মেঘলা আকাশে ঝুম বৃষ্টি নামলেই অনেকের মন চায় জানালার বাইরে হাত বাড়িয়ে দিতে, কিংবা ছাদ বা উঠোনে গিয়ে প্রাণভরে ভিজতে। শৈশবের এই চেনা আনন্দ বড় বয়সে এসেও অনেককে টানে। তবে বৃষ্টিতে ভেজা বা বৃষ্টির পানিতে গোসল করা শরীরের জন্য আদতে কতটা ভালো? এটি কি কেবলই মানসিক আনন্দ দেয়, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে কোনো বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি? চলুন জেনে নেওয়া যাক বৃষ্টির পানিতে গোসল করা আসলে উপকারী নাকি ক্ষতিকর।
শখের বশে হোক কিংবা কাজের প্রয়োজনে বাইরে বেরিয়ে- বৃষ্টিতে ভেজার অভিজ্ঞতা কমবেশি সবারই আছে। বৃষ্টির ছোঁয়া শরীরে এক অনাবিল আনন্দ দেয়। অনেকে ভাবেন বৃষ্টিতে ভিজলে কেবল ঠান্ডা বা জ্বরই হয়, তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও গবেষকরা বলছেন ভিন্ন কথা।
সতর্কতার সঙ্গে বৃষ্টিতে ভিজলে শরীর ও মনের নানা উপকার হয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক বৃষ্টিতে ভেজার ১০ ইতিবাচক দিক-
১. চুলের সতেজতা ও সুরক্ষায়
বৃষ্টির পানিতে প্রাকৃতিক ক্ষার বা অ্যালকালাইন থাকে, যা চুলের জন্য চমৎকার ক্লিনজার হিসেবে কাজ করে। এটি মাথার ত্বকের ময়লা ও খুশকি দূর করতে সাহায্য করে। ফলে রুক্ষ চুল হয়ে ওঠে উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত। তবে বৃষ্টিতে ভেজার পর নিমযুক্ত বা ভালো কোনো শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নেওয়া জরুরি।
২. ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি
ঝুম বৃষ্টির সময় বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যায়, যা ত্বকের জন্য উপকারী। এই আবহাওয়ায় বাতাসে থাকা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার কার্যকারিতা কমে আসে। ফলে ত্বক আরও নরম, নমনীয় ও দীপ্তিময় হয়ে ওঠে।
৩. ভিটামিন বি-১২ এর উৎস
বৃষ্টির পানি অত্যন্ত হালকা এবং এর পিএইচ মাত্রা ভারসাম্যপূর্ণ। এই পানিতে থাকা কিছু উপকারী অণুজীব তাদের বিপাকীয় কাজের মাধ্যমে ভিটামিন বি-১২ তৈরি করে। শরীরে এই ভিটামিনের ঘাটতি থাকলে ১০-১৫ মিনিট বৃষ্টিতে ভিজতে পারেন। তবে এরপর অবশ্যই পরিষ্কার পানিতে সাবান দিয়ে গোসল করে নিতে হবে।
৪. শরীরের ক্ষতিকর টক্সিন দূর করতে
বৃষ্টির বিশুদ্ধ পানি পানের মাধ্যমে শরীরের ভেতর জমে থাকা বিষাক্ত উপাদান বা টক্সিন বের হয়ে যায়। এটি হজমশক্তি বাড়াতে এবং রক্তের পিএইচ মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। ফলে গ্যাসের সমস্যা কমে এবং রোগবালাইয়ের ঝুঁকি হ্রাস পায়।
৫. উন্নত শ্বাস-প্রশ্বাস
বৃষ্টির সময় চারপাশের বাতাস ধুলাবালি মুক্ত ও সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ থাকে। এই সময়ে শ্বাস নেওয়ার মাধ্যমে ফুসফুসে তাজা বাতাস প্রবেশ করে, যা পুরো শ্বাস-প্রক্রিয়াকে উন্নত করে এবং ভেতরকার ক্লান্তি দূর করে।
৬. কানের ইনফেকশন রোধে
কানের নানাবিধ সমস্যা বা ব্যথা দূর করতে বৃষ্টির পানি দারুণ কার্যকর ভূমিকা রাখে। তবে ঠান্ডা লাগার ধাত থাকলে অতিরিক্ত সময় ভেজা ঠিক নয়। সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ মিনিট ভিজেই হালকা গরম পানি দিয়ে শরীর ধুয়ে ফেলা উচিত।
৭. মানসিক অবসাদ থেকে মুক্তি
বৃষ্টির শুরুতে মাটির যে মিষ্টি সোঁদা গন্ধ বের হয়, বৈজ্ঞানিক ভাষায় তাকে 'পেট্রিকোর' বলা হয়। মাটিতে থাকা বিশেষ ব্যাকটেরিয়ার নিঃসৃত কেমিক্যালের কারণে এই সুবাস তৈরি হয়। এই ঘ্রাণ গভীরভাবে নিলে মানসিক ক্লান্তি ও ডিপ্রেশন নিমেষেই দূর হয়ে যায়।
৮. হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা
বর্তমান সময়ে অনেকেই হরমোনজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভোগেন। গবেষকদের মতে, নিয়মিত অল্প সময় বৃষ্টির সংস্পর্শে এলে শরীরে হরমোনের সামঞ্জস্য ফিরে আসে।
৯. চর্মরোগ ও চুলকানি নিরাময়
বর্ষাকালে ত্বকে র্যাশ, ফুসকুড়ি বা চুলকানির উপদ্রব বাড়ে। বৃষ্টির পানিতে গোসল করলে ত্বকের খসখসে ভাব কমে এবং চুলকানি থেকে আরাম মেলে। এটি শরীরকে ভেতর থেকে শীতল রাখতেও সাহায্য করে।
১০. মনকে চনমনে করতে
বৃষ্টির স্পর্শে শরীরে 'এন্ডোরফিন' ও 'সেরাটোনিন' নামের ফিল-গুড হরমোন নিঃসৃত হয়। এগুলো আমাদের মনকে তাৎক্ষণিকভাবে খুশি ও চাপমুক্ত করে তোলে। তাই মানসিক প্রশান্তি পেতে মাঝেসাঝে ঝুম বৃষ্টিতে ভেজাই যায়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম। প্রধান কার্যালয়: লুসাই ভবন, ৩০৭নং (তয় তলা), মোমিন রোড, চেরাগী পাহাড়, কোতোয়ালি, চট্টগ্রাম।মোবাইল: 01759337312, 01749336285 E-mail: dailybartatoday@gmail.com Web: www.bartatoday.com
Copyright © 2026 Newsday24. All rights reserved.