বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে গতকালই ঢাকায় পা রেখেছেন মার্কিন কোচ থমাস ডুলি। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তার কোচ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
গতকাল বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসপিএ) এক অনুষ্ঠানে তাকে অনানুষ্ঠানিকভাবে পরিচয়ও করিয়ে দেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। এরপর কোচকে নিয়ে একটি ফুটসাল মাঠেও হাজির হন তিনি।
তবে এত আনুষ্ঠানিকতার পরও জানা গেল, ডুলির সঙ্গে এখনো চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিক কোনো চুক্তি করেনি বাফুফে!
আজ ‘এএফসি গ্রাসরুট ফুটবল ডে ও ওয়ার্ল্ড ফুটবল ডে ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আসন্ন সান মারিনোর বিপক্ষের ম্যাচটিতে ডুলিকে মূলত ‘পরীক্ষামূলক’ বা ‘অন টেস্ট’ হিসেবে দেখছে মন্ত্রণালয় ও বাফুফে।
আজ দেশব্যাপী ৫টি ভেন্যুতে গ্রাসরুট ফুটবল উৎসব পালিত হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সিটি ক্লাব মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
কোচ নিয়োগের পেছনের ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের অগ্রাধিকার ছিল কোলম্যান। কিন্তু এজেন্টের সঙ্গে একটু জটিলতার কারণে তাকে আনা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে বাফুফে সভাপতি আমাদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় পছন্দের তালিকায় থাকা কোচদের সঙ্গে কথা বলেন। ফেডারেশনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেই ডুলিকে চূড়ান্ত করা হয়েছে।’
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, কোলম্যানকে আনার ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, তবে ডুলির বিষয়ে বাফুফে মন্ত্রণালয়ের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক সহযোগিতা চায়নি। আগামী দুই বছরে বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রায় ১৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ রয়েছে, যার মধ্যে সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই ব্যস্ত সূচির কথা মাথায় রেখেই কোচের ব্যাপারে সতর্ক পা ফেলছে বাফুফে।
চুক্তি ও পরীক্ষামূলক ম্যাচ প্রসঙ্গে মো. আমিনুল হক বলেন, “ইতিমধ্যে যে কোচ এসেছেন, তার বিষয়ে বলা হয়েছে যে আমরা তাকে ‘অন টেস্ট’ রাখছি। সামনের সান ম্যারিনোর সাথে যে খেলাটি হবে, সেটি আমরা একটি টেস্ট আকারেই দেখতে চাই। ওই ম্যাচটি দেখার পর তার পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব। এরপর হয়তো বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন তার সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি করবে।”
কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বাফুফে ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কোনো সমন্বয়হীনতা বা দূরত্ব তৈরি হয়েছে কি না, এমন গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের স্পোর্টস মিনিস্ট্রির সঙ্গে বাফুফের কোনো গ্যাপ নেই। একটি মহল হয়তো এটিকে ইস্যু বানিয়ে বিভেদ তৈরি করার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় না এমন কিছু আছে, যা হচ্ছে তা আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেই হচ্ছে।’
একজন সাবেক ফুটবলার হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার জায়গা থেকে মো. আমিনুল হক বলেন, ‘আমি নিজে একজন ফুটবলার ছিলাম, তাই আমি অনেক কিছুই বুঝি। সাধারণত একজন কোচকে সময় দেওয়া উচিত। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও আগামী খেলাগুলোর বিচার-বিশ্লেষণ করেই বাফুফে এই কোচকে এনেছে। একটি ম্যাচ দেখলেই আসলে অনেক কিছু বুঝতে পারব। আপনারা একটু অপেক্ষা করেন, দেখি কী হয়।’
পাশাপাশি, বাফুফেকে আরও উন্নত বিকল্পের সন্ধানে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী জানান, বাফুফে সভাপতিকে ইতিমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন তারা খোঁজ রাখতে থাকেন, যাতে ভবিষ্যতে এর চেয়েও ভালো মানের কোনো কোচ পেলে তাকে দ্রুত সময়ের মধ্যে আনা যায়।