রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার ২নং নানিয়ারচর ইউনিয়নের রাঙ্গীপাড়া এলাকায় মানুষের যেন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় বর্ষা মৌসুমে। প্রতিবছর বর্ষার ঢলে তলিয়ে যায় এই এলাকার চলাচলের একমাত্র ভরস বাঁশের সাঁকো।
সম্প্রতি দুর্গম তৈ চাকমা এলাকার সামাজিক সংগঠন রাঙ্গীপাড়া যুব কজমা ক্লাবের উদ্যোগে তৈ চাকমা রাঙ্গীপাড়া, রেগাছড়া, হেডম্যান পাড়া, তৈ চাকমা মুখ পাড়া ও দোষর পাড়া সহ এই এলাকায় ৪টি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে৷
সরেজমিনে দেখা যায়, এই এলাকায় একটি টেকসই সাঁকো বা কোন সেতু না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হয়ে স্কুল-কলেজে যেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। একইভাবে কৃষক, চাকরিজীবী, নারী, শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ রোগীদেরও ভোগান্তির শেষ নেই।
স্থানীয় সংগঠন রাঙ্গীপাড়া যুব কজমা ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ইমন চাকমা বলেন, বছরের অধিকাংশ সময় বাঁশের তৈরি অস্থায়ী সাঁকো ওপর নির্ভর করে চলাচল করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে খালের পানি বৃদ্ধি পেলে অস্থায়ী সাঁকো তলিয়ে ও ভেঙে যায়। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। কৃষকের উৎপাদিত ফসল বাজারে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়াও রোগীদের হাসপাতালে নিতে চরম সমস্যার সৃষ্টি হয়। কয়েকবার সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে স্থায়ী ব্রিজ ও রাস্তার জন্য আবেদন জানানো হলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন কয়েক শতাধিক মানুষ। প্রতি বছর মানুষের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে আমাদের ক্লাবের পক্ষ থেকে তৈ চাকমা ছড়া বা খালের ৪টি স্থানে ৪টি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে থাকি। বাঁশের সাঁকো নির্মাণের জন্য প্রতি বছরই আর্থিক সহযোগিতা করেন ২নং নানিয়ারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাপ্পী চাকমা ও স্থানীয় বাঁশ দিয়ে সহযোগিতা করেন, স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় কর্বারি ও রাঙ্গীপাড়া যুব কজমা ক্লাবের উপদেষ্টা সমর জ্যেতি চাকমা জানান, প্রতিটি বাঁশের সাঁকো জায়গায় স্থায়ী কংক্রিটের ব্রিজ নির্মাণ করা হলে শুধু রাঙ্গীপাড়া নয়, আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। শিক্ষার মান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
রাঙ্গীপাড়া যুব কজমা ক্লাবের উদ্যেগে প্রতি বছরই ৫টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে সাঁকো নির্মাণ করা হয়। হাজারো পরিবারের সুবিধার্থে জন দুর্ভোগ কমিয়ে আনতে ঝুলন্ত সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ নেয় রাঙ্গীপাড়া যুব কজমা ক্লাবের সভাপতি।একটি খালের মোট ৪টি স্থানে এই ৪টি সাঁকো নির্মান করতে হয়৷ বাঁশের তৈরি এই সাকো এক বছর টেকে। যার ফলে প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে এই সাকো নির্মাণ করতে হয়।
তৈ চাকমা হেডম্যান পাড়ার স্থানীয় নিলময় চাকমা বলেন, কয়েক বছর ধরে ক্লাবের সদস্যবৃন্দরা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে থাকে যা হাজারো পরিবারের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। এই সাঁকো গুলো জনদুর্ভোগ অনেকটা কমিয়ে আনে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে স্থায়ী ভাবে ব্রিজ নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি।