চট্টগ্রামের চলমান ও আসন্ন মেগা প্রকল্পে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ ও কারিগরি সহযোগিতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে প্রস্তুত চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) অথবা সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে এসব প্রকল্পে জাপানি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার আগ্রহের কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সিডিএ ভবনে চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনের সঙ্গে নিউভিশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘চট্টগ্রামকে আন্তর্জাতিক মানের সবুজ, নান্দনিক ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা বদ্ধপরিকর। জাপানের কাজের গুণগত মান, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও আধুনিক প্রযুক্তি বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। সিডিএর চলমান ও আসন্ন মেগা প্রকল্পে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) অথবা সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ও অনুকূল পরিবেশ দিতে আমরা প্রস্তুত।’
তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের উন্নয়নকে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রযুক্তি, অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগ কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় প্রকল্পগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে চায় সিডিএ।’
বৈঠকে নিউভিশনের প্রতিনিধিরা চট্টগ্রামের উন্নয়নে সিডিএর স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান। এসব পরিকল্পনার মধ্যে জাপান সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রকল্প চিহ্নিত করে সেগুলোতে জাপানি বিনিয়োগ ও কারিগরি সহযোগিতা আনার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন তাঁরা।
নিউভিশন ইনফ্রাস্ট্রাকচারের প্রতিনিধিরা জানান, জাপানের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা ও বহুজাতিক গ্রুপগুলোর সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে জাপানি কারিগরি সমন্বয় ও লজিস্টিকস সহায়তার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁদের। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন প্রকল্পে বড় পরিসরে জাপানি বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব বলে তাঁরা মনে করেন।
বৈঠকে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং চট্টগ্রামের পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই নগর পরিকল্পনায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
বৈঠকে সিডিএর সদস্য (অর্থ ও প্রশাসন) মোহাম্মদ নূরুল্লাহ নূরী, সদস্য (ইঞ্জিনিয়ারিং ও পরিকল্পনা) মো. জামিলুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, উপপ্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আবু ঈসা আনছারী, নির্বাহী প্রকৌশলী আহম্মদ মঈনুদ্দিন এবং নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামিমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।