড়ফুঁক দিয়াই রাষ্ট্র ফাংশনাল আছে।

আলাপ হলো, কে সভ্রেইন? জনগণ নাকি বিচারকমণ্ডলী? পিপল নাকি জুডিশিয়ারি?

জনগণ যদি আদৌ সার্বভৌম হতো তাহলে জুডিশিয়ারি জনগণের ইচ্ছার অধীনে থাকতো। বরং সরকার বা এক্সিকিউটিভ বডির মতো বিচারবিভাগও পিপলের উইলের মানচিত্র আঁকাআকি করতো, যে, সীমানা কতটুকু ইত্যাদি।

এই জিনিস হাসিনা বুঝেছিলো। এইজন্য শে সংসদের হাতে বিচারবিভাগের শাসনভার তুইলা দিছিলো। কারণ জুডিশিয়ারি যা খুশি তা এতো বেশি করতে পারে, যে, সেথায় জনগণের ইচ্ছার কোনধরনের প্রতিফলন ঘটানোর সুযোগ নাই। জুডিশিয়ারির যদি মনে হয় এই সরকার বাতিল, তাইলে তা বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। অন্যদিকের কোন ডিটারেন্ট নাই এর বিরুদ্ধে। যেহেতু জনগণের কাছে বাকশালের কোন আবেদন নাই, সেহেতু হাসিনার পিপলের উইল নিয়ে চিন্তা করার দরকার নাই। সেহেতু জুডিশিয়ারির সীমানা কি হওয়া উচিত তারও সংবিধান সংক্রান্ত বাহাছের দরকার নাই, ফ্যাসিবাদের এমপিদের হাতে জুডিশিয়ারি তুলে দেয়া নিরাপদ তখন। উইয়ার্ড সংবিধানের আরো বাকশালি এই কোশেশ।

আরেকটু আগাইতে পারলে শেখের বেটি হয়তো বলতো, যে, জনগণ বইলা কিছু নাই বা আওয়ামী লীগরাই জনগণ। তখন জুডিশিয়ারি রুলিং জারি করতো যে, ঘটনা সত্য, লীগাররাই পিপল বাকিরা এনিমেল বা অন্য কোন কিছু। কিচ্ছু করার নাই কারো, কারণ সেই ধরনের রায় দেবার এখতিয়ার সংবিধানে দেওয়া আছে জুডিশিয়ারিরে! এর বিরুদ্ধে যে কিছু করবেন আপনি তাও করার সুযোগ নাই। কারণ সাংবিধানিকভাবে জনগণ জুডিশিয়ারিরে কিছু করতে পারবে না, কারণ করতে গেলে আদালত তা অবমাননা হিসেবে নিতে পারবে। আর যাই করুক, লোকে তো আট আদালত অবমাননা করতে পারে না!

আসলে এজন্যই গণঅভ্যুত্থানের পরপর হাইকোর্টে মব কইরা ইন্টেরিম গভমেন্টকে সেইফ করা লাগছিলো জনগণের।

এই জায়গায় আসে আলাপ, যে, বৈধতা কে দিবে? জনতাই বৈধতা। এই আইডিয়াটা বাংলাদেশের সবাই জানে। এখন সময় হচ্ছে এই জিনিস সংবিধানে ঢুকানো বা নয়া সংবিধানে কিভাবে জনগণরে সার্বভৌম রাখা যায় সেই রূপরেখা শেয়ার করা।

আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী
তরুন সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।