বাংলাদেশের মহান মুক্তিসংগ্রামের অগ্রপুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৭তম জন্মদিন আজ। তিনি ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। এ দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে অবিচল শেখ মুজিবকে বহুবার কারাবরণ করতে হয়েছে তৎকালীন পাকিস্তান রাষ্ট্রে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সূচনা করেছিল তাঁর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’
১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির মুক্তির সনদ ঐতিহাসিক ছয় দফা পেশ করেন। ১৯৬৮ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন সামরিক জান্তার নির্দেশে তাঁকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান আসামি করা হয়। ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি গণ অভ্যুত্থানের মুখে পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে শেখ মুজিবকে মুক্তি দেয়। ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে জয়লাভের পর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান (বাংলাদেশ)- কে শাসনক্ষমতা না দিলে ১৯৭১ সালের ১ মার্চ অসহযোগ আন্দোলন শুরুর মাধ্যমে শেখ মুজিব অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কতিপয় সেনাসদস্যের হাতে ধানমন্ডির বাসভবনে সপরিবারে নিহত হন তদানীন্তন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে অবদান রেখেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে সুসংগঠিত করেন, যার ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে সংঘটিত হয় মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম।
বিশেষ করে, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণকে বাঙালি জাতির মুক্তির ডাক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই ভাষণে তিনি স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুতির আহ্বান জানান, যা পরবর্তী মুক্তিযুদ্ধে জনগণকে ব্যাপকভাবে উদ্বুদ্ধ করে। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবে তাঁর অবদান এ দেশের মানুষ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।
দিবসটি উপলক্ষে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাষ্ট্রীয় ও সাংগঠনিকভাবে দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও সংগঠন পৃথক পৃথক বাণী দিতেন। তবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জেরে সেটি আর পালন হয় না।

