শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:০২ অপরাহ্ন

পেঁপে বাগান ধ্বংসের প্রতিবাদে রাঙামাটিতে পিসিসিপির বিক্ষোভ, জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি

নাজিম আলী (রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি)
শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬

রাঙামাটিতে এক কৃষকের পেঁপে বাগান কেটে ধ্বংসের ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) রাঙামাটি জেলা শাখা। সংগঠনটি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে ক্ষতিপূরণ এবং পাহাড়ে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দমনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) সকালে রাঙামাটি শহরের বনরূপা সিএনজি স্টেশন চত্বরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে কাঠালতলী এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বনরূপায় গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা শাখার সভাপতি তাজুল ইসলাম তাজের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য মো. হাবীব আজম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি) রাঙামাটি জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইব্রাহিম, সহ-সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক মাহবুব আলমসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

সমাবেশে বক্তারা অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে জানান, রাঙামাটির আসামবস্তি এলাকার ব্রাহ্মণ টিলায় দীর্ঘদিন ধরে হাড়ভাঙ্গা খাটুনি দিয়ে পেঁপে বাগান গড়ে তুলেছিলেন কৃষক খলিলুর রহমান। কিন্তু জেএসএস-এর কথিত অর্থ সংগ্রাহক (কালেক্টর) শান্তি রঞ্জন চাকমা তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। খলিলুর রহমান এই অন্যায্য চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিবাগত রাতের আঁধারে জেএসএস সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ চালিয়ে বাগানের প্রায় ১,৪০০টি ফলন্ত পেঁপেগাছ কেটে মাটিতে মিশিয়ে দেয়। এক রাতেই নিঃস্ব হয়ে যান এই শ্রমজীবী কৃষক।

​এর আগে জেএসএস-এর আরেক ক্যাডার দীপেন চাকমা লংগদুতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হলে চরম বেপরোয়া হয়ে ওঠে এই শান্তি রঞ্জন চাকমা। সে বেশ কিছুদিন ধরেই ওই এলাকায় চাঁদাবাজির রাজত্ব এবং সাধারণ মানুষদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।

নিজের রক্তজল করা কষ্টের ফসল হারিয়ে কান্নাভেজা কণ্ঠে মানববন্ধনে অংশ নেন ভুক্তভোগী কৃষক খলিলুর রহমান। তিনি বলেন,পাঁচ বছরের জন্য লিজ নেওয়া জমিতে ১৮শ পেঁপেগাছ লাগিয়েছিলাম। জেএসএস সন্ত্রাসীদের ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় এক নিমিষেই তারা আমার সব স্বপ্ন শেষ করে দিল। ১৪শ গাছ কেটে আমাকে মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দিয়েছে। এখন আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে এর বিচার এবং জেএসএস সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার চাই।

সমাবেশে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, লংগদু উপজেলার ৪ নম্বর বগাচত্বর ইউনিয়নের শিবেরআগা এলাকার পরিত্যক্ত পুলিশ ক্যাম্প সংলগ্ন স্থানে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপকর্ম পরিচালনা করছে। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা।

সমাবেশ থেকে বক্তারা কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে সরকারি ক্ষতিপূরণ প্রদান, লংগদুর শিবেরআগা এলাকায় পুনরায় স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন এবং পাহাড়ে চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন।

বক্তারা বলেন, পাহাড়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলার ঘটনা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ