বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন

যৌতুকের মামলায় স্বামীর ৩ বছরের কারাদণ্ড, ২ লাখ টাকা জরিমানা

মো নাজিম আলী,রাঙামাটি
সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন, মারধর ও বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মো. আরমান হোছাইন নামে এক ব্যক্তিকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন রাঙামাটির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট ২০২৬) রাঙামাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। মামলাটি নারী ও শিশু মামলা নং-৬৬/২৩। এতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১(গ)/৩০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
মামলার বাদী মোসা. মিনুয়ারা আক্তার। আসামি তার স্বামী মো. আরমান হোছাইন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৪ ডিসেম্বর সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিতে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে আরমান হোছাইনের সঙ্গে মিনুয়ারা আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুইটি সন্তান রয়েছে।
বাদিনীর অভিযোগ, বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই আসামিরা যৌতুকের জন্য তাকে চাপ দিতে থাকেন। সংসার টিকিয়ে রাখার আশায় তিনি বাবার কাছ থেকে কয়েক দফায় প্রায় ৫ লাখ ৮ হাজার টাকা এনে দেন। পরে স্বামী বিদেশে যাওয়ার কথা বলে আরও দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় বাদিনীকে স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে তিনি সন্তানকে নিয়ে ২০২২ সালের ১৫ জানুয়ারি তার ভগ্নিপতির বাড়িতে আশ্রয় নেন। এরপর স্বামী-শ্বশুরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংসার করার চেষ্টা করলেও দাবিকৃত দুই লাখ টাকা না দিলে তাকে আর সংসারে নেওয়া হবে না বলে জানানো হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালের ১২ জুন সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে বাদিনী সংসার করার অনুরোধ জানালে স্বামী পুনরায় দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। বাদিনী আত্মরক্ষার জন্য চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ও সাক্ষীরা এগিয়ে এসে তাকে রক্ষা করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় বাদিনীসহ মোট পাঁচজনকে সাক্ষী করা হয়। আদালতে সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে বিচারক আসামি মো. আরমান হোছাইনকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা জরিমানা করেন।
এ বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মাকসুদা হক বলেন,যৌতুকের মতো সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আইন অনুযায়ী সাজা দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তুষ্ট এবং আমরা মনে করি, এ ধরনের রায় সমাজে যৌতুক ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে ইতিবাচক বার্তা দেবে।


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ