ঢাকাশুক্রবার, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নববর্ষের রঙে রাঙা কালাই: বর্ণাঢ্য আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন

জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ মো,আলেক উদ্দীন
এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ৬:২৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাংলা বছরের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ বাঙালির সবচেয়ে বড় সার্বজনীন উৎসব। বাংলা সনের প্রবর্তন করেন মুঘল সম্রাট আকবর, যা মূলত কৃষিকাজ ও রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে চালু করা হয়। সময়ের পরিক্রমায় এই দিনটি হয়ে উঠেছে বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক।
এই ঐতিহ্যকে ধারণ করে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপিত হয় পহেলা বৈশাখ।
দিনটির সূচনা হয় কালাই উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে এক বর্ণিল বৈশাখী শোভাযাত্রার মাধ্যমে। শোভাযাত্রাটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পরিষদ প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এতে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ—নারী, পুরুষ ও শিশু-কিশোররা লাল-সাদা পোশাকে বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠেন। রঙিন মুখোশ, ফেস্টুন এবং ঢাক-ঢোলের তালে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
শোভাযাত্রা শেষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব শামীম আরা (ইউএনও)। তিনি বলেন,
“পহেলা বৈশাখ আমাদের শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার এক অনন্য উপলক্ষ। এটি কেবল উৎসব নয়, বরং আমাদের ঐক্য, সম্প্রীতি ও নতুন করে পথচলার প্রেরণা।”
তিনি আরও বলেন, নতুন বছরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাইকে একটি উন্নত, সুন্দর ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে এগিয়ে আসতে হবে।
এরপর শুরু হয় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। “এসো হে বৈশাখ, এসো এসো” গানের সুরে মঞ্চ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। পাশাপাশি জারি, সারি, লোকসংগীতসহ বাঙালির ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।
এদিকে, পরিষদ চত্বরজুড়ে বসে পান্তা-মাছ যা মাছে ভাতে ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন এবং ছোট পরিসরের গ্রামীণ মেলা। এসব আয়োজন পহেলা বৈশাখের ঐতিহ্যকে আরও জীবন্ত করে তোলে এবং উৎসবে যোগ করে বাড়তি আনন্দ ও বৈচিত্র্য।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।