ঢাকাবুধবার, ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ার সংঘর্ষ কি এবার সত্যিই থামল

নিজস্ব প্রতিবেদন
ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫ ৯:৩২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে তিন সপ্তাহ ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সীমান্ত সংঘর্ষের পর দ্বিতীয়বারের মতো তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। শনিবার ২৭ ডিসেম্বর স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা থেকে এই যুদ্ধবিরতি শুরু হয়।

দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়। বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাথফন নার্কফানিট এবং কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী চা সেইহা সীমান্তবর্তী একটি চেকপয়েন্টে টানা তিন দিনের আলোচনার পর এই চুক্তিতে সই করেন।

চুক্তি অনুযায়ী উভয় পক্ষ বর্তমানে যে অবস্থানে রয়েছে, সেখানেই অবস্থান করবে। কোনো পক্ষ নতুন করে সেনা মোতায়েন বা অগ্রসর হতে পারবে না। যুদ্ধবিরতি টানা ৭২ ঘণ্টা বজায় থাকলে থাইল্যান্ড তাদের হেফাজতে থাকা ১৮ জন কম্বোডীয় সেনাকে মুক্তি দেবে।

এ ছাড়া সীমান্ত এলাকা থেকে বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের নিরাপদে নিজ নিজ বাড়িতে ফেরার সুযোগ করে দেওয়া হবে এবং ল্যান্ডমাইন অপসারণে পারস্পরিক সহযোগিতা করা হবে। কোনো পক্ষই সামরিক উদ্দেশ্যে অপর পক্ষের আকাশসীমা ব্যবহার বা লঙ্ঘন করতে পারবে না।

গত জুলাই মাসেও দুই দেশের সীমান্তে সংঘর্ষ হয়। সে সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় সাময়িক শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়, যা কুয়ালালামপুর শান্তিচুক্তি নামে পরিচিত ছিল। ওই চুক্তিতে বিতর্কিত এলাকা থেকে ভারী অস্ত্র প্রত্যাহার এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে একটি অন্তর্বর্তী পর্যবেক্ষক দল গঠনের কথা বলা হয়েছিল। তবে ডিসেম্বরের শুরুতে সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।

থাই কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ৭ ডিসেম্বরের পর থেকে দেশটির ২৬ জন সেনা এবং অন্তত ৪৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে কম্বোডিয়া জানিয়েছে, তাদের অন্তত ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, তবে সামরিক হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। সংঘর্ষের কারণে দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

সংঘাত চলাকালে থাইল্যান্ড এফ ১৬ যুদ্ধবিমান থেকে বিমান হামলা এবং ভারী কামানের গোলাবর্ষণ চালায়। পাল্টা জবাবে কম্বোডিয়া বিএম ২১ রকেট লঞ্চার ব্যবহার করে আক্রমণ করে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়ন তদারকিতে দক্ষিণ পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের একটি পর্যবেক্ষক দল কাজ করবে। থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই যুদ্ধবিরতিকে কম্বোডিয়ার সততার পরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, চুক্তি লঙ্ঘিত হলে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে থাইল্যান্ড।

দীর্ঘ এক শতাব্দী ধরে চলা সীমান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই শান্তি কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। তবে বর্তমান চুক্তিতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের পরোক্ষ কূটনৈতিক সমর্থন ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।