ঢাকামঙ্গলবার, ১০ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দৃষ্টিহীনদের ভোটগ্রহণে ২ ঘণ্টা বিলম্ব

Rokib
অক্টোবর ১৫, ২০২৫ ১:০৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

অন্যদের ভোট সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হলেও দৃষ্টিহীনদের ভোট শুরু হয়েছে বেলা সাড়ে ১১টার পর।

তাদের জন্য বিশেষায়িত ব্যালটের ব্যবস্থা না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। আবার কাঙ্ক্ষিত প্রার্থীর নামে ভোট পড়ছে কি না তা নিয়ে সন্দিহান অনেকেই।

রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিজয়-২৪ হল সংসদের নির্বাহী সদস্য প্রার্থী আয়শা আকতার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা প্রথম থেকে ব্রেইল ভোটের কথা বলে আসছিলাম। প্রশাসন ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত তা করেনি।”

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, “আমরা অনেক উচ্ছাস নিয়ে ভোট দিতে আসছি। কিন্তু আমরা যে আমাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারছি সেটার নিশ্চয়তা কী?”

আয়শা আকতার বলেন, “আমরা তো দেখতে পাই না। আমি বলব, আরেকজন লিখবে, সেটা আমরা বিশ্বাস করতে পারছি না।”

আয়শার সুরে সোহেল রানা বলেন, “আমরা বিশেষ পদ্ধতিতে পড়ালেখা করি। কিন্তু ভোট কাকে দিচ্ছি সেটাতো প্রকাশ পেয়ে যাচ্ছে।”

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট সমর্থিত দ্রোহ পর্ষদের সমাজসেবা ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে লড়ছেন তিনি।

দেরিতে ভোটগ্রহণ শুরু করায় বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন সোহেল রানা।

“প্রশাসন আমাদের সাথে বৈষম্য করছে। সবার সাথে আমাদের ভোট নেওয়া হচ্ছে না।”

এর আগে অন্যদের ভোট সকাল ৯টায় ভোট শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তাদের ভোটগ্রহণ শুরু হতে আধা ঘণ্টা বিলম্ব হয়।

 

ভোটের আগে শিক্ষার্থীদের যে অমোচনীয় কালি দেওয়া হচ্ছে, সেটি মুছে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রদলের এজিএস পদপ্রার্থী আইয়ুবুর রহমান তৌফিক।

মঙ্গলবার সকালে প্রকৌশল অনুষদ ভবনে ভোটদান শেষে তিনি বলেছেন, “প্রশাসন আরও ভালো কালির ব্যবস্থা করতে পারত। যেহেতু বাইরে সবাই ঘুরবে, কে ভোট দিয়েছে, কে না দিয়েছে- সেটা তো আর খাতা দেখে চিহ্নিত করা সম্ভব না।

“আমরা তাদের আঙুল দেখলে বুঝতে পারতাম। কিন্তু যেহেতু আঙুলের কালি মুছে যাচ্ছে, এটা নিয়ে একটা বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।”

 

তৌফিক বলেন, “আমি মনে করি যে প্রশাসন বা নির্বাচন কমিশন এটা নিয়ে খুব ত্বড়িৎ গতিতে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

তৌফিক বলেন, “আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে ২১৪ নম্বর রুমে সিগনেচার ছাড়া ব্যালট গিয়েছে। আমি গিয়েছিলাম সরেজমিনে সেই কক্ষে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত যারা আছেন, তাদের সাথে কথা বলেছি, তারা মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।”

তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে কথা বলবেন। আমাদের কাছে এই বিষয়টি পুরোপুরি স্পষ্ট না। আমরা চেষ্টা করছি, আর আমাদের পোলিং এজেন্টও আমার কাছে অভিযোগ করেছে। তো সেই জায়গায় আমরাও নির্বাচন কমিশনকে এই তথ্যগুলো জানাব।”

এটা কি কেবল এ কেন্দ্রের অভিযোগ? এমন প্রশ্নের উত্তরে ছাত্রদল নেতা তৌফিক বলেন, “আমি আপাতত এই জায়গায় এসে এই তথ্যটা শুনতে পেরেছি। আমি বিবিএতে যাব, সমাজবিজ্ঞানে যাব, সায়েন্স ফ্যাকাল্টিতে যাব। অন্যান্য যেই জায়গাগুলো আছে ওখানে যাব, আমাদের এজেন্টের সাথে কথা বলব। তারপর হয়ত যদি আরও কোনো অসঙ্গতি থাকে সেটা আপনাদেরকে জানাব।”

বহিরাগতদের প্রবেশ দেখেছেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তৌফিক বলেন, “গতকালকেও আমরা সংবাদ সম্মেলনে বহিরাগতদের ব্যাপারে বলেছি। আমি বলছি যে, যার বৈধ পাস নেই, সে যেই হোক, যত ক্ষমতাধর ব্যক্তি হোক বাইরে, তার বৈধ পাস না থাকলে সে যেন আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে না আসতে পারে।

“আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন, শিক্ষার্থীদের নির্বাচন। এখানে বহিরাগত আসার কোনো প্রশ্নই আসে না। আর যদি বহিরাগত আসে এটার দায় দায়িত্ব প্রশাসনকে নিতে হবে।”

সার্বিক পরিবেশ নিয়ে তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত সবাই তো আসছে ভোট দিতে। তো বেলা বাড়ার সাথে সাথে আরও সামনে গেলে আমরা বুঝতে পারব। এখন পর্যন্ত ভালো দেখছি।”

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।