আগামীকাল চট্টগ্রামে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠের জনসভা কে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের ৩৪টি পয়েন্টে রোড ব্লক ও ডাইভারশন পয়েন্ট নির্ধারন করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রামের জনসভায় সাড়ে ৭ হাজার পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে বলে জানিয়েছেন মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়।
জনসভাকে ঘিরে বন্দরনগরী সেজেছে নতুন সাজে, ব্যানার-ফেস্টুন ও আলোকসজ্জায় ছেয়ে গেছে পুরো শহর। সড়ক বিভাজক থেকে শুরু করে সড়কের পাশের পুরোনো দেয়াল– সব কিছু ঘষামাজা করে পরিষ্কার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে নানা জায়গায় আঁকা হয়েছে গ্রাফিতি। এমনকি সভাস্থলের আশপাশের সড়কে পড়েছে নতুন ঢালাই।
প্রস্তুত হয়েছে জনসভার মঞ্চও। আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ১০ বছর পর চট্টগ্রাম আগমনকে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গরা মনে করছেন নগরবাসীকে নতুন দিক নির্দেশনা দিবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চট্টগ্রামকে উপহার দিবেন ৩০টি উন্নয়ন প্রকল্প। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের জনসভায় এসে ৩০টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও চারটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন তিনটি প্রকল্প, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীন ছয়টি, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীনে ১৪টি, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অধীনে দুটি, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি ও চট্টগ্রাম বন্দরের একটি প্রকল্প।
এ ছাড়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে চট্টগ্রামের মিরসরাই ও সন্দ্বীপ অংশে জেটিসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণ, আনোয়ারায় বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির আধুনিকীকরণ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন জাতিসংঘ সবুজ উদ্যান স্থাপন এবং বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনে চট্টগ্রামে বিপিসি ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রীর জনসমাবেশ চট্টগ্রামে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় সমাবেশ হবে বলে আশা নেতা-কর্মীদের। চট্টগ্রামের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। ওনাকে বরণ করবেন, ওনার বক্তব্য শুনবেন। উনি চট্টগ্রামের জন্য আরও কী কী গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, কী কী ঘোষণা দেন- এটা শোনার জন্য মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। আগামীকাল সমাবেশে দলে দলে যোগদান করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান জানাবে চট্টগ্রামবাসী।
নৌকার আদলে তৈরি হওয়া বড় মঞ্চে অন্তত ২০০ লোক বসতে পারবে। এর দুই পাশে ৮০০ বর্গফুটের আরও দুটি মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। এই দুটির একটিতে যেসব প্রকল্প উদ্বোধনের কথা, সেসবের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। অন্যটিতে ভিআইপি অতিথিরা বসবেন। মঞ্চের সামনে তিন স্তরের বাঁশের ব্যারিকেড থাকবে। যেন সেসব ভেদ করে কেউ সামনে যেতে না পারে। তা ছাড়া প্রবেশ পথের চারদিকেও ব্যারিকেড দেয়া হচ্ছে।

