আজ থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা সাতদিনের ছুটি। ঈদ উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সাত দিনের ছুটি আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে শুরু হয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ) ছিল ঈদুল ফিতরের আগে শেষ কর্মদিবস। এরপরই বিকেল থেকে সড়কে মানুষের ঢল নামে।
পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ করতে ঘরে ফেরা মানুষের চাপ বেড়েছে সড়ক ও রেলপথে। এর পাশাপাশি, যাত্রীর উপস্থিতি বেড়েছে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালেও। এসময় বাস টার্মিনাল থেকে শুরু করে রেলস্টেশন এবং লঞ্চ ঘাটগুলোতে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এখন নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ, ফেরার আনন্দ মানুষের চোখেমুখে।
যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ধরনের নজরদারির ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সকাল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে পরিবহনের চাপ বেশি লক্ষ্য করা গেলেও, এখনো পর্যন্ত যানজটের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে সকালে ৯টি ট্রেন বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে গেছে। এ পর্যন্ত কোনো সিডিউল বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেনি। যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমনের জন্য সব ধরণের প্রস্তুতি নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালেও যাত্রীর চাপ বেড়েছে। স্বাচ্ছন্দে গন্তব্যে পৌছানোর বাহন হিসেবে লঞ্চকেই বেছে নেয় বৃহত্তর বরিশালের মানুষ।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে।
এই সম্ভাব্য তারিখকে সামনে রেখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আগে থেকেই ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারণ করে রেখেছিল। তবে ঈদযাত্রা আরও নির্বিঘ্ন করতে এবং মানুষের ভোগান্তি কমাতে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে ১৮ মার্চও নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করা হয়। এর সঙ্গে ১৭ মার্চের শবে কদরের ছুটি যোগ হয়ে মোট ছুটির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে সাত দিনে।
তবে টানা ছুটির ঘোষণা থাকলেও জনস্বার্থে বেশ কিছু জরুরি সেবা এই ছুটির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহ, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাক সেবা এবং এসব সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যানবাহন ও কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়াও হাসপাতাল ও জরুরি চিকিৎসা সেবা, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মী এবং ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী যানবাহনও এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। জরুরি কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোও খোলা থাকবে।

