ঢাকাবৃহস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

চাষের বাগান নষ্ট করে সমালোচনায় লাকসাম এসএসএই কার্য্য

admin
জুন ১৩, ২০২৩ ১০:১৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশ রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন লাকসাম জংশন। লাকসাম স্টেশনের পাশে পরিত্যাক্ত পতিতো জমিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ও বাংলাদেশ রেলওয়ের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সহযোগীতায় বাগান প্রিয় দুই ৩য় শ্রেণীর কর্মচারী খালেক ও কালাম নামের দুই ব্যক্তি প্রায় ৬শতক জায়গা জুড়ে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি ও ফলজ গাছ চাষ করেন।

তাদের সম্মেলিত এই চাষ প্রায় ৩বছর ধরে করে আসছিলেন। কাজের শেষে অবসর সময়ে এই চাষাবাদ করতে গিয়ে ৩০হাজারেরও বেশি অর্থ ব্যয় করেন দুই বাগান প্রেমী। চাষ করা শাক-সবজি ও ফল সহকর্মীদের নিয়ে ভাগাভাগি করে ভোগ করতেন।

কিন্তু হঠাৎ লাকসাম রেলওয়ে স্টেশন মাষ্টার মোঃ শাহাবুদ্দিন স্বাক্ষরিত জরুরী তার বার্তা গত ৬জুন লাকসাম এসএসএই কার্য্য লিমন মজুমদার বরাবর উল্লেখ্য করে লিখিত অনুরোধে বলেন লাকসাম স্টেশনের কেবিন থেকে ট্রেন সমূহ নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য ১নং,২নং ও ৩নং প্লাট ফরমের পাশে উত্তর ও দক্ষিণ পাশে সমুস্ত গাছ গুলো ডালপালা কর্তন করা প্রয়োজন, যাতে করে কেবিন থেকে লাকসাম ইয়ার্ডের সমস্ত পয়েন্ট, সিগন্যাল সার্বিক পরিলক্ষিত দৃশ্যমান হয়। বিষয়টি অতীব জরুরী। যার অনুলিপি সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্মকর্তাকে অবগতি করা হয়।

এই অনুরোধ কপি পাওয়ার পর ৯জুন ২৩ ইং তারিখে লাকসাম এসএসএই কার্য্য লিমন মজুমদার এএসএই কার্য্য ভারপ্রাপ্ত দেলোয়ার হোসেন দেলুকে দায়িত্ব দিয়ে পাঠালে তিনি স্টেশনের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত বিশাল আকৃতির প্রায় শতবছর পুরোনো একটি শীল করই গাছের ঝুঁকিপূর্ণ ডালপালা কর্তন না করে ৬শতক জায়গায় বাগানের ৫ফুট উচ্চতা সম্পূর্ণ ৩০টি পেপে গাছ কর্তন করেন। প্রতিটি গাছে পাকা-আধাপাকা পেপে ভরপুর ছিলো।

পাশাপাশি ৩নং প্লাট ফরমের দক্ষিন পাশে কাঠালভর্তি একটি গাছ কর্তন করেন। সেই সাথে ৬শতক জায়গায় শাক-সবজি সহ অন্যান্য গাছ পায়ে মারিয়ে বিনষ্ট করেন।

এমন কর্মকান্ডে হতবাগ হয়েছেন হেড টিএক্সআর (লাকসাম) এর মোঃ জাকির হোসেন। “তিনি বলেন রেলওয়ের কর্মরত দায়িত্বশীল পর্যায়ের লোক চাষাবাদ করা জমি কিভাবে নষ্ট করতে পারে তা আমার কাছে বোধগম্য নয়। যতটুকু জায়গা জুড়ে চাষাবাদ ছিলো তাতে স্টেশনের কোনো কাজে ব্যাঘাত ঘটত না। তবে কেনো এমন করা হলো তা উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের ক্ষতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি যারা এই কাজ সংগঠিত করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।

এই বিষয়ে চাষাবাদ করা লাকসাম টেলিকম দপ্তরে কর্মরত কালামের সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি শখের বসে অবসর সময়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের উৎসাহে এই স্থানটিতে প্রায় ৩০হাজার টাকা ব্যয় করে চাষ করে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ করে আমার অনুপস্থিতিতে এই বাগানটি কেটে নষ্ট করেন এএসএই কার্য্য লাকসাম ভারপ্রাপ্ত দেলোয়ার হোসেন। যা আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছে। আমি এই কর্মকান্ডের বিচার প্রার্থনা করে আমার উর্দ্ধতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদেরকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি।

এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তাকে কল করে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে কেউ ফোন কল রিসিভ করেন নি।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।