বাংলাদেশের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল নোমান এর মৃত্যুবার্ষিকী আজ। দেশের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির এই প্রবীণ নেতাকে স্মরণ করতে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে দোয়া মাহফিল, কোরআনখানি, স্মরণসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে দৃঢ় অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন।
চট্টগ্রামের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
আব্দুল্লাহ আল নোমান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং দলীয় বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম অঞ্চলের একটি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন। পরবর্তীতে তিনি সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী এবং পরে খাদ্য মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামেও ভূমিকা রাখেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি দলীয় কর্মীদের কাছে একজন অভিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
মৃত্যু ও শোক
২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৮০ বছর। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং দেশের রাজনীতিতে তার অবদানের কথা স্মরণ করেন।
স্মরণে নানা কর্মসূচি:
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে দোয়া মাহফিল ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে। এসব অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের রাজনীতি, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং চট্টগ্রামের উন্নয়নে তার অবদান তুলে ধরবেন।
“আব্দুল্লাহ আল নোমান ছিলেন একজন অভিজ্ঞ ও ত্যাগী রাজনীতিক। দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি আজীবন কাজ করেছেন।” — বলে অভিমত দিয়েছেন চট্টগ্রামের রাজনীতির সাথে যুক্ত বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

