ঢাকাবুধবার, ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হাসিনার রায় বিলম্বিত করার নতুন কূটকৌশল, নভেম্বরে রায় অনিশ্চিত

Rokib
নভেম্বর ১, ২০২৫ ২:১৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা ও ছেলে জয় এবং মেয়ে পুতুলসহ শেখ পরিবারের বিরুদ্ধে রাজউকের প্লট দুর্নীতির ৬ মামলার বিচারকাজ নভেম্বরে শেষ হচ্ছে না। এতদিন ধারণা করা হচ্ছিল নভেম্বরের মধ্যে মামলার বিচার নিষ্পত্তি হবে। এমনকি রায়ও হতে পারে।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর দুদক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মোমেন বলেছিলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ৬টি মামলার রায় অক্টোবরের শেষ নাগাদ বা নভেম্বরের মাঝে হবে বলে আশা করি। দুদকের প্রসিকিউশন টিমও মামলার শুনানি শেষের দিকে নিয়ে এসেছিল। আসামিদের অনুপস্থিতিতেই চলছিল মামলাগুলোর বিচার শুনানি। সাক্ষ্যগ্রহণের শেষ পর্যায়ে এসে ঘটল এক অভিনব ঘটনা। হঠাৎ করেই মামলার চার্জশিটভুক্ত পলাতক এক আসামি রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম গত ২৯ অক্টোবর (বুধবার) আত্মসমর্পণ করে বসেন।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এ মামলায় যেহেতু ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পরিবারের সবাই আসামি এবং আগামী নির্বাচনের আগে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই তাদের কূটচালের অংশ হিসাবে ঘুঁটি হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছেন রাজউকের বরখাস্ত হওয়া ওই কর্মকর্তা। তারই আত্মসমর্পণের ফলে বিচার বিলম্বিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আদালত-সংশ্লিষ্টদের দাবি, আসামিরা বিচার বিলম্বিত করার জন্য এক এক করে আত্মসমর্পণ করে সাক্ষী ‘রিকল’ করার কৌশল অবলম্বন করতে পারে। সে ক্ষেত্রে মামলার বিচার শেষ হতে কত সময় লাগবে তা বলা মুশকিল।

বুধবার দুদকের ৬ মামলার মধ্যে এক মামলার আসামি রাজউকের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম আত্মসমর্পণ করলে জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এই আসামির আত্মসমর্পণের সূত্র ধরে মামলার বিচার শুনানি ত্বরান্বিত করার বিষয়ে যে তাগিদ ছিল তা পেছানোর আশঙ্কা করছে প্রসিকিউশন বিভাগ। কারণ এতদিন শেখ হাসিনাসহ ২৩ জন আসামি পলাতক থাকায় সাক্ষীকে জেরা করা হয়নি। তবে আসামি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম আদালতে আত্মসমর্পণ করায় তার পক্ষে একজন আইনজীবী শাহীনুর রহমান বুধবার সাক্ষীদের জেরা করেন।

এ বিষয়ে দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমি যুগান্তরকে বলেন, দুদকের মামলা হলো দালিলিক সাক্ষী। এগুলো তো অন্যান্য মামলার মতো না। সে ক্ষেত্রে উনি (খুরশীদ) আত্মসমর্পণ করছেন, উনার বিষয়ে যে সাক্ষী বলেছেন, উনি শুধু তাকে জেরা করবেন। উনার সম্পর্কে শুধু আইও বলেছেন। আইও তো ওইদিন উপস্থিত ছিলেনই। অন্য সাক্ষীরাও ছিলেন। উনারা তো অনেক সাক্ষীকে ‘ডিক্লাইন’ করেছেন। আসামি আত্মসমর্পণ করে যদি সাক্ষী রিকল করে, এটা তার আইনগত অধিকার। তার আইনগত অধিকারে তো আদালত অথবা দুদকের বাধা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আর যদি বিচার বিলম্ব করতে চায়, তাহলেও বিচার চলবে। সেক্ষেত্রে একটু বিলম্ব হতে পারে। কিন্তু বিচার হবেই।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।