রাঙ্গামাটি জেলা জামায়াতে ইসলামী শুক্রবার (১৪ই নভেম্বর) দুপুরে পাঁচ দফা দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে। মিছিলটি শহরের বনরুপা জামে মসজিদ থেকে শুরু হয়ে রাঙামাটির প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙামাটি পৌরসভা চত্বরে এসে শেষ হয়। বিক্ষোভ সমাবেশে জামায়াত নেতারা বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক দাবির পক্ষে বক্তব্য রাখেন।
শুক্রবারের বিক্ষোভ মিছিলে রাঙামাটির জামায়াতে ইসলামী’র গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ এবং শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। মিছিলে নেতৃত্ব দেন রাঙামাটি জামায়াতে ইসলামী’র আমীর অধ্যাপক আব্দুল আলীম, সেক্রেটারি মনছুরুল হক, পৌর জামায়াতের আমীর মাঈন উদ্দিন, সেক্রেটারি আবুল বাশার, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সভাপতি মোঃ আব্দুস সালাম এবং জেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম।
মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পৌরসভা চত্বরে এসে এক বিক্ষোভ সমাবেশে পরিণত হয়। সমাবেশে বক্তারা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দাবির প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সমাবেশে বক্তারা তাদের পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন, যেগুলি হল:
-
জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন: বক্তারা জাতীয় সনদ প্রণয়ন এবং তার বাস্তবায়ন দ্রুত করার দাবি জানান। তারা বলেন, এটি জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
-
গণহত্যার দায়ে শেখ হাসিনার ফাঁসি: বক্তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যার দায়ে ফাঁসির দাবি জানান। তাদের মতে, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমাগত উত্তপ্ত হওয়া এবং গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের ফলে দেশবাসী দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
-
সংসদে উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু করা: নির্বাচনী পদ্ধতিতে পিআর (প্রোপোরশানাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতি চালু করার দাবি জানান বক্তারা, যাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব সঠিকভাবে নিশ্চিত করা যায়।
-
কর্মসংস্থান সংকট নিরসন: বক্তারা কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান।
-
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সরকারী উদ্যোগ: দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সরকারের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেন বক্তারা
বিক্ষোভ সমাবেশে রাঙামাটি জামায়াতে ইসলামী’র আমীর অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, “আমরা দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি চাই, কিন্তু তা কখনও সম্ভব নয় যদি শাসকগোষ্ঠী জনগণের স্বার্থে কাজ না করে। আমাদের আজকের আন্দোলন সেই গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবিতে, যাতে প্রতিটি নাগরিকের স্বাধীনতা ও অধিকার সুরক্ষিত থাকে।”
পৌর জামায়াতের আমীর মাঈন উদ্দিন বলেন, “আজকের বিক্ষোভ সমাবেশের মাধ্যমে আমরা সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করে তুলেছি। আমাদের দাবিগুলি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”
বিক্ষোভ সমাবেশটি শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়, তবে পুলিশ বাহিনী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছিল। বিক্ষোভের পর নেতাকর্মীরা ধীরে ধীরে মিছিল শেষে চলে যান। তবে জামায়াতে ইসলামী’র পক্ষ থেকে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যদি তাদের দাবির প্রতি সাড়া না পাওয়া যায়।
জামায়াতে ইসলামী তাদের আন্দোলন জোরদার করতে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে, যাতে এই পাঁচ দফা দাবি সরকারের নিকট দ্রুত বাস্তবায়িত হয়।

