প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি পার্বত্য বান্দরবান। এবারের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গোৎসবকে ঘিরে টানা চারদিনের সরকারি ছুটিতে ভ্রমণপিপাসুদের উপচে পড়া ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে পাহাড়ি কন্যা বান্দরবান।
এই বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ের প্রকৃতি যেন নতুন রূপে সেজে ওঠে। চারপাশে সবুজে মোড়ানো পাহাড় আর আঁকাবাঁকা পথে সামান্য বৃষ্টি নামলেই পাহাড়ের চূড়ায় মেঘে ভেলা দৃশ্য ধরা দেয় চোখে। আকাশ আর পাহাড় মিলেমিশে সৃষ্টি করে অপূর্ব এক প্রাকৃতিক দৃশ্যপট। বিশেষ করে প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এ সময়ের পাহাড় হয়ে ওঠে অনন্য আকর্ষণ, তাইতো তারা ছুটে আসেন এই সৌন্দর্যের টানে।
এদিকে সম্প্রতি পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে সহিংস ঘটনার কারণে পর্যটকরা সেদিক থেকে কিছুটা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। ফলে আসন্ন পূজা ছুটিতে পাহাড়প্রেমী ভ্রমণপিপাসুরা বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছেন পর্যটন নগরী বান্দরবানকে। ইতোমধ্যেই বান্দরবানের হোটেল, মোটেল ও কটেজগুলোতে সবগুলো কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে বলে নিউজডে ২৪’কে জানিয়েছেন হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীরা।
বান্দরবান শহরের আশপাশের জনপ্রিয় পর্যটন স্পটগুলোতে দেখা গেছে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়। নীলাচল, শৈলপ্রপাত, গোল্ডেন মন্দির এবং মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রে ভ্রমণপিপাসুরা দল বেঁধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। খোলা জিপে টিম আকারে কিংবা বন্ধুদের সাথে মোটরবাইকে চেপে ছুটে যাচ্ছেন গন্তব্যের পথে। পাহাড়ের চূড়ায় গোল টেবিলে বসে কেউ আড্ডায় মেতে উঠেছেন, কেউবা প্রকৃতির মনোরম বাতাসে নিজেকে হারিয়ে দিচ্ছেন। চারপাশে অনেকেই পাহাড়ি সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ধরে রাখতে দর্শনার্থীরা স্মৃতি হিসেবে ক্যামেরাবন্দি করে রাখছেন এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
বান্দরবানের মেঘলা পর্যটন স্পটে কথা হয় ঢাকা থেকে আসা ভ্রমণপিপাসু জহিরুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, সময় পেলেই আমি বান্দরবানে ছুটে আসি, কিছু সংবাদকর্মীদের সাথে। প্রকৃতির যে অপরূপ সৌন্দর্য এখানে, না এলে কেউ তা উপলব্ধি করতে পারবেন না। সত্যিই বাংলাদেশের প্রকৃতির আসল রূপ লুকিয়ে আছে এই পাহাড়ে। আমার মনে হয়, স্বল্প বাজেটে ঘুরতে চাইলে বান্দরবানই সবচেয়ে উপযুক্ত জায়গা।
আরেক পর্যটক সোহাগ আরেফিন বলেন, এখনও বর্ষার রঙে পাহাড় ভরে আছে সবুজে। ঝর্ণাগুলোও দারুণ রূপে ঝরছে। রুপালি ঝর্ণায় গিয়ে দেখছি, স্রোতের মতো পানি উপরে থেকে টুপটাপ নেমে আসছে। সেই শীতল পানিতে গা ভিজিয়ে এক অনন্য অনুভূতি পেয়েছি। কয়েকদিনের এই ছুটিতে এমন মনোরম পরিবেশে ঘুরে বেড়ানো সত্যিই অসাধারণ আনন্দ দিয়েছে।
জেলা আবাসিক হোটেল-মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দিন বলেন, চলতি বছরে গত ৬ জুন রুমার বগালেক এবং থানচির তিন্দু ও তুমাতুঙ্গি এলাকায় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। এর পর থেকে ধীরে ধীরে পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। রুমার সুউচ্চ পাহাড় কেওক্রাডং খোলার পর পহেলা অক্টোবর থেকে পর্যটক সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী।
তিনি আরও জানান, দুর্গাপূজা ছুটিতে প্রচুর পর্যটক বান্দরবানে সমাগম ঘটেছে। বর্তমানে জেলা জুড়ে হোটেল-মোটেলগুলো ১ অক্টোবর পর্যন্ত পুরোপুরি বুকিং হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন হোটেল-রেস্টুরেন্টে ১০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। তবে তিনি থানচির নাফাখুম পর্যটকদের জন্য দ্রুত উন্মুক্ত করার দাবিও জানান।
আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা বিষয়ে বান্দরবান জেলা টুরিস্ট পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী জানান, শারদীয়া দুর্গাপূজা ছুটিতে বান্দরবানে প্রচুর পর্যটকের সমাগম লক্ষ্য করা গেছে। বান্দরবানের মেঘলা, নীলাচল, প্রান্তিকলেকসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটে পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সাদা পোশাকে ডিউটিরত টিমও নিয়মিত তদারকি করছে।
তিনি বলেন, বান্দরবানে কিছু দুর্গম অঞ্চল রয়েছে, সেখানে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। আশা করছি, যারা বান্দরবানে ঘুরতে আসছেন তারা নিরাপদে ভ্রমণ উপভোগ করতে পারবেন।

