আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)-এর চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে সরকারের তাড়া থাকলেও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অঙ্গীকার পূরণে সরকারের তালবাহানা দুঃখজনক।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকার সাংবিধানিক নানা বিতর্ক তুলে জনরায়কে চরমভাবে অবজ্ঞা করছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এবি পেশাজীবী কাউন্সিল আয়োজিত মতবিনিময় সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘নির্বাচনের দিন আঙুলে লাগানো কালির দাগ মোছার আগেই ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-পুরোহিতের ভাতা, খাল খনন কর্মসূচিসহ নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে সরকারকে যত তৎপর দেখা যাচ্ছে, জাতির সাথে করা জুলাই অঙ্গীকার পূরণ এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের কোনো আগ্রহই দেখা যাচ্ছে না।’
এবি পেশাজীবী কাউন্সিলের সভাপতি ওবায়দুর রহমান এফসিএর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মঞ্জু আরও বলেন, জুলাই সনদ ছিল জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার, সুশাসন ও জবাবদিহির একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন তো করছেই না, বরং পরিকল্পিতভাবে দলীয়করণের পুরোনো পথেই অগ্রসর হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ইতোমধ্যে সাংবিধানিক ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। পুরোনো কায়দায় দলীয়করণের এক মহাউৎসব শুরু হয়েছে, যা জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে কেউ প্রত্যাশা করেনি। রাজনৈতিক নেতৃত্ব এই বড় অভ্যুত্থান থেকে শিক্ষা নেয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই সনদের অঙ্গীকার থেকে পিছু হটা মানে জনগণের সঙ্গে চুক্তি ভঙ্গ করা। এর দায় সরকারকে অবশ্যই নিতে হবে।
সভায় পেশাজীবী নেতারা অবিলম্বে জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। মাহবুব শামীমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. ওহাব মিনার, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান ও দক্ষিণের সদস্য সচিব বারকাজ নাসির আহমদসহ আরও অনেকে। অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও ইফতার অনুষ্ঠিত হয়।

