বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩২ পূর্বাহ্ন

ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ: সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ ৩৬ জনের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ

ডেস্ক রিপোর্ট
বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল) থেকে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে করা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আগামী ৪ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালতে তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।

এ তথ্য নিশ্চিত করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর মোকররম হোসেন জানান, বুধবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমানকে চতুর্থ দিনের মতো জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। জেরা শেষ হলে আদালত সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করেন। তদন্ত কর্মকর্তাসহ এ মামলায় মোট ৫৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ৪ নভেম্বর আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় পরীক্ষা করা হবে।

তিনি বলেন, ‘দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান গত ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে মামলার অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে আরামিট গ্রুপের প্রটোকল কর্মকর্তা ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে ভিশন ট্রেডিং নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক সাজিয়ে ইউসিবিএল থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ওই অর্থ ব্যাংক থেকে তুলে বিদেশে পাচার করে সম্পদ কেনার অভিযোগ রয়েছে জাবেদের বিরুদ্ধে।’

আরও জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ অর্থ লোপাটের কার্যক্রম চলে। এর আগে ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই দুদকের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি করা হয়। শুরুতে মামলায় আসামি ছিলেন ৩১ জন। তদন্তে আরও সাতজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় অভিযোগপত্রে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এতে মোট আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৬ জন। মামলায় মোট ৯২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। তবে মামলার দুই আসামি ইউসিবিএলের সাবেক ক্রেডিট ইনচার্জ মো. আবদুল আওয়াল ও ব্যাংকটির কর্মী কাজী মো. দিলদার আলম মারা যাওয়ায় তাঁদের বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জাবেদের স্ত্রী ও ইউসিবিএলের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমিলা জামান, সাবেক পরিচালক আসিফুজ্জামান চৌধুরী ও রোকসানা জামান চৌধুরী, ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সাবুর, সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ কাদরি, ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা এবং আরামিট গ্রুপের কর্মীরা।


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ