
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রায় চার কোটির মতো পরিবার রয়েছে আমরা বলেছিলাম যে আমরা যদি সরকার গঠন করতে সক্ষম হই তাহলে পর্যায়ক্রমিকভাবে সব পরিবারের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে বাজেটে অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে আমরা জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চাই, সেই বাজেটকে যারা চানাচুরের সঙ্গে তুলনা করে, সেই বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলে তারা কি কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে? তারা কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে না।’ এ সময় তিনি জনগণকে বিভ্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়, সেটি সংসদের ভেতরেই হোক কিংবা সংসদের বাইরেই হোক তাদের ব্যাপারে আপনাদেরকে সচেতন থাকতে হবে। এসব লোক যদি দেশে অশান্তি করার সুযোগ পায় তাহলে আমরা ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন করতে পারব না। আজ যেসব কর্মসূচি উদ্বোধন করা হলো তা বাস্তবায়ন আটকে যাবে। কাজেই যারা এসব কাজে বাধা দেবে তাদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি হচ্ছে জনগণের দল। যতবারই এই দেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে, যতবারই এই বাংলাদেশে মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পেরেছে, প্রত্যেকবার মানুষ ধানের শীষকে বিজয় করেছে। এই যে মৌলভীবাজারের যতগুলো বড় বড় রাস্তাঘাট স্কুল-কলেজ দেখেছেন খোঁজ করে দেখুন এগুলো সব বিএনপি মরহুম সাইফুর রহমান সাহেবের সময় কাজগুলো হয়েছিল। সাফ কথা যদি দেশের উন্নয়নকে অব্যাহত রাখতে হয়, যদি মা-বোনদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে হয়, কৃষক ভাইদের হাতে যদি কৃষক কার্ড পৌঁছে দিতে হয়, যদি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা ঠিক রাখতে হয় তাহলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে তাহলে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে পারবে না। জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কেউ নষ্ট করতে পারবে না। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কারা নষ্ট করে আমরা সেটি ভালো করে জানি। আমরা দেখেছি দেশ স্বাধীনের সময় দেশ স্বাধীনের আগে এবং পরবর্তী সময় গণতন্ত্র বিনষ্টকারী গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী সবগুলো একসঙ্গে ছিল মুখে মুখে বলত আমরা একসঙ্গে নাই কিন্তু ভেতরে ভেতরে এরা সবসময় একসঙ্গে কাজ করেছে এবং সব সময় প্রতিটি সময় বিএনপি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সবসময় জনগণের কাতারে ছিল। সেজন্যই বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের শক্তি। সেইজন্য বিএনপি সব সময় বলে থাকে বাংলাদেশ হচ্ছে আমাদের, আমার শেষ ঠিকানা।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের একটাই কাজ। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন। কাজেই আসুন এই দেশ আমাদেরকেই গড়তে হবে, দেশ আমাদের। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করে দেশের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করা হবে। যারা এই দেশ থেকে টাকা পাচার করেছে, যারা জনগণের অর্থ টাকা বিদেশে পাঠাতে চায়, আমরা আজ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করব। আমরা যদি সবাই চোখ-কান খোলা রাখি তাহলে এই দেশের মানুষের অর্থ-সম্পদ কেউ বিদেশে পাচার করতে পারবে না।’
অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরো বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ুন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী। এ সময় উপকারভোগী নারী চা শ্রমিক ওয়াজেদা বেগম ও শিউলি রানী দাস প্রান্তিক অসহায় মানুষের জন্য নেওয়া এই মহৎ উদ্যোগের প্রশংসা করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে চা শ্রমিকদের কষ্ট লাঘব করতে ২ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা, সন্তানদের জন্য বিশেষ স্কলারশিপ এবং উপস্থিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসার্থে ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম। প্রধান কার্যালয়: লুসাই ভবন, ৩০৭নং (তয় তলা), মোমিন রোড, চেরাগী পাহাড়, কোতোয়ালি, চট্টগ্রাম।মোবাইল: 01759337312, 01749336285 E-mail: dailybartatoday@gmail.com Web: www.bartatoday.com
Copyright © 2026 Newsday24. All rights reserved.