বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন

সাংবাদিককে জিম্মি করে ৭০ হাজার টাকা আদায়, গ্রেপ্তার আরো ১জন

রিপোটারের নাম
রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬

চট্টগ্রামে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি, মারধর ও ব্ল্যাকমেইলের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন ” দৈনিক পূর্বদেশে”র স্টাফ রিপোর্টার আবুল হোসাইন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সৈকত (২৪) নামে আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে সাংবাদিককে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

রোববার বিকেলে নগরের হালিশহরে নিজ বাড়ি থেকে সৈকতকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি মামলার পাঁচ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি।

হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন মন্ডল বলেন, সাংবাদিককে জিম্মি করে টাকা আদায়ের ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এজাহারভুক্ত আরও একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা আদায় :

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ অক্টোবর বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে হালিশহর থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের রমনা আবাসিক এলাকার দুই নম্বর সড়কে সংবাদ সংগ্রহের কাজে যান সাংবাদিক আবুল হোসাইন। এ সময় সৈকতসহ এজাহারনামীয় আসামিরা এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জন তাঁকে ঘিরে ধরে। মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাঁকে মারধর করা হয়। পরে পিস্তল ও ছুরির ভয় দেখিয়ে পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে জিম্মি করা হয়।

এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে তাঁর কাছ থেকে নগদ ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অভিযুক্তরা। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন আদায় করা হয়। এরপর বিভিন্ন লেনদেনের মাধ্যমে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ৫৫ হাজার ৩০০ টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়। নগদ টাকা ও বিকাশ মিলিয়ে মোট ৭০ হাজার ৩০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

জোর করে স্বীকারোক্তির ভিডিও ধারণ :

মামলার এজাহারে আরও বলা হয়েছে, টাকা নেওয়ার পরও সাংবাদিককে ছেড়ে দেওয়ার আগে সামাজিকভাবে হেয় ও ব্ল্যাকমেইল করার উদ্দেশ্যে জোরপূর্বক একটি মিথ্যা স্বীকারোক্তির ভিডিও ধারণ করা হয়। ঘটনা কাউকে জানালে কিংবা পুলিশের কাছে অভিযোগ করলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

এ ঘটনায় গত ১৫ অক্টোবর হালিশহর থানায় মামলা করেন সাংবাদিক আবুল হোসাইন।

আগে গ্রেপ্তার ২, অন্যদের খুঁজছে পুলিশ :

পুলিশ জানায়, এ মামলায় এর আগে এজাহারভুক্ত আট নম্বর আসামি মো. আরিফ হোসেন (২৬) এবং ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। সর্বশেষ গ্রেপ্তার করা হয়েছে পাঁচ নম্বর আসামি সৈকতকে।
মামলার অন্য এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন মো. সাইফুল প্রকাশ ভেড়া সাইফুল, বাইট্টা বাবুল, মিজান, অনিক, মহিত ও রবিন। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মঞ্জু বলেন, গ্রেপ্তার সৈকতকে রোববার বিকেলে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। লুট হওয়া টাকা উদ্ধারের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

সাংবাদিক আবুল হোসাইন বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁকে যেভাবে জিম্মি করে টাকা আদায় ও ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করা হয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার, লুট হওয়া টাকা উদ্ধার এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ