বিমানের এই লিজ কর্মসূচি ১৪টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
তিনটি ড্রিমলাইনার লিজের উদ্যোগ
এরই মধ্যে ছয় বছরের জন্য ‘ড্রাই লিজে’ (শুধু উড়োজাহাজ ভাড়া) তিনটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিমান। গত ১৫ জুলাই এ বিষয়ে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি উড়োজাহাজ সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সরবরাহ সম্ভব হলেও তা বিবেচনা করা হবে দরপত্র বা প্রস্তাব জমার শেষ সময় আগামী ৯ আগস্ট। ড্রাই লিজের নিয়ম অনুযায়ী, উড়োজাহাজের ক্রু, রক্ষণাবেক্ষণ ও বীমার দায়িত্ব বিমানের নিজস্ব ব্যবস্থাপনাতেই থাকবে।
আমেরিকান কম্পানি বোয়িংয়ের পাশাপাশি ভবিষ্যতে ইউরোপীয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের উড়োজাহাজও বহরে যুক্ত করার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে। সম্প্রতি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, ‘বাংলাদেশের বোয়িং ও এয়ারবাস—দুই ধরনের উড়োজাহাজই প্রয়োজন।’
বিমানের পাশাপাশি বাংলাদেশের বেসরকারি এয়ারলাইনগুলোর বহরও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বেসরকারি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ২০২৭ সাল থেকে লিজের মাধ্যমে ২১টি বোয়িং ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এ ছাড়া এয়ার অ্যাস্ট্রা ও নভোএয়ারও আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণে নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলোর আগ্রাসী সম্প্রসারণের মুখে আন্তর্জাতিক যাত্রীবাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে বিমানের এই উদ্যোগ সময়োপযোগী। ১০টি উড়োজাহাজ যুক্ত হলে নতুন বোয়িং বহর হাতে পাওয়ার আগ পর্যন্ত বিমান তার বাজার ধরে রাখতে পারবে এবং বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক রুটে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাবে।