চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলা শিকলবাহা ক্রসিং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহা সড়কে ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহা-সড়ক শিকলবাহা ক্রসিং মোড়ে সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে অংশ নিয়ে চাকরিচ্যুত কর্মীরা দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন এবং নিজেদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার আদায়ের পক্ষে স্লোগান দিতে থাকেন।
বিক্ষোভ চলাকালে মহাসড়কে যান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। এতে পণ্যবাহী যানবাহনসহ যাত্রীবাহী গাড়িগুলো কিছুক্ষণের জন্য আটকে যায় এবং পথচারীরাও ভোগান্তির শিকার হন। যদিও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আগেই কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত হয়।
আন্দোলনকারীরা জানান, তাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ছিল মহাসড়ক অবরোধ করে দাবি আদায়ের প্রচেষ্টা চালানো। কিন্তু হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবকে সম্মান জানিয়ে এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে তারা অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। এ বিষয়ে এক অংশগ্রহণকারী বলেন, “আমরা কোন সংঘাত চাই না। ধর্মীয় উৎসবের সময় জনগণের কষ্ট বাড়াতে চাই না। আমাদের লক্ষ্য একটাই—প্রিয় প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংকে পুনরায় ফিরতে চাই।”
চাকরিচ্যুত কর্মীরা অভিযোগ করেন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের একতরফাভাবে চাকরিচ্যুত করেছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলেও কোন কারণ ছাড়াই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন। আন্দোলনকারীরা বলেন,“আমরা বারবার আলোচনার চেষ্টা করেছি কিন্তু কর্তৃপক্ষ একগুঁয়েমি করছে। যদি এই একগুঁয়েমির কারণে কোন অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় তবে তার দায়ভার সম্পূর্ণভাবে ব্যাংকের ম্যানেজমেন্টকে নিতে হবে।” তারা দ্রুত সমস্যার সমাধানের জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচি দিয়ে আন্দোলন আরও তীব্র করার ঘোষণা দেন।
চাকরিচ্যুত কর্মীরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এ সমস্যার সমাধান না হলে তারা কঠোর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন। তাদের আন্দোলনের ধরণ হবে ধাপে ধাপে তীব্রতর। শিকলবাহা ক্রসিং থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি চট্টগ্রাম শহরসহ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
বিক্ষোভকারীরা বারবার তাদের বক্তব্যে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে মত দেন। তারা চান না কোনো সংঘাত বা সহিংসতা হোক। তাদের একমাত্র দাবি ব্যাংকের চাকরিতে পুনর্বহাল।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এই সমস্যা দীর্ঘায়িত হলে তা শুধু চাকরিচ্যুত কর্মীদের জন্য নয়, ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও গ্রাহক সেবার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান বের করা প্রয়োজন।

