মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০১:২৬ পূর্বাহ্ন

যমুনা সেতুর পূর্বপাড়ে ঝরলো মান্দার ৯ প্রাণ

আল আমিন নওগাঁ প্রতিনিধি
সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬

ঈদে বাড়ি ফেরার আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হলো শোকের মাতমে। বাসভাড়া বেশি হওয়ায় ট্রাকে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন তারা। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে উঠলো জীবনের শেষ যাত্রা। টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর পূর্বপাড়ে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৭ জন। তাদের মধ্যে ৯ জনই নওগাঁর মান্দা উপজেলার বাসিন্দা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা একটি রডবোঝাই ট্রাক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের যমুনা সেতুর পূর্ব পাশে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। মুহূর্তেই ট্রাকটি উল্টে গিয়ে ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। এতে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে মিলিয়ে ১৭ জন নিহত এবং অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হন।

মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতরা হলেন— রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের মোঃ সুলতানের ছেলে মোহাম্মদ তারেক, মোঃ আব্দুর রশিদের ছেলে মোঃ আব্দুল বারেক, মোঃ আব্দুর রহিমের ছেলে মোহাম্মদ বাদশা, একাব্বরের ছেলে মোঃ সোহাগ, মোঃ শহিদুলের ছেলে মোহাম্মদ রবিউল ও মোহাম্মদ সাকিমের ছেলে মোহাম্মদ সাগর। এছাড়া মুর্শিদপুর গ্রামের মৃত জাফর আলীর ছেলে মোহাম্মদ মইনুর ইসলাম এবং পাকুড়িয়া গ্রামের আব্দুর রশিদের দুই ছেলে মোহাম্মদ মাইনুল ও মোহাম্মদ গিয়াস নিহত হয়েছেন।

নিহত তারেকের বাবা সুলতান হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ওরা নোয়াখালী এলাকায় ফেরি করে পুরাতন চুল, ভাঙা মোবাইল ও ছোট খেলনা বিক্রি করতো। ঈদের ছুটিতে সবাই একসাথে বাড়ি ফিরছিল। বাসে জনপ্রতি ১৮০০ টাকা ভাড়া চাওয়ায় তারা ট্রাকে ওঠে। সামান্য কিছু টাকা বাঁচাতে গিয়ে আজ সব শেষ হয়ে গেল।”

একই ইউনিয়নের ৯ যুবকের প্রাণহানিতে পুরো ভারশোঁ ইউনিয়নসহ মান্দা উপজজেলা জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহতদের পরিবারে চলছে আহাজারি। উপার্জনক্ষম সন্তানদের হারিয়ে দিশেহারা স্বজনরা। স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসী মরদেহ নিজ নিজ গ্রামে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ